গৌরনদীতে পিকলু চেয়ারম্যানের অত্যাচারে দেশছাড়া একটি পরিবার

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০১৮ | আপডেট: ৯:২৫:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০১৮
গৌরনদীতে পিকলু চেয়ারম্যানের অত্যাচারে দেশছাড়া একটি পরিবার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের ভীমেরপাড় গ্রামের অনিল বাড়ৈকে (৭৫) তার পুত্রবধুর কথিত অভিযোগে মারধর করে গ্রাম আদালতের মাধ্যমে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার পরপরই চেয়ারম্যানের ভয়ে অনিল বাড়ৈ স্বপরিবারে ভারতে চলে গেছেন।

স্থানীয়রা জানান, গত চার মাস পূর্বে আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের রামানন্দের আঁক গ্রামের মনোরঞ্জন বালার কন্যা দীপা বালার সাথে সামাজিক ভাবে বিবাহ হয় ভীমেরপাড় গ্রামের অনিল বাড়ৈর পুত্র অপু বাড়ৈর। বিবাহের কয়েদিন পর কর্মের সুবাদে অপু ভারতে চলে গেলে স্ত্রী দীপা বালার সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে উজিরপুরের জনৈক সুশান্তের সাথে। এরইমধ্যে পুত্রবধুর পরকীয়ায় বাধা হয়ে দাড়ায় শশুর অনিল বাড়ৈ ও তার স্ত্রী।

স্থানীয়রা আরো জানান, পুত্রবধুর পরকীয়ার বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক কলহ শুরু হলে অনিল বাড়ৈর পুত্রবধু দীপা বালা বিষয়টি নিয়ে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর কাছে শশুর অনিল বাড়ৈর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেন। এরপর চেয়ারম্যান পিকলু বৃদ্ধ অনিল বাড়ৈ কে ডেকে নিয়ে কথিত অভিযোগের ভিত্তিতে মারধর করে প্রহসনের সালিশ বৈঠকে জোর করে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। বৃদ্ধ অনিল নিজের কর্ষ্টাজিত তিন লক্ষ আশি হাজার টাকা দিয়ে চেয়ারম্যানের হাত থেকে প্রাথমিক ভাবে মুক্তি পায়।

পরবর্তীতে বাকি টাকার জন্য অনিল বাড়ৈ কে চাপ দেয়া হলে তিনি স্বপরিবারে ভারতে চলে যায়। এঘটনায় ওই এলাকার মানুষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। এবিষয়ে জানতে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুর মুঠো ফোনে কয়েক ফোন করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মাহতাব হোসেন জানান, গ্রাম আদালতে এক লক্ষ টাকার বেশি জরিমানা করার কোন বিধান নেই।