নৌকায় ওঠার অপেক্ষায় লাঙল!

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:২১ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০১৮ | আপডেট: ৬:২১:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০১৮

খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করা পাঁচ মেয়র পদপ্রার্থীর মধ্যে মূল লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় প্রার্থীর মধ্যে। এ দুই দলের প্রার্থীর পক্ষে তাঁদের জোটও নামছে।

আর বাকি তিন প্রার্থীর মধ্যে বাম ধারার সিপিবি-বাসদ এবং ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থীর দু-একটি মতবিনিময় ও কর্মিসভা হলেও একেবারেই তৎপরতা নেই জাতীয় পার্টির প্রার্থীর।

জাতীয় পার্টির একটি সূত্র বলছে, জাপা প্রার্থীকে কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বলা হয়েছে। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে তাঁকে।

তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন আগামীকাল সোমবার। সে ক্ষেত্রে জাপার প্রার্থী থাকছে কি না, বিষয়টি ওই দিন স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেসিসি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে অনেক আগেই মেয়র পদে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর শাখার সদস্যসচিব মুশফিকুর রহমানকে (ভোটার নাম শফিকুর রহমান) প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। বছর দেড়েক আগে এক কর্মিসভার মাধ্যমে দলীয় প্রধান এইচ এম এরশাদই এই ঘোষণা দিয়েছিলেন। মুশফিকুরও প্রথমে মাঠে বেশ সক্রিয় হয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন যতই কাছে আসছে জাপা প্রার্থীর তৎপরতা ততই যেন কমে যাচ্ছে। মনোনয়নপত্র জমা দিলেও দলীয়ভাবে বা প্রার্থীর উদ্যোগে কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৪ এপ্রিল প্রতীক বরাদ্দ হবে। প্রতীক বরাদ্দ পেলেই শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। এরই মধ্যে প্রধান দুই মেয়র পদপ্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার আব্দুল খালেক এবং বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ করে নির্বাচনী মাঠ গরম করে তুলেছেন। বর্তমানে প্রতীক বরাদ্দ না হলেও যেহেতু মেয়র পদপ্রার্থীরা দলীয় প্রতীক পাবেন, তাই দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজ নিজ দলীয় নেতাদের পক্ষে ভোট চাওয়া হচ্ছে।

তা ছাড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে তাদের জোট ১৪ দলের পক্ষ থেকে সমর্থন জানানোয় জোটগতভাবে প্রচারে নামছে তারা। বিএনপির প্রার্থীও তাঁদের ২০ দলীয় জোটের নেতাদের এক জায়গায় করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সংসদের বিরোধী দল জাপা মনোনীত প্রার্থী শফিকুর রহমানের (মুশফিকুর রহমান) নির্বাচনী তৎপরতা একেবারে নেই বললেই চলে। তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক নগরীর অলিগলিতে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঘরোয়া বৈঠক, আলোচনাসভা করে চলেছেন। খালেকের পক্ষে আওয়ামী লীগের খুলনা মহানগর ও জেলা শাখা বিশেষ বর্ধিত সভা, এমনকি প্রতিনিধি সভাও করেছে। এসব সভায় কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা খালেককে বিজয়ী করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুও নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সভা করছেন। ভোটারদের সঙ্গে চলছে তাঁর শুভেচ্ছা বিনিময়।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী দলটির মহানগর সভাপতি মাওলানা মুজাম্মিল হক গণসংযোগ করে চলেছেন। আবার বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবুও থেমে নেই।

জাপা প্রার্থীর আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে মিলে যাওয়ার নির্দেশনার ব্যাপারে জানতে চাইলে শফিকুর রহমান (মুশফিক) বলেন, ‘নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দলীয় চেয়ারম্যান মনোনয়ন দিয়েছেন। আমি নির্বাচনী মাঠে আছি।’ প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পরই প্রচার শুরু করবেন বলে তিনি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা শাখার সভাপতি শফিকুল ইসলাম মধু বলেন, দলীয় চেয়ারম্যান যেহেতু মেয়র পদে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন সেহেতু প্রার্থীকেই প্রচার-প্রচারণা, সভা-সমাবেশ আয়োজন করতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে মহানগর কমিটি। তবে প্রার্থিতা সম্পর্কে কেন্দ্রীয় নির্দেশনাই চূড়ান্ত।

জাপা প্রার্থী শফিকুর রহমানকে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানানো হয়নি।’ সূত্র : কালের কণ্ঠ