পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহাউৎসব চলছে! আটক শিক্ষক ও সরকারী কর্মকর্তাসহ ১৫

প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৪১:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৮
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মহাউৎসব চলছে! আটক শিক্ষক ও সরকারী কর্মকর্তাসহ ১৫

মাদারীপুরে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার একদিন আগেই শহরের সকল ফটোকপির ম্যাশিন জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ডিসি অফিসে নেওয়া হয়েছে। তবে তার পরও পরিক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করলেন শিক্ষক ও সরকারী কর্মকর্তারা। শুক্রবার ১১টার দিকে জেলার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)’র অভিযানে আটক ১৫।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ঝামেলার কারনে বন্ধ ছিলো। মাদারীপুরে স্কুল ও কলেজ মিলে মোট ১৬টি কেন্দ্রে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা সকাল ১০টায় শুরু হয়। তবে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও সরকারী কর্মকর্তারা মিলে প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে মোটা অংকের টাকা আদায় করছে। গোপন সংবাদের ভিক্তিতে জেলা শহরের পাঠককান্দি এলাকার দুটি বাসায় তল্লাশি চালিয়ে প্রাক-প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার অভিযান চালিয়ে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ৫ শিক্ষক, ৩ সরকারী কর্মকর্তা সহ প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী চক্রের ১৫ জনকে ল্যাপটপ, ডিভাইস, প্রিন্টার, প্রশ্নপত্রসহ আটক করেছে মাদারীপুর ডিবি পুলিশ। আটককৃতরা হলেন, শিবচর উপজেলার খান কান্দি সরকারী প্রাঃ বিঃ প্রধান শিক্ষক, শশাঙ্ক বৈদ্য (৩২), কে বি সি সৈয়দ আবুল হোসেন কলেজের প্রভাষক পলাশ মন্ডল (৩৫), শেখ ফজিলাতুননেছা কলেজর প্রভাষক মনতোষ সরকার (৩২), কালকিনি উপজেলার কালিনগর উচ্চ বিঃ শিক্ষক সন্তোষ হালদার (৪০), জেলার শামচুন্নাহার উচ্চ বিঃ শিক্ষক সুরঞ্জন পান্ডে (৪২), রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মকসেদুল আলম (৩৫), বি আর ডিবি কর্মকর্তা অপূর্ব হাওলাদার (৩৫), পুবালী ব্যাংক মিয়ার হাট, স্বরুপকাঠি শাখার ক্যাশিয়ার তানভীর আহম্মেদ (৩১), ঢাকা সরকারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের আকরাম হোসেন (২৪), রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম এলাকার মৃদুল হালাদার (৩০) সদর উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের বিনয় ভক্ত (২৭), আশিষ বালা (২৯), মৃত্যুঞ্জয় বালা (২৫), অলোক বালা(২০) ও চৌহদ্দি গ্রামের অনাদী বিশ^াস (২৭),

 

মাদারীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সুমন কুমার দেব জানান, গতকাল থেকেই আমরা এই চক্রটির বিষয়ে অবগত হয়ে আমরা এদের গতিবিধি নজরদারিতে রেখেছিলাম। পরে শুক্রবার সকালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হলে তাদের সরবরাহ করা প্রশ্নপত্রের সাথে হুবাহুব মিল পাওয়া গেলে, ইনেসপেক্টার রথিন্দ্রনাথ ও এস আই আঃ রশিদসহ গোয়েন্দা পুলিশের ৮সদস্যর একটি টিম নিয়ে শহরের পাঠককান্দি এলাকার দুটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১৫ জন প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্যকে আটক করি এবং তাদের সাথে থাকা বিভিন্ন ইলেকট্রনিকট মালামলা উদ্ধার করি। আটককৃতদের আরো ব্যাপক ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা প্রশ্নফাস চক্রকে সাথে সংশ্লিষ্টদের ধরার চেষ্টা করবো এবং আটককৃতদের আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।