কলাপাড়ায় মধ্যযুগিয় কায়দায় নারীকে নির্যাতন, নির্লিপ্ত রেবেকা

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৮ | আপডেট: ১২:০২:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২০, ২০১৮
কলাপাড়ায় মধ্যযুগিয় কায়দায় নারীকে নির্যাতন, নির্লিপ্ত রেবেকা

কলাপাড়ায় লালুয়া ইউনিয়নের চারিপাড়া গ্রামে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছেন গৃহবধু রেবেকা (৩২)। শয্যাসায়ী হয়ে এপাশ-ওপাশ ঘুরে শুতে পারছেননা শরীরে অস্বাভাবিক ব্যাথার যন্ত্রনায়। সারা গায়ে লাল ছোপ ছোপ আঘাতের চিহ্ন । শিকলে বেধে রাখা হয়েছিল তার পুত্র রাসেল মিরা (১৯) ও আটবছরের কন্যাসন্তান কেয়া মনিকে। নিষ্ঠুর নির্দয় নির্যাতনকারীদের হাত থেকে দুই সন্তান স্বামীসহ নিজেকে বাঁচাতে আশ্রয় খুজে অঝরে কেঁেদ যাচ্ছেন এ অসহায় নারী ।

রেবেকা বেগম জানান, আমার স্বামী রফিক মিয়া সহজ সরল একজন মানুষ। আমি সংসারের অভাবের তারনায় ঢাকায় পোশাক কর্মির কাজ করতাম এবং আমার স্বামী সন্তান বাড়িতেই থাকতো। বিগত ৫ মাস পূর্বে আমার ছেলে রাসেলকে আমার অনুমতি ছাড়াই আলমাছ সরদারের মাছের ট্রলারে মাসিক বেতনে কাজে রাখে মাত্র ৫ হাজার টাকা বেতনে। তার মাঝে আমি বাড়িতে আসলে আমার ছেলে আমাকে অনেক বার বলে আমি আর ট্রলারে কাজে যাব না আমার ভয় লাগে। কিন্তু আলমাছ সরদারকে সে কথা জানালে সে আমাদের বাড়িতে এসে মারধর করে রাছেলকে ফের কাজে নিয়ে যায়। সর্বশেষ রাছেল বাড়িতে এসে আর যেতে না চাইলে ওকে ধরে নিয়ে তাদের বাড়িতে শিকল দিয়ে বেধে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায় এবং আমার ছোট মেয়েকেও ধরে নিয়ে আটকে রাখে। ওইসময় আমার ছেলে মেয়েকে কেন আটকে রেখেছেন জানতে চাইলে দাদন বাবদ ষোল হাজার টাকা পাবে বলে আমাকে শালিস বৈঠকে আসতে বলে।

তিনি কান্না জরিত কন্ঠে বলেন , বৈঠকে রাছেলের কাছে টাকা দাবী করে আমাকে সাদা কাগজে টিপ সই দিতে বলে। দাদন টাকা পাওয়ার মিথ্যা অভিযোগে জোরযবর কাগজে সই দিতে রাজি নাহলে ঘটনাস্থলেই আমাকে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকে একই এলাকার শামসুল হক মিয়ার পুত্র আলমাছ সরদার, বাবুল সরদার ও আয়ূব আলী সরদারের পুত্র নাসীর সরদার। একপর্যায় আমি অজ্ঞান হয়ে পরলে তারা আমার টিপ সই নিয়ে নেয়। তারা এতটাই অমানুষ যে আমাকে মারধর করতে বাধা দিলে ও ১৬ হাজার টাকার দায়ভার নিতে চাইলে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মোঃ মিজু হাওলাদারকেও তারা অপমান করে। বর্তমানে পরিবার নিয়ে আমি হুমকির মূখে আছি। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনার সত্যতা শিকার করে জানান, ছেলেকে শিকলে বেধে রাখার অভিযোগে তার মা থানায় আসলে পুলিশের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে রেবেকা বেগমকে মারধরের বিষয় আমার জানা নেই অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।