খুলনা ও গাজীপুরে নেতাকর্মীদের ঐক্যবব্ধভাবে মাঠে নামার নির্দেশ আ’লীগের

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০১৮ | আপডেট: ৩:৪৩:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০১৮
খুলনা ও গাজীপুরে নেতাকর্মীদের ঐক্যবব্ধভাবে মাঠে নামার নির্দেশ আ’লীগের

ঢাকা: খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করতে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যের উপর জোর দিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবব্ধভাবে মাঠে নামতে এরই মধ্যেই কড়া নির্দেশ ও বার্তা দেয়া হয়েছে।

 

জাতীয় নির্বাচনের আগে এই দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা। এই নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনের উপর পড়বে বলে মনে করছেন তারা।

তাছাড়া বিগত নির্বাচনে এই দুই সিটিসহ ৫টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা পরাজিত হন। সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এমনটাই জানালেন আওয়ামী লীগের ওই নীতিনিধারকরা।

 

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের মাঝামাঝিতে খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই ৫টি সিটি করপোরেশনেই আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা পরাজিত হন।

জাতীয় নির্বাচনের আগে ৫ করপোরেশনে ওই পরাজয় আওয়ামী লীগের জন্য ছিল চরম বিব্রতকর। একই সময়ে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থীদের পরাজয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও বেশ আলোচনা-সমালোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলো সরকার ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলার সুযোগ পায়।

 

আগামী ১৫ মে খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ বছরই ডিসেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন(ইসি)। এই নির্বাচনের আগে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী পরাজিত হলে জাতীয় নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।

আওয়ামী লীগের ওই নীতিনির্ধারক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত নির্বাচনে পরাজয়ের বিষয়টিকে মাথায় রেখেই এবারের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সে অনুযায়ীই নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে নির্বাচনী প্রচারে মাঠে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

হেফাজতের অপপ্রচারই এই ৫ সিটিতে পরাজয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতারা। তখন হেফাজতের লোকজন সরাসরি ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে, সরকারের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়েছে। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের ভোটের উপরেএর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এছাড়া দলীয় কোন্দলও পরাজয়ের জন্য অনেকাংশে দায়ী তারা মনে করেন তারা। তবে এবার হেফাজতের অপপ্রচারের বিভ্রান্তির আশঙ্কা এবার ততোটা বা একেবারেই নেই।

 

এছাড়া এবার বিভেদ ভুলে দলের নেতাকর্মীদেরকেও ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিলে বা কাজ না করলে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে আগে থেকেই হুঁশিয়ার করে কড়া বার্তা দেয়া হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের ওই নেতারা জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ  বলেন, সিটি করপোরেশনের এ নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। দলের নেতাকর্মীদের এরই মধ্যে মাঠে নেমে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবব্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত নির্বাচনে হেফাজতের লোকেরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছিল। আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট না দেওয়ার জন্য কোরআন শরিফ নিয়ে ভোটারদের শপথ করিয়েছিল। এবার সেই পরিস্থিতি নেই। মানুষকে এবার বিভ্রান্ত করা যাবে না। আশা করছি, আমাদের প্রার্থীরাই বিজয়ী হবেন।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। দলের নেতাকর্মী যারা আছেন সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে বলা হয়েছে। কোনো সমস্যা নেই।