প্রধান শিক্ষকের দূর্নীতি ঢাকতে ! এক ছাত্রীকে দিয়ে সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:৪৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৪৬:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৮
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উমেদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দূর্নীতি ঢাকতে সুকৌশলে
(ছদ্দ নাম মীরা নামের) এক ছাত্রীকে দিয়ে অত্র স্কুলের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৩ মার্চ  দশম শ্রেণির এক ছাত্রী (ছদ্দনাম’ মীরা)
অত্র বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে, প্রধান শিক্ষক বরাবর একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগে ছাত্রীর যৌন হয়রানীর দায়ে শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। অভিযোগে আবেদনের ভিত্তিতে ঐ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ করেন প্রধান শিক্ষক। এদিকে ছত্রীর অভিযোগের ব্যাপারটি জানেন না তার পরিবার।
সংবাদকর্মীরা এ ব্যাপারে কথা বলতে ঐ ছাত্রী (ছদ্দনাম) মীরার(১৪) বাড়িতে গেলে, মীরা যৌন হয়রানীর শিকার হয়েছে বলে, প্রতিবেশীদের উপস্থিতিতেই অকপটে বলে যায়। তবে মীরা
কথা বলার এক পর্যায়ে  বলে, এই ঘটনা অষ্টম শ্রেণিতে থাকতে হয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে আমার সাথে অভিযুক্ত ঐ শিক্ষকের সম্পর্ক ছিল। তখন আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়ি। পরিবারকে না জানিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করার কারণ জানতে চাইলে মীরা ক্ষেপে গিয়ে বলে, এখানে হেডস্যারের কোন দোষ নাই। শুধু শুধু তাকে এ ব্যাপারে টেনে আনছেন কেন?
অনুসন্ধানে অভিযোগ দেয়ার রহস্যের জট খুলতে থাকে। জানা যায়, মীরার সাথে এক স্কুল সহপাঠির দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল,  গত ৪ মার্চ রাতে অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয় ও দুই বন্ধু তাদের পাহারা দেয়। অভিযুক্ত শিক্ষক দুই স্কুল ছাত্রর কথার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন। মীরা জানতো যে, প্রধান শিক্ষক ও তার কয়েকজন সহকারী শিক্ষকের সাথে অভিযুক্ত শিক্ষকের দীর্ঘদিন ধরে মনোমানিল্য চলে আসছে। ছাত্রী সেই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রধান শিক্ষকের বরাবর একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে প্রধান শিক্ষক যেন তুরুপের তাস পেয়ে যায়। অভিযোগের ভিত্তিতে  সহকারী শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করার জন্য উঠে পরে লেগেছে প্রধান শিক্ষক রোকনুজ্জামান ও কতিপয় ব্যক্তিরা।
এ ব্যাপারে ছাত্রীর বাবা-মায়ের কাছে কর্মরত সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তারা জানান, আমার মেয়ে স্কুলে যে অভিযোগ করেছে তা আমরা কিছুই জানতাম না। এই আপনাদের কাছে শুনলাম। হেড মাষ্টার আমার মেয়ের অভিযোগ পেল আর আমাদের জানানোর প্রয়োজন মনে করলো না? তার কাছে মেয়েকে পড়তে দিছি তাই বলে আমার মানসম্মান নষ্ট করার অধিকার দেই নাই। ছাত্রীর বাবা আরো বলেন, আমি শুনিছি প্রধান শিক্ষক রোকুনউজ্জামান ও স্কুলের কয়েকজন শিক্ষকের সাথে অভিযুক্ত শিক্ষকের ঝামেলা চলছে, আমার মেয়েকে পুজি করে তাদের স্বার্থ হাচিল করতে চাইছে। তবে আমার মেয়ের যে দুর্নাম হল তার কি হবে। আমি কিভাবে সমাজে মুখ দেখাবো। আমরা মেয়েটাকে কিভাবে বিয়ে দিব। ঐ ছাত্রীর বাবা প্রধান শিক্ষক এর মোবাইলে ফোন দিয়ে জানতে চায়, কেন আমার নাবালিকা মেয়েকে তোদের স্কুলের অভ্যান্তরীন ঝামেলায় জড়াইছোছ? আমার মেয়ের সর্বনাশ করলি কেন? এছাড়া আরো অশ্লিল ভাষায় গালাগাল দেন।
অভিযুক্ত শিক্ষক এর কাছে জানতে চাইলে তিনি
বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ও মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আমি মীরাকে
 ভাল জানতাম, সে মেয়ে এত অল্প বয়সে এমন হয়ে গেছে তা ভাবতে পারিনি। আর সেই মিথ্যা অভিযোগের কারণে  প্রধান শিক্ষক আমাকে কারণ দর্শানো নোটিশ করেছে ও  চাকরী ছেড়ে দেবার জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ দিচ্ছে। ঐ শিক্ষক আরো জানায়, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সাথে প্রধান শিক্ষক আঁতাত করে, সরকারী নিষিদ্ধ কোচিং বানিজ্য তিনি একাই নিয়ন্ত্রন করেন এবং স্কুলের সকল ছাত্র/ছাত্রীদের পপি গাইড ব্যবহার করার নির্দেষ দেন, যার কারনে ঐ গাইড কোম্পানী থেকে প্রধান শিক্ষক লক্ষাধিক টাকা উৎকোস গ্রহন করেন।   এ রকম অনেক দূর্নীতি তার
আছে, তাই প্রধান শিক্ষক  আমাকে বিদ্যালয়ে যেতে দেয় না। আমার স্থলে অন্য একজনকে শিক্ষক নিয়োগ দিবে বলে শুনেছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অত্র স্কুলের এক সহকারী শিক্ষক জানান, গত ২০১৭ইং বছরের নভেম্বর মাসের জে এস সি পরিক্ষার সময় প্রধান শিক্ষক রোকনউজ্জামান এর নির্দেষে দুইজন সহকারী দিয়ে সকল বিষয়ের M C Q প্রশ্নের উত্তর পত্র সঠিক করে দিয়েছেন, যার কারনে মেধা তালিকায় ১৭তে থাকা উমেদপুর উচ্চ বিদ্যালয় এখন ৬ষ্ঠ স্থানে।
স্থানীয়রা জানান, মীরার সাথে এরকম ঘটনা হয়ে থাকে তাহলে দুই বছর পর এখন কেন অভিযোগ উঠলো। অবশ্যই এর মধ্যে রহস্য আছে। এমনো হতে পারে ঐ স্কুলে অন্যান্য শিক্ষক ষড়যন্ত্র করছে। একজন  ভাল শিক্ষক এখানে থাকতে পারবে না, তাহলে যারা প্রাইভেট ও কোচিংয়ের নামে টাকা হাতিয়ে নেয় তাদের সমস্যা হয়। আর স্কুলের সভাপতি প্রায় এক যুগ ধরে আছেন। তার কথামতো না চললেও এখানে থাকা মুশকিল। আমরা এর সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে এর সমাধান আশা করি।
প্রধান শিক্ষক মো. রোকনুজ্জামান কাছে জানতে চাইলে সে বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছু বলতে চাই না। তবে কোচিং এর ব্যাপারে অকপটে স্বীকার করে বলেন, আমাদের তেমন ইনকাম নেই, তাই ছাত্র/ছাত্রীদের থেকে টাকা উত্তলনের মাধ্যমে আমাদের চলতে হয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিশ্বজিৎ রায় বলেন, আমার কাছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। তবে যতটা জানলাম একটি নাবালিকা মেয়ে পরিবারকে না জানিয়ে অভিযোগ দিয়েছে। যদি তা হয়ে থাকে তবে আইন অনুযায়ী এই অভিযোগ গ্রহন যোগ্য নয়। তাছাড়া আমি জানতে পেরেছি ঐ স্কুলে বিভিন্ন কারণে শিক্ষকদের মধ্যে দ্বন্দ চলছে। এই ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
এব্যাপারে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রমেশ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমার কাছে এই ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ আসে নাই। যদি আসে তাহলে  ঘটনাটি বিস্তারিত যেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মৌখিকভাবে আমাকে জানিয়েছে।