ইসলামপুরে কেন্দ্রের বাহিরে খাতা পাঠিয়ে পরীক্ষা! কেন্দ্র সচিবসহ আটক-২

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৫৭:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

ইসলামপুরে কেন্দ্রের বাহিরে খাতা পাঠিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্র সচিবসহ আটক-২ ॥ ৫০হাজার টাকা জরিমানা

জামালপুরের ইসলামপুরে বেলগাছা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড বিএম কলেজ (ভোক)পরীক্ষায় কেন্দ্রে সোমবার কেন্দ্রের বাহিরে পরীক্ষা দেওয়া অতিরিক্ত তিনটি উত্তরপত্র জব্দ করে ভ্রাম্যমান আদলতে কেন্দ্র সচিবসহ দু’জনকে ৫০হাজার টাকা জরিমানা করেছে ছেড়ে দিয়েছেন।
কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেন্দ্রের বাহিরে উত্তর পত্র পাঠিয়ে পরীক্ষা নেওয়া খবর পেয়ে ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মিজানুল রহমান বেলগাছা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড বিএম কলেজ কেন্দ্রে অনুসন্ধান চালান।

সোমবার বিকালে ছিল বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এর অধীনে এইচএসসি(ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) একাদশ শ্রেণীর হিসাব বিজ্ঞান নীতি প্রয়োগ-১ বিষয়ক পরীক্ষা। পরীক্ষার্থী ছিল ৪৬ জন। পরীক্ষা শেষে বিকাল ৫টা দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উত্তরপত্র গুনে পান ৪৯টি। এতে তিনটি উত্তরপত্র বেশি হয়। এসময় উপজেলা নিবাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান অতিরিক্ত তিনটি উত্তরপত্র ও ওয়েমার জব্দ করেন। এসময় তিনি কেন্দ্র সচিব একেএম মোস্তাফা কামালের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অনুসন্ধানে অসদোপায় অবল্বম্বনের মাধ্যমে বাড়তি তিনটি উত্তরপত্রের খাতা কেন্দ্রর বাইয়ে পাঠিয়ে বহিরাগতদের দিয়ে উত্তরপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে বলে তথ্য বেরিয়ে আসে । এ সময় কেন্দ্র সচিব একেএম মোস্তাফা কামাল ও অফিস সহায়ক রেজাউল করিম বেলাল কে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

পরে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ধরনের অপরাধের দায়ে ১৯৮০ সালে ১১/খ পাবলিক পরীক্ষাসমূহ আইনে কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ একেএম মোস্তাফা কামাল কে ৪০হাজার ও অফিস সহায়ক রেজাউল করিম বেলালকে ১০হাজার টাকা জরিমানা করেন। পরে তারা জরিমানার টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পান।এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজাউল করিম ও ম্যাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গোলাম মোস্তাফা উপস্থিত ছিলেন।

ইসলামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান,আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি ওই কেন্দ্রে উত্তরপত্রের খাতা কেন্দ্রের বাইয়ে পাঠিয়ে বহিরাগতদের দিয়ে উত্তরপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হতো । সে জন্য আমরা পরীক্ষা শেষে অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে তিনটি উত্তর পত্র বেশি পাওয়া যায়। কিন্তু আমরা দুটির সেটের উত্তরপত্রের ও ওয়েমারের ঘায়ে উপরে ও পেছনের অংশে কলমের কালি দিয়ে স্টার মার্ক চিহ্ন পেয়েছি। স্টার মার্ক করা ওয়েমারের রোল নম্বর হলো ৬১৪১৫৪ ও ৬১৪১২১। পরীক্ষার শেষে ছাত্রদের না পাওয়ায় তাদেরকে বহিষ্কার করা সম্ভব হয়নি, তবে তাদের উপর পরবর্তী পরীক্ষার সময় আমাদের নজর থাকবে। এবং কেন্দ্র সচিবকে ৪০হাজার ও অফিস সহায়ক কে ১০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে তারা জরিমানার টাকা পরিশোধ করে মুক্তি পান।