চৌগাছায় স্কুলের পাশে চলছে ইটভাটা তৈরির পায়তারা,বিপাকে স্কুল ও গ্রামবাসি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:৫৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৫৪:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

চৌগাছা সংবাদদাতাঃ

যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের ঝাউতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়,  ঝাউতলা সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ও ঝাউতলা  বাজার এবং গ্রাম ও স্কুলের

১০০ ফুট কোল ঘেষে ইটভাটা নির্মানের প্রক্রিয়া চলছে। ভাটার চারপাশ দিয়ে জনবসতি ও ফসলি জমি।  এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে  ইট পোড়ানো হলে কৃষি জমি,স্কুলের ছাএ ছাএীরা ও গ্রামেরর মানুষ চরম ঝুকির মধ্য পড়বে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ বলছে, আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও ফসলি জমির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। এ ছাড়া কোনো সড়ক ও মহাসড়ক থেকে অর্ধকিলোমিটার দূরত্বে ইটভাটা স্থাপন করতে হবে। কিন্তু সরকারি আইন না মেনে প্রভাবশালি একটি মহল  পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্র ও জেলা প্রশাসন ইট পোড়ানোর লাইসেন্স না নিয়ে  কর্তৃপক্ষ আইন অমান্য করে ইট ভাটা তৈরির প্রক্রিয়া চলছে

জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের যশোরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক  বলেন, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ অমান্য করে কেউ ইটভাটা স্থাপন করতে পারবে না। আইন অমান্যকারীকে কারাদণ্ড দেওয়ার ও অর্থদণ্ড করার বিধান রয়েছে। জনবসতি, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজারের পাশে ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র  দেওয়া হবে না। তিনি বলেন,  বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব। তা ছাড়া জেলা প্রশাসক ইট পোড়ানোর লাইসেন্স প্রদান করেন। তিনি চাইলে আইন অমান্যকারী ইটভাটা স্থাপনকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

ইটভাটার চারদিকে সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন, ধনিয়া ও গমের আবাদ ধানের আবাদ ভুট্টার আবাদ রয়েছে স্থানীয় কৃষকদের। ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও ধুলাবালুতে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।
গ্রামের কৃষক রিপন,দেলদারও বিমল বলেন, ‘আমাদোর জমিটি ইটভাটার মালিক নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছে, আমরা দিচ্ছি না। জানি না ফলন ঠিকমতো পাব কি না।ভাটা মালিক এই জমিটি নিতে চাচ্ছে।

‘পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ পরিদর্শন না করে বর্তমানে কোন ভাটা স্থাপন পক্রিয়া করা যাবে না।
ঝাউতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের  প্রধান শিক্ষক আইনাল হোসেন বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পাশেই ইটভাটা সথাপন করলে  দক্ষিণা বাতাস ছাড়বে, তখন ভাটার ধুলা-ময়লা শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের শিশুরা অসুস্থ হয়ে যাবে।আমি উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেব যাতে করে ঐ প্রভাবশালী মহল ভাটা স্থাপন না করতে পারে।

চৌগাছা উপজেলা  কৃষিকর্মকর্তা বলেন, ‘ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়ার আগে কৃষি বিভাগ একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা প্রত্যয়নপত্র দিয়ে থাকেন। ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপনের সম্মতি নেয়। তার পরেও একটি বাজার দুইটি স্কুলের পাশে ভাটা করার কোন অনুমোদন নেয়। বিষয়টি আমরা জানা নেয় খতিয়ে দেখবো।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহি কর্মকর্তা  বলেন, ইটভাটার লাইসেন্স দেওয়ার আগে কৃষি বিভাগ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা প্রশাসন থেকে সরেজমিন তদন্ত করানো হয়। তার পর তাদের প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে একটি কমিটি বিচার-বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ইট পোড়ানোর লাইসেন্স দেওয়া হয়।  জনবসতি এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে ও কৃষিজমিতে ভাটার লাইসেন্স দেওয়া হবে না।এমন অভিযোগ  পাওয়া গেলে আমি খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।