আমার ছোট্ট বেলার বৈশাখের দিনগুলো

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৩:৩৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ৩:৩৬:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৪, ২০১৮

মোঃ উমর ফারুক,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আজ পহেলা বৈশাখ? ওহ! আমার মনে কোন আমেজ নেই,নেই ছোট্ট বেলার মত মেলায় যাওয়ার আনন্দ।বাবার কাছে টাকা চাওয়া সেই মুহূর্ত। হঠাৎ মনে পড়ল ছোট্ট বেলার সেই বৈশাখী মেলা যাওয়া আনন্দ।

আমার ছোট্ট বেলা বৈশাখের আমেজ ছিল ভিন্ন।ছোট্ট বেলায়  বৈশাখের এক মাস আগে থেকেই বৈশাখের আমেজ শুরু হয়ে যেত। প্রত্যেকদিন গণনা করতাম কবে বৈশাখ আসবে?কি কিনব সে নিয়ে একটি তালিকা করে ফেলতাম। বাবা- মা কাছে মেলা থেকে কিছু কেনার জন্য টাকা চাইতাম এবং আগে থেকেই কিছু টাকা সংগ্রহ করে রাখতাম বৈশাখী মেলার জন্য।

বৈশাখের দিন সকাল বেলা থেকেই আমি উগ্রীব হয়ে উঠতাম কখন যাব মেলায়? ছটফট করতাম কখন যাব, দেখব মেলা,কিনব নানা কিছু। বন্ধুরা মেলা থেকে অনেক জিনিস কিনে আনত এবং এসে আমাকে দেখাতো, প্রচন্ড রাগ হত। আম্মুর কাছে গিয়ে বলতাম কখন মেলায় নিয়ে যাবে সকল বন্ধুরাই সব খেলনা কিনে নিয়ে এসে পড়ল কবে কিনব,খেলব কখন?বাবা সকল কাজকর্ম শেষ করে সাইকেলে চড়িয়ে আমাকে মেলায় নিয়ে যেতেন।সেকি আনন্দ লাগতো,সেটা বলে বুঝাতে পারবনা। বাবা আগেই বলে দিতেন বেশী কিছু কিনে দিতে পারবনা। তাও মন খুন্ন করতামনা।

মেলায় গিয়ে বায়না ধরতাম, গাড়ী,খেলনা পিস্তল,  বাশিঁ, পুতুল, মোবাইল ও নানা ধরনের বাহারী খাবার কিনে দিতে হবে।আব্বু সাধ্যমত জিনিস কিনে দিতেন আমায়। মেলায়  আব্বু বলত যত পার খেতে পার। আমার আবদার গুলো ছিল অতি নগন্ন।কিন্তু আনন্দের কমতি ছিলনা।গ্রামের মেলা নানা ধরনের জিনিসের দোকান বসত,দোকানিরা সেসব জিনিস আমাদের কাছে ক্রয় করত। কু্মাররা মাটির তৈরি হাড়িঁ পাতিল, ষাড়ঁ, ঘোড়া, হাতি, সিংহ,বাঘ বানিয়ে মেলায় নিয়ে বিক্রি করত।  মেলাতে গিয়ে বাছাই করতাম কি কিনব?এটা না ওটা, সবই ভাল লাগত। সেসময় দেখতাম সকল অকল্যাণ দূর করার জন্য মঙ্গল শোভাযাত্রা,ও র্যালি করত যা বাঙ্গালী ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরা হত। নাগর দোলা চড়া, গান শোনা,আরও কত কি করেছি।

মেলা থেকে ফিরে আসতে মন চায়না এমন অবস্থা।গ্রামে মূলত সাতদিন পর্যন্ত মেলা আয়োজন থাকে। বৈশাখী
মেলা থেকে নানা ধরনের সামগ্রিক জিনিস কিনে বাড়িতে আসতাম।বন্ধুরা কে কি কিনল কারটা বেশী ভাল সেটি নিয়ে দেখাদেখি।

বন্ধুরা মিলে বাড়িতে খেলার আয়োজন করতাম। চোর পুলিশ, গোল্লাছুট, কানামাছি ভৌ ভৌ আরও নানা খেলা। দারুন হৈ হুল্লো করে বেড়াতাম সারাক্ষণ।মেলা থেকে নানা বাহারী খাবার, মিষ্টি, কলাই, আরও ভিন্ন ধরনের খাবার সেগুলো সবাই মিলে খেতাম।আহ্ কি আনন্দ লাগতো।সেটা বলে বুঝাতে পারবনা।

আমাদের এই বৈশাখকে মনে করি এর মাঝে মিশে আছে আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। বারবার,অতীত কে ভুলে নতুন দিনের সূচনায় মুখরিত বাঙ্গালী মন প্রাণ।
কবির ভাষায়,মুছে যাক গ্লানি,ঘুচে যাক জরা,অগ্নি স্নানে শুচি হোক ধরা, এসো হে বৈশাখ।বৈশাখ, মানে বাঙ্গালীর ইতিহাস ঐতিহ্য,বৈশাখ মানে গ্রামীন সংস্কৃতি।বৈশাখ মানে পুরাতন দিনকে ভুলে নতুন দিনটি সাধরে গ্রহণ। গানের তালে তালে বলি, বাজে রে বাজে ঢোল আর ঢাক, এলোরে এলো পহেলা বৈশাখ। বৈশাখ নামটি শুনলেই বাঙ্গালীর স্পন্দনে নতুন আশা জাগ্রত হয়, হাজার বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য মনে পড়ে। আমরাতো বাঙ্গালী তাইনা!

এমনি একটি দিন যেটি সকল বাঙ্গালীদের দুঃখ, হতাশা,হিংসা, বিবেদ ভুলে গিয়ে কোটি প্রাণ একাকার হয়ে যায়। হিংসা- বিদ্বেষ ভুলে  বাঙ্গালীরা  প্রাণের মিলন মেলায় মিলিত হয়।এটি বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব, প্রত্যেক বছর মঙ্গল শোভাযাত্রা ও নানা আয়োজনে  বৈশাখ কে বরণ করে নেয়া হয়।সারা বিশ্বের কাছে বাঙ্গালীর এই প্রাণের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরার প্রচেষ্টা।
আজকে বৈশাখের  এই দিনে আমি অনেক পড়ে সেই ছোট্ট বেলার বৈশাখের দিন গুলি। কোনদিন ভুলিতে পারবনা ছোট্ট বেলার বৈশাখী দিনগুলো।