বিএনপি মানুষকে বিদ্যুৎ দেয়নি, খাম্বা দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৫৯:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৮
বিএনপি মানুষকে বিদ্যুৎ দেয়নি, খাম্বা দিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমার কাছে এটা ভাবতে অবাক লাগে যে মানুষ সামনের দিকে এগিয়ে যায়, কিন্তু বিএনপি-জামায়াত জোটে ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ায়নি। তবে তারা দিয়েছিল, বিদ্যুৎ নাই, কিন্তু রাস্তার পাশে খাম্বা পড়েছিল।’ ‘আমরা জানতে পারলাম, তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান খাম্বার ব্যবসা শুরু করেছিল। তাই দেশে খাম্বা দিয়েছিল, বিদ্যুৎ দেয়নি।’

বৃহস্পতিবার (১২এপ্রিল) গণভবনে বসে ১২ জেলার ১৫টি উপজেলায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামাড়ায় ৪১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনের সময় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারের উদ্যোগ এবং সাফল্য বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শতভাগ বিদ্যুৎ আমরা বিভিন্ন এলাকায় দিতে পাচ্ছি, এখন উদ্বোধন করছি। আমরা চাই জনগণ এই বিদ্যুৎটা যেন জনগণ যথাযথভাবে ব্যবহার করুক।’ ‘অনুরোধ করব জনগণকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে অনেক টাকা খরচ হয়। যে টাকা খরচ হয়, আমরা কিন্তু ওই টাকা গ্রহণ করি না, এখানে ভর্তুকি দেই। কম টাকাই নেওয়া হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি মাল দরিয়া মে ঢাল, এটা করলে কিন্তু চলবে না। প্রত্যেককে এ ব্যাপারে যথাযথভাবে আন্তরিক থাকতে হবে।’ ‘ঘর থেকে বের হলে নিজ হাতে সুইটটা বন্ধ করা, স্কুল বা কলেজ বা অফিস আদালতে যারা আপনারা সরকারি কর্মচারী আছেন বা অফিসার আছেন নিজের হাতে সুইচটা বন্ধ করলে ফ্যানের, আপনার কোনো ক্ষতি হবে না। বরং আপনি আপনার দেশের সম্পদটা রক্ষা করলেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি নিজে প্রধানমন্ত্রী হয়েও কিন্তু আমি যখন ঘর থেকে বের হই বা বাথরুম থেকে বের হয়ে নিজের হাতে কিন্তু সুইট বন্ধ করি। তাতে আমার কোনো সম্মান যায় না।’ ‘নিজের কাজ নিজে করাতে কোনো লজ্জা থাকে না। যে সুবিধাটা আপনি পাবেন, সেটা হলো নিজে যদি সাশ্রয়ী হোন, তাহলে বিলটা কম হবে। বিদ্যুৎ বিল আপনাকে কম দিতে হবে।’

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বেশ কিছু উপায়ও বাতলে দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘আপনারা যে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ বা টেলিভিশন চালান, লাল বাতিটা যদি জ্বলে থাকে তাহলে কিন্তু বিদ্যুতের বিল উঠে। যদি সুইটচা অফ করে দেই, আমার কিন্তু বিল উঠবে না।’ ‘মোবাইল সেট চার্জ করে তারটা যদি সেভাবেই ফেলে রেখে দেই ওখানেও কিন্তু বিদ্যুতের বিল উঠবে। কিন্তু আমি যদি সুইট অফ করে দেই, তাহলে বিল উঠবে না।’

২০২১ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হতে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দিতে সক্ষম হবো। চাহিদা বাড়তে থাকবে, জীবনযাত্রার মান যত বাড়বে, চাহিদাও তত বাড়তে থাকবে। একশটা শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলছি, সেখানে মানুষের কর্মসংস্থান হবে, সেখানেও বিদ্যুতের চাহিদা তত বাড়বে। যত বেশি উন্নয়ন হবে তত বেশি বাড়বে।’ ‘এসব উদ্যোগের ফলে দেশের মানুষ স্বাবলম্বী হবে, দেশের মানুষ কাজ পাবে, এর মধ্য দিয়ে তাদের আর্থ সামাজিক উন্নতি হবে, সেটাই আমাদের টার্গেট।’