মঠবাড়িয়ায় সাত মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু রাবেয়া নয় দিন পরে মায়ের কোলে

প্রকাশিত: ১১:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৭ | আপডেট: ১১:৩৫:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৭
মঠবাড়িয়ায় সাত মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশু রাবেয়া নয় দিন পরে মায়ের কোলে

যৌতুকের দাবি তুলে গৃহবধুকে মারধর করে সাত মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্য শিশু রাবেয়াকে আটকে রেখে মাকে তাড়িয়ে দেওয়ার ৯ দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার রাতে উদ্ধারকৃত শিশু রাবেয়া তার নির্যাতিত মা লীমা বেগমের কোলে ফিরেছে। উপজেলার বকশীর ঘটিচোরা গ্রামের অভিযুক্ত স্বামী শহীদুল ইসলামের বাড়ি থেকে শিশুটিকে পুলিশ উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নির্যাতিত গৃহবধূর স্বামী শহীদুল ইসলাম ও শ্বশুর নয়া মিয়া পালিয়ে যায়।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, মঠবাড়িয়া উপজেলার খায়ের ঘটিচোরা গ্রামের কৃষক মো. আব্দুর রশীদের মেয়ে লীমা বেগম (২০) এর সাথে একই গ্রামের নয়া মিয়ার ছেলে মো. শহীদুল ইসলামের পারিবারিক সম্মতিতে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ৭৬ হাজার টাকা সহ অন্যন্য মালামাল প্রদান করে লীমার পরিবার। লীমা ও শহীদুলের সংসারে গত সাত মাস আগে রাবেয়া নামে এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সম্প্রতি স্বামী শহীদুল ব্যবসার কথা বলে এক লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রী লীমার পরিবারের কাছে। কিন্তু দরিদ্র পরিবারের পক্ষে ওই টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় শহীদুল স্ত্রীর ওপর শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। গত ৩০ অক্টোবর শহীদুল যৌতুকের জন্য স্ত্রীর ওপর চাপ দেয়। এনিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে এক পর্যায় শহীদুল স্ত্রীকে মারধর করে। এরপর দুগ্ধপোষ্য শিশু কণ্যাকে আটকে রেখে মা লীমাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। পওে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য বহু চেষ্টা চালিয়ে মা লীমা ব্যার্থ হন। পরে আদালতে প্রতিকার চেয়ে শিমুটির মা লীমা বেগম বাদি হয়ে অভিযুক্ত স্বামী শহীদুল ও শ্বশুর নয়া মিয়াকে আসামী করে গত ৭ নভেম্বর মঠবাড়িয়া আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতে হাজিরের জন্য মঠবাড়িয়া থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়।
গতকাল বুধবার বিকালে আদালতের নির্দেশ পেয়ে মঠবাড়িয়া থানার উপ পরিদর্শক শাহনাজ পারভীনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযুক্ত শহীদুৃলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে।
নির্যাতিত গৃহবধূর দিনমজুর বাবা আব্দুর রশীদ জানান, বিয়ের সময় মেয়ের সুখের জন্য ৭৬ হাজার টাকা যৌতুক দিয়েছি। পরে জামাই শহীদুল গরুর ব্যবসার কথা বলে আরও এক লাখ টাকা দাবি করে। দিতে না পারায় মেয়ের ওপর নির্যাতন শুরু করে। আমার দুগ্ধপোষ্য নাতনীকে আটকে রেখে আমার মেয়েকে মারধর কওে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়।
মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কে.এম তারিকুল ইসলাম বিষযটি নিশ্চিত করে বলেন, উদ্ধারকৃত শিশুটিকে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করার পর আদালতের বিচারক জি.এম সরফরাজ শিশুটিকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দেয়। পরে শিশুটিকে মায়ের কোলে তুলে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান এরঘটনায় অভিযুক্ত শহীদুল ও তার বাবাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।