কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং সরকারের বক্তব্য

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৩০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৩০:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০১৮

সরকারি চাকরিতে কোটা পূরণের ক্ষেত্রে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্রে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা অধিকতর পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় এ নির্দেশ দেন তিনি।

গতকাল রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি’র বাসভবনে ভাঙচুরের পর উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামানকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনে হামলা ও হত্যা চেষ্টা এবং ভাঙচুরের ঘটনা নজিরবিহীন” বলে উল্লেখ করেছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, “এর সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠকে বসেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে সচিবালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ২০ জনের একটি প্রতিনিধি দল মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন।

সর্বশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের বিষয়ে সরকারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানিয়েছেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা।

ওদিকে, বাংলাদেশের সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন আজ ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। কোটা সংস্কার এবং আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন, ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও নিকটস্থ মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ করেছে।

ছাত্রদের আন্দোলন প্রসঙ্গে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি ইমারান হাবিব রুমন রেডিও তেহরানকেও বলেন, আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করে বা তাদের গ্রেপ্তার করে তাদের দমিয়ে রাখা যাবেনা। আলোচনার মাধ্যমে কোটা পদ্ধতির একটা সমাধান করতে হবে। তারা কিছু কিছু কোটা রাখার পক্ষে হলেও আযৌক্তিক কোটা মানতে রাজি নন। উল্লেখ্য, গতকাল রোববার রাতে শাহবাগে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে অবস্থানরত শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের উপর পুলিশ হামলা চালায়। এর পর বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে বিক্ষোভ করতে গেলে পুলিশ এবং ছাত্রালীগের কর্মীরা তাদের ওপর আর এক দফা হামলা করে।

এ সব হামলায় অন্তত ৫০ জন আহত হন। ক্যাম্পাসে গুলির প্রতিবাদে গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় আন্দোলনকারীরা। রোববার দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘যারা আমার বাসভবনে হামলা চালিয়েছ, তারা মুখোশ পরা ছিল। তাদের দেখে মনে হয়নি যে তারা ঢাবির শিক্ষার্থী। তার ভবনের প্রতিটি কক্ষে তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে। বাসভবনে আগুন দিয়েছে। তারা জানালা ও দরজা ভাঙচুর করেছে।’

সোমবার ভোর ৬টার দিকে দোয়েল চত্বরে শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ ঘটনায় শহীদুল্লাহ হলের এক ছাত্র আহত হয়। তাছাড়া, আজ দুপুরে আবারো হামলা চালাতে এসে আন্দোলনকারীদের ধাওয়ার মুখে ছাত্রলীগের বহিরাগত সদস্যরা পিছু হটে যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বিএনপি প্রতিবাদ:

শাহবাগে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। আজ সোমবার দুপুরে নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আন্দোলকারীদের ওপর পুলিশ গতকাল তাণ্ডব চালিয়েছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্রলীগ সশস্ত্র হামলা করেছে।

তিনি বলেন, কোটা প্রথার সাথে দেশের প্রায় ৪ কোটি শিক্ষিত যুব সমাজের জীবন জীবিকার প্রশ্নটি জড়িত। এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটি উৎকণ্ঠিত। ইতোপূর্বে বিএনপি ‘ভিশন ২০৩০’ এ আমরা কোটার বিষয়টি স্পষ্ট উল্লেখ করেছি। দেশকে সত্যিকার ভাবে গড়ে তুলতে হলে মেধার কোনো বিকল্প নেই।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নারী ও প্রান্তিক জাতি গোষ্ঠীর কোটা ব্যতিরেকে বাকি কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হবে। মেধার মূল্যায়ণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যথাযথ সংস্কার করতে হবে।