আমতলীতে প্রথম স্ত্রী পর দ্বিতীয় স্ত্রীকেও যৌতুকের জন্য হত্যা, শ্বশুর-শ্বাশুরী আটক

প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০১৮ | আপডেট: ৬:২৭:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০১৮

যৌতুকের জন্য প্রথম স্ত্রী মনিরাকে হত্যার এক বছরের ব্যাবধানে এবার দ্বিতীয় স্ত্রী গৃহবধূ আমেনাকে (২৩)স্বাস রোধে এবং পিটিয়ে হত্যা করেছে যৌতুক লোভী স্বামী মেহেদি হাসান আকন (২৫)। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার রাতে গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর কলাগাছিয়া গ্রামে। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

আমতলী থানা পুলিশ ও আমেনার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টম্বর প্রথম স্ত্রী মনিরাকে হত্যার ৩ মাসের মাথায় আমতলী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মো: হানিফ হাওলাদারের মেয়ে আমেনার সাথে গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর কলাগাছিয়া গ্রামের আলমগীর আকনের ছেলে মেহেদি হাসান আকন (২৫) এর সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় আমেনার বাবা সংসারের সকল মালামাল দিয়ে দেয়। বিয়ের ৩ মাসের মাথায় যৌতুক লোভী স্বামী মেহেদি হাসান আমানাকে তার বাবার বাড়ী থেকে স্বর্নের চেইন, কানের দুল এবং নগদ ১ লাখ টাকা আনার জন্য চাপ দেয়। এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমেনাকে স্বামী মেহেদি হাসান ৩১ ডিসেম্বর ব্যাপক মারধর করে। মারধরের পর পরের দিন ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি আমেনা তার বাপার বাড়ী চলে আসে। এর মধ্যে মেহেদি তার স্ত্রী আমেনার কোন খোঁজ খবর নেয়নি। ৩ মাস ধরে বাবার বাড়ীতে থাকার পর ৮ এপ্রিল রবিবার বিকেল আড়াইটার সময় স্বামী মেহেদি হাসান এবং আমেনার মামা শ্বশুর ইসমাইল আমেনার বাবার বাড়ী উপস্থিত হয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার কথা জানালে সে আর কোন প্রতি উত্তর না করে আমেনা তার স্বামী এবং মামা শ্বরের সাথে স্বামীর বাড়ী চলে যান। ২২ ঘন্টা ব্যাবধানে পরের দিন সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার সময় বাড়ীর পাশের একটি মূগ ডাল ক্ষেতে আমেনার লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ এবং এলাকা বাসীর ধারনা আমেনাকে যৌতুকের জন্য পিটিয়ে এবং স্বাস রোধে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখেছে।

পুলিশের ধারনা মেহেদি হাসান এবং তার পরিবারের লোকজন আমেনাকে স্বাস রোধে এবং পিটিয়ে হত্যা করে লাশ বাড়ির ২শ’ গজ দুরে ডাল ক্ষেতে ফেলে রাখে। উদ্ধার কারী পুলিশের এসাআই মো: সিদ্দিকুর রহমান জানান, নিহত আমেনার দুই ঠোটে, উরুতে, হাটুতে অঅঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গলায় ওড়না পেচানো ছিল।

আমেনার স্বামী মেহেদি হাসান এবং তার বাবা আলমগীর আকন পেশায় রাজ মিস্ত্রি। তারা বরিশাল শহরে দৈনিক চুক্তিতে কাজ করে। এর আগে মেহেদি হাসান কলাগাছিয়া গ্রামের মফেজ হাওলাদারের মেয়ে মনিরাকে বিয়ে করে বরিশালের রুপাতলীর ভাড়া বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে যৌতুকের জন্য ৩ মাসের অন্ত:সত্তা মনিরাকে শ্বশুর আলমগীর আকন শ্বাশুরী পিয়ারা বেগম স্বামী মেহেদি হাসান ২০১৭ সালে ৬ জুন যৌতুকের জন্য পিটিয়ে এবং স্বাস রোধে হত্যা করে লাশ ঘড়ের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার চালায়। তখন বরিশাল কোতয়ালি থানার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। পুলিশ সে সময় মেহেদিকে গ্রেফতার করলেও কয়েক দিনের মাথায় ছাড়া পায় সে। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সে হত্যার ঘটনা ধামা চাপা দেয় মেহেদি। তার হুমকির কারনে মনিরার বাবা মফেজ হাওলাদার মেয়ের হত্যাকারীর বিচার চেয়ে মামলাও করতে পারেনি।

কলাগাছিয়া গ্রামের নীলিমা বেগম এবং মনিম জান জানান, মেহেদি হাসান এর আগেও মনিরা নামে তার প্রথম স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য নির্মম ভাবে হত্যা করে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে মামলাটি ধামা চাপা পড়ে যায়। আমরা আমেনা এবং মনিরার হত্যা কারী মেহেদি এবং তার পরিবারের কঠিন বিচার চাই।

আমেনার মা খাদিজা বেগম কান্না জরিত কন্ঠে জানান, মোর ভাল মাইয়াডা আইটা স্বামীর বাড়ি গেল হেই মাইয়াডা এহন লাশ অইয়া আমার কোলে ফেরত আইলো মুই এইডা ক্যামমে মাইনা নিমু। ওআল্লা মুই এহন মইরা যামু। এহন মোরে লইয়া যাও। মুই এইয়ার বিচার চাই। মুই মেহেদির ফাসি চাই। মুই যেন হেইডা দেইখা যাইতে পারি।
আমেনার ভাই আবু মুছা বলেন, বুইনডায় মোর কি অপরাধ করছিল যে হ্যারে মাইরা হালাইতে অইবে। আমরা এইআর কঠিন বিচার চাই।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: সহিদ উল্যাহ জানান, খবর পেয়ে আমেনার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠাই। ধারনা করা হচ্ছে আমেনাকে যৌতুকের জন্য স্বাসরোধে এবং পিটিয়ে হত্যা করেছে। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমেনার স্বামী মেহেদি ঘটনার পর পালিয়ে যায়। শ্বশুর আলমগীর আকন পালিয়ে যাওয়ার সময় পটুয়াখালীর খাসের হাট এবং শ্বাশুরী পিয়ারা বেগমকে স্থানীয় পঞ্চায়েত বাড়ী থেকে জিঞ্জাসা বাদের জন্য আটক করা হয়। মামলার প্রস্তুতি চলছে।