ঐ নূতনের কেতন ওড়ে: মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন আওয়ামী লীগের ১শ’ এমপি

প্রকাশিত: ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০১৮ | আপডেট: ৯:৫০:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৮, ২০১৮

অতিথি প্রতিবেদকঃ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার প্রভাব পড়তে যাচ্ছে আগামী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়নে। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকার বেশ বড় একটা অংশ থাকবে তরুণদের দখলে। পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, দুর্নীতিসহ নানান অভিযোগ এবং অন্যান্য বাস্তবতা বিবেচনায় ক্ষমতাসীন দলের অন্তত একশ’ সিটিং এমপি আগামী সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের তালিকায় রয়েছে অন্তত ৫০টি জেলা। নতুন মুখগুলোর বেশির ভাগই সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা এবং সামরিক-বেসামরিক সাবেক আমলা ও তরুণ উদ্যোক্তা। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও রয়েছেন মনোনয়ন দৌড়ে। আগামী নির্বাচনে ‘বিতর্কিত’ নেতাদের বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর এ সব আসনে আসবে নতুন মুখ। আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকার বেশ বড় একটা অংশ থাকবে তরুণদের দখলে। নানান রকমের গ্লানি দূর করার জন্য নতুনরা আসবে কালবোশেখীর ঝড়ের মতোই। উল্লেখ্য, নজরুলের কবিতার চরণ হচ্ছে, “ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কাল-বোশেখির ঝড়। তোরা সব জয়ধ্বনি কর।”

এরই মধ্যে ‘জয়ধ্বনি’ করতে শুরু করেছেন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য নতুন প্রার্থীরা । এর মধ্যে কাউকে আবার এক বছরেরও বেশি সময় আগে হাই কমান্ড থেকে গ্রিন সিগন্যাল দেয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে, ঢাকা-১৮ হাবিব হাসান, বরিশাল-৫ তথা সদর আসনে আরিফিন মোল্লা, পটুয়াখালী-১ আসনে আবদুল মালেক, ভোলা-২ আসনে আশিকুর রহমান, ফরিদপুর-১ আসনে আরিফুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জ-২ আসনে নূর মোহাম্মদ। আওয়ামী লীগের এই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিজনিজ নির্বাচনী এলাকায় জনসংযোগ এরই মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে।

ঢাকা মহানগরীর ২০টি আসনের মধ্যে ১৬টি আওয়ামী লীগের এবং বাকি চারটিতে জোটের শরিক জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, বিএনএফ ও স্বতন্ত্র এমপি রয়েছেন। সূত্র মতে, শরিক দলের আসনে পরিবর্তন করা না হলেও আওয়ামী লীগের ১৬টির মধ্যে অন্তত চারটিতে নতুন মুখ আসার জোর সম্ভবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনেকেই মনে করছেন, ঢাকা-১৮ আসনে পরিবর্তন অনিবার্য।

ঢাকা-১৮ আসনে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন পারিবারিক রাজনীতি ও প্রভাবের ধারাবাহিকতায় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং দলের পরিক্ষিত নেতা হাবিব হাসান। সূত্র মতে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রশ্নে স্থানীয় নেতাদের শক্ত চ্যালেঞ্চের মুখে পড়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন।  আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন প্রশ্নে কমপক্ষে পাচঁ জনের সঙ্গে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হবে। এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় কেন্ডিডেট। আর এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রশ্নে এবার অধিকতর দৃঢ় অবস্থানে আছেন হাবিব হাসান। তিনি বর্তমানে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তিনি বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, এর আগে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক। দীর্ঘদীন বৃহত্তর উত্তরা থানা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পালন করায় নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে হাবিব হাসান উত্তরায় আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এ জন্য তিনি নানান ধরনের হয়রানিরও শিকার হয়েছে; কারাভোগ করেছেন বহুবার।

২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় মামলা-হামলা ও কারা নির্যাতনের চরম শিকার হন হাবিব হাসান। বিশেষ করে ওয়ান ইলেভেনের সরকারে সময় কারাবন্দি দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির সংগ্রামে উত্তরায় একক নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন হাবিব হাসান। সভানেত্রীর মুক্তির দাবিতে গণস্বাক্ষর গ্রহণে তার উদ্যোগ বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। যা উত্তরাবাসী চিরকাল মনে রাখবে। বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রামে জেলে যাওয়া কর্মীদের আইনী ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান এবং পরিবারের ভরনপোষণের দায়িত্ব নেয়াসহ নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার কারণে তিনি এলাকায় কর্মী বান্ধব নেতা হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত। কেবল রাজনীতি নয়, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাকে কাছে পায় এলাকাবাসী। যে কারণে তার প্রতি স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সাধারণ মানুষের বিশেষ সমর্থন রয়েছে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সভা-সমাবেশে নিয়মিত যোগ দেবার পাশাপাশি ব্যাপক জনসংযোগ করছেন হাবিব হাসান। এছাড়া পারিবারিক ও আর্থিক দিক থেকে তিনি প্রভাবশালী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত বলে জানা গেছে।

বরিশাল-৫ তথা সদরে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয় বেশি আলোচনায় আছেন আরিফিন হোসেন মোল্লা। বরিশালের রাজনীতিতে যুবরত্ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত সাদিক আবদুল্লাহর সঙ্গে সমঝোতার রেখায় যুক্ত হয়েছেন নবজাগরণের অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত আরিফিন মোল্লাা। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরিশাল সফরের প্রাক্কালে এ সমঝোতার ফলে বরিশালের রাজনীতিতে নতুন সমিকরণ সৃষ্টি হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। পারিবারিক ধারবাহিক রাজনীতি এবং ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের শিকার সেরনিয়াবাদ পরিবারের সদস্য হিসেবে সাদিক আবদুল্লাহ বরিশালে বিশেষ সহানুভুতির লাভ করেছেন। এর উপর স্থানীয় রাজনীতিতে অক্লান্ত পরিশ্রম তাকে দান করেছে বিশেষ উচ্চাতা। সবমিলিয়ে তিনি বরিশালে যুবরত্ন  হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছেন। এদিকে বরিশালের আর এক উদ্যোমী তরুন রাজনীতিক ও সমাজ সেবক আরিফিন মোল্লার আবির্ভাব ঘটেছে নব জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে। সাদিক আবদুল্লার লক্ষ্য হচ্ছে বরিশাল সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন। আর আরিফিন মোল্লার উদ্দেশ্য হচ্ছে সংসদ নির্বাচনে বরিশাল সদর আসনে  আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভ। সূত্র জানিয়েছে, সদর আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রশ্নে নানান মাপকাঠিতে বেশ শক্ত অবস্থানে আছেন আরিফিন মোল্লা।

পটুয়াখালি-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারেন সরকারের ডাকসাইটে সচিব আবদুুল মালেক। সিভিল প্রশাসনে তিন প্রায় ৩১বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে প্রায় সাড়েতিন বছর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার পর ২০১৫ সালের ১ মার্চ তাকে করা হয় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব। এ মন্ত্রণালয়ে প্রায় তিন বছর দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন আবদুল মালেক। প্রায় একমাস আগে তাকে করা হয় তথ্য সচিব। সূত্রমতে তাকে পটুয়াখালি-১ আসনে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। বর্তমানে এ আসনের সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির মহসচিব এ, বি, এম, রুহুল আমিন। যদিও গত নির্বাচনে তার জন্য ছেড়ে দেয়া হয়েছিলো বরিশাল-৬ আসন। কিন্তু তার জন্য নির্ধারিত আসনে স্ত্রী বেগম নাসরিন জাহান রতনাকে দাড় করিয়ে নিজে দাড়ান পটুয়ালী-১ আসনে। তার এই রাজনৈতিক শঠতা আওয়ামী লীগের হাই কমান্ডকে বেশ বিক্ষুব্ধ করেছে বলে জানা গেছে। ফলে এবার তাকে নিজের আসন বাখেরগঞ্জে ফিরে যেতে হবে। আর পটুখালি-১ আসনে নতুন মুখ হিসেবে আসবেন আবদুল মালেক। তবে এ ক্ষেত্রে সরাকারি কর্মকর্তাদের নির্বাচনে অংশ নেবার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরাজমান সময়সীমার বিষয়ে বিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে।

ভোলা-২ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। তিনি আধুনিক ভোলার রূপকার বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি’র চেয়ারম্যান অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র ও মন্ত্রী মরহুম নাজিউর রহমানের পুত্র। অনেকের বিবেচনায় ভোলার মানুষ তার মধ্যে নাজিউর রহমানের প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আশিকুর রহমান ২০০৮ সাল থেকে রাজনীতিতে ফুল টাইম সক্রিয় রয়েছেন। সক্রিয় রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ২০০৮ সালে নির্বাচনে বিজেপি’র মনোনয়নে তিনি ভোলা-২ আসনে সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন। ড. আশিকুর রহমান নির্বাচনী রাজনীতিতে নবাগত হয়েও সেবার তোফায়েল আহমেদের বিরুদ্ধে নির্বাচন জোর লড়াই করেন এবং ৭৮ হাজার ভোট পান। তোফায়েল আহমেদের প্রাপ্তভোট ছিলো ১ লাখ ৩ হাজার। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ড. আশিকুর রহমান অংশ নেননি এবং তোফায়েল আহমেদ নির্বাচন করেছেন ভোলা-১ আসন থেকে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নিবাচনে ভোলা-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আলী আজম মুকুল। সূত্রমতে, এ আসনে এবার আওয়ামী লীগের নিশ্চিত প্রার্থী ড. আশিকুর রহমান।

ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আরিফুর রহমান দোলন। সাবেক ছাত্রনেতা আরিফুর রহমান দোলন ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক ‘এই সময়’ এর মালিক-সম্পাদক। কৃষকলীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ফরিদপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মো. আরিফুর রহমান দোলন নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গনসংযোগ চালাচ্ছেন। এলাকার উন্নয়ন কাজেও তার অবদান রয়েছে। প্রায় প্রতি দিনই তিনি একাধিক সমাবেশ বা অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার বক্তব্য এরই মধ্যে বেশ সমাদৃত হচ্ছে। এর মধ্যে ৫ এপ্রিল বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের মহিশালা গ্রামে কামালউদ্দিন শেখের বাড়িতে এক উঠান বৈঠকে  প্রধান অতিথি হিসেব তার বক্তব্য রাজনীতিতে অনেটাই কম্পন সৃষ্ঠি করেছে। এ বক্তৃতায়  মো. আরিফুর রহমান দোলন বলেন, জনপ্রতিনিধিরা কখনো মনিব হতে পারে না। তারা ভৃত্যর মতো জনগণের সেবক হবেন। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে তাদের সঙ্গে মনিবের আচরণ করা উচিৎ হবে না; ভৃত্যের মানসিকতা নিয়ে সেবক হতে হবে। তিনি আরো বলেন, আগামী নির্বাচনে আমাকে ভোট দিয়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করলে আমি আপনাদের মনিব নয়, ভৃত্য হিসেবে সেবা করে যাব। উল্লেখ্য, ফরিদপুর-১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মো: আবদুর রহমান ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জ-২ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক সচিব নূর মোহাম্মদ। পুলিশের সাবেক এই আইজি রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র নেতা ছিলেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসীন হলের ভিপি হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। এর পর তিনি পুলিশ বিভাগে বিসিএস অফিসার হিসেবে যোগদান করেন এবং সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। পুলিশের আইজি হিসেবে নূর মোহাম্মদের সুনাম রয়েছে শীর্ষে। তার বিগত জীবনের সুনামের প্রতিদান পাচ্ছেন তার নির্বাচনী এলাকায়। সর্বস্তরের মানুষ তাকে খুবই আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছে। এর পরও তিনি এক বছরেরও বেশি  সময় ধরে এলাকায় নিরচ্ছিন্ন গণসংযোগ চালাছেন। কিশোরগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মো: সোহরাব উদ্দিন জীবনে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির  নির্বাচনে।

উল্লেখিত আসনগুলো ছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদল হতে পারে গাজীপুরের দু’টি আসনে। নরসিংদীর দুটি আসনেও প্রার্থী বদল হতে পারে। মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ায় দু’টি আসনেও প্রার্থী বদল হবার সম্ভাবনা রয়েছে। চুয়াডাঙ্গায় বদল হতে পারে একটি আসন। ঝিনাইদহ জেলায় নতুন প্রার্থী আসছেন তিনটি আসনে। যশোরে বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন তিন এমপি, তারা আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেট পাবার সম্ভনা ক্ষীণ। মাগুরায় পরিবর্তন আসতে পারে একটি আসনে। খুলনায় নতুন মুখ আসার সম্ভনা তিনটি আসনে। নতুনদের এ তালিকায় রয়েছেন শরীয়তপুর-২ আসনে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, রাজবাড়ী-২ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক কে›ন্দ্রীয় নেতা শেখ সোহেল রানা টিপু, ঢাকা-১৫ আসনে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মাগুরা-১ আসনে মনোনয়ন পত্যাশী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব এডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখর, ফেনী-৩ আসন অভিনয় শিল্পী রোকেয়া প্রাচী, দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল নেত্রকোনা-৩, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী লক্ষ্মীপুর-৪, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী চাঁদপুর-৩, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম চট্টগ্রাম-১৫, কেন্দ্রীয় নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল চট্টগ্রাম-৯, কক্সবাজার-৩ আসনে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার নরসিংদী-৫, নেত্রকোনা-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ, মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে প্রচারণায় আছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বাগেরহাট-৪ আসনে সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি এইচএম. বদিউজ্জামান সোহাগ, চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। আলোচিত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি জামালপুর-৫) নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, হাসান আলী সরাজগঞ্জ-১, হাবিবুর রহমান স্বপন, চয়ন ইসলাম সিরাজগঞ্জ-৫, গাইবান্ধার-৫ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন।

নির্ভযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, প্রায় এক তৃতীয়াংশ আসনে নতুন প্রার্থী বাছাই করার কঠিন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন আওয়মী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা। এ জন্য প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় দফায় দফায় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক জরিপ চলছে। এদিকে অপর একটি সূত্র জানয়েছে, নতুন মূখ বাছাই করার ক্ষেত্রে অনেটাই এক সিদ্ধান্ত নেবেন আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা; ফলে মনোনয়ন বানিজ্য করার সুযোগ থাকবে না।

 সূত্রঃসুগন্ধা২৪ডটকম