মাদারীপুরে কেরানীর দাপটের আতঙ্কে আছে ব্যাবসয়ী, সাধারন মানুষসহ বিদ্যুৎ বিভাগ

এ যেন দেখার কেউ নেই

প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০১৮ | আপডেট: ৫:০১:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০১৮
মাদারীপুরে কেরানীর দাপটের আতঙ্কে আছে ব্যাবসয়ী, সাধারন মানুষসহ বিদ্যুৎ বিভাগ

কেরানী’’ জয়নালের দাপটে আতঙ্কে আছে, ব্যাবসায়ী, সাধারন মানুষ ও মাদারীপুর বিদ্যুৎ/ ওজেপাডিকো অফিস। তার অত্যাচারের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা ব্যবসায়ীরাও। মাদারীপুর পৌর এলাকার বিসিক শিল্পনগরীতে আমেরিকার এক নাগরীককে সোমবার সন্ধায় মারধর ও শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভুগিরা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানা কতৃপক্ষ অভিযোগ নেয়নি। নিরুপয় হহে মাদারীপুর চিপজুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে মামলা দায়ের।

মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, মাদারীপুর পৌর এলাকার বিসিক শিল্পনগরীতে আমেরিকার নাগরীক কাাামরুজ্জামান ভুইয়া সোহেলকে সোমবার সন্ধায় মাদারীপুর বিদ্যুৎ বিভাগ (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোং লি:,ওজেপাডিকো) সংশ্লিস্ট দপ্তরের এলডিএ কাম টাইপিস্ট/কম্পিউটার অপারেটর ”কেরানী’’ সন্ত্রাসী, চাদাবাজ, দাঙ্গাবাজ, জয়নাল ফকিরের নেত্বতে দাবি কৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বিকার করলে, সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে মারধর ও শারিরিক ভাবে লাঞ্চিত করে। এবং তার সাথে থাকা চার হাজার ইউএস ডলার, দুই ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, বাংলাদেশী এগারো হাজার টাকা ও আমেরিকান ক্রেডিট কার্ড ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিনিেিয় নিয়ে যায়। ভুক্তভুগিরা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে থানা কতৃপক্ষ অভিযোগ গ্রহন করেনি। নিরুপায় হয়ে গত বৃহস্পতিবার মাদারীপুর চিপজুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাকির হোসেনর আদালতে ১. জয়নাল ফকির(৪৫) পিতা মৃতঃ রব ফকির, ২. রুহুল ফকির(৩৫) পিতা মৃত কুদ্দুস ফকির, ৩. সাইদুর রহমান(৩৫) পিতা সিদ্দিক ফকির, ৪. মোঃ আজিম(৩৬) পিতা মৃত তোজ্জেল নপ্তি সর্ব সাং ঝিকরহাটি/ আমরাতলা, ঘটমাঝি, মাদারীপুর সদর, ৫. ইব্রাহিম বেপারী (৩৫) পিতা মৃত এজন বেপারী সাং থানতলি মাদারীপুর সদরকে আসামী করে, ১৪৩/৩২৩/৩৮৫/৩৭৯/৫০৬(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ২১৫/১৮।

উক্ত মামলার বাদী নাহিদ উজ্জামান ভুইয়া বলেন, ঘটনার পরে আমি বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর থানায় এজাহার দায়ের করতে গেলে, থানার ওসি আমার এজাহার গ্রহন করেনি, তাই আমি নিরুপায় হয়ে আদালতে মামলা করি। আমি অভিযুক্ত সন্ত্রাসীদের আইনের মাধ্যমে দৃস্টান্ত মুলক শাস্তি দাবি করছি।
ভুক্তভুগী আমিরিকার নাগরীক কামরুজ্জামান সোহেল @ কানন ভুইয়া বলেন, আমার স্বপ্ন ও আশা নিয়ে আমিরিকা থেকে বাংলাদেশে এসেছি, মিল, ফ্যাক্টরী তৈরী করে কিছু হলেও এ সমাজের বেকারত্ব দূরিকরনে ভূমিকা রাখতে। এখন আমার জীবনের নিরাপত্তা নাই, আমি হুমকির মুখে আছি। তাই সরকারের কাছে আমার আবেদন, আমার উপর হামলাকারিদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করছি। কানন ভুইয়া আরো বলেন আমার ছোট ভাই হিমেল ব্যাবসায়িক কাজে ভারতে অবস্থান করছে, অথচ সন্ত্রাসী জয়নাল ফকিরের নির্দেশে রুহুল ফকির তাকেও মিথ্যা মামলায় আসামী করে। তাই সরকারের কাছে আমার আবেদন, রুহুল ফকিরের দায়েরকৃত মিথ্যা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাচ্ছি।

এব্যাপরে মাদারীপুর বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম তুষার ভুইয়া বলেন, আমরা ভুইয়া পরিবার ১৯৮২ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। আমাদের প্রতিষ্ঠান গুলোতে কয়েক হাজার লোকের কর্মব্যাবস্থা রয়েছে, আমরা শহরের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী সরকারকে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকার কর দিয়ে আসছি। জয়নাল একজন বিদুৎ অফিসের কেরানী হয়ে, বিনা ঘোষনায় দুপুর ১টা থেকে পরের দিন সকাল সাতটা পর্যন্ত বিদুৎ লাইন বন্ধ করে দিয়ে বিসিক শিল্প এলাকার ব্যবসায়ীদের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি করেছে। বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন উক্ত ঘটনার সঠিক বিচার না হলে আমরা বনিক সমিতির ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে কঠোর আন্দলনে যেতে বাধ্য হবো।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, জয়নাল ফকির বেনামে মাদারীপুর বিদ্যুত বিভাগের ঠিকাদারেরও কাজ করে আসছে। এছাড়া বিভিন্ন গ্রাহকদের সাথে সু-সম্পর্ক গড়ে সে অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে বরাবরই অশোভন আচরন করে আসছে। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, জয়নাল আবেদীন ফকির চাকুরির শুরু থেকে মাদারীপুর বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত আছে। সরকারী দলের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায সে কোন কাজ না করে মাসে ৫০,০০০/ টাকা বেতন ভোগ করছে। অফিসের সামান্য তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হয়েও সে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অন্যান্য প্রকৌশলীদের তোয়াক্কা করছেনা, এমকি নিওম নিতি না মেনে বছরের পর বছর কিভাবে তিনি কাজ না করে বেতন ভাতা উত্তোলন করে সরকারের আর্থিক ক্ষতি সাধন করছেন। সরকারী বিধান অমান্য করে ঠিকাদারী করে বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ এনে গত ১৮/১০/১৭ইং তারিখে নাসিরউদ্দিন নামের এক লোক তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে। এদিকে সাধারন জনগন বলছে, জয়নাল একজন বিদুৎ অফিসের কেরাণী তার খুটির জোর কোথায়, যে বিনা ডিওটিতে সরকারী টাকা ভোগ করে।

এব্যাপারে মাদারীপুর বিদ্যুৎ বিভাগ (ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোং লি:, ওজেপাডিকো) এলডিএ কাম টাইপিস্ট/কম্পিউটার অপারেটর(কেরানী) জয়নাল ফকির মুঠো ফোনে জনান, আমি থানার থেকে শুনেছি কোট থেকে আমার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ আসছে, তবে অভিযোগ দিলেই হবেনা। উক্ত ঘটনার প্রমান পাইতে হবে। তবে ফরিদপুরের ঠিকাদার হিরু ঐ বিদুৎ লাইনের কাজ করে। এরকম আপত্তিকর ঘটনা হইবে জানলে আমি ওখানে যেতাম না।
এব্যাপারে মাদারীপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান জানান, আমি শুনেছি যে কোটে ঐ মামলা করেছে, মামলার কাগজ হাতে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।