ধর্ষণ, এ যেন পান্তাভাত, ধর্ষণ কোনো ঘটনাই নয়!

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:২৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৭:২২:পূর্বাহ্ণ, মে ১৬, ২০১৮

জি এম বারী: একের পর এক ধর্ষণ ঘটনা ঘটেই চলছে দেশে। ধর্ষণ যেন এই দেশের জন্য এখন পান্তাভাত হয়ে যাচ্ছে! এ যেন কোনো ঘটনাই নয়। ধর্ষণ হচ্ছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ধর্ষক গ্রেপ্তারও হচ্ছে। কিন্তু বিচার হচ্ছে ক’জনের? বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণ এখন লাগামহীন। কিছুতেই রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি এমন একটা পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে, নারী-পুরুষর সম্মুখ যুদ্ধও ঘটতে পারে। তবে এই ধর্ষণ ঘটনা বৃদ্ধির জন্য আমাদের বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগ তাদের দায় কিছুতেই এড়াতে পারে না।

 

মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব, আশরাফুল মাখলুকাত মানুষকে সর্বশ্রেষ্ট জাতী হিসেবে সৃষ্টি করেছে। তাকে দিয়েছে জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেক, ভালোমন্দ বিচার করার ক্ষমতা, দিয়েছে বিশ্বটাকে জয় করার ক্ষমতা। যে যার মেধার পরিচয় দিয়ে তার নিজের স্থানকে ধরে রাখে।

 

মানুষ ভিন্ন অন্য কোন প্রাণী স্বজাতির অন্য কোন প্রাণীকে ভয় করে না। কেবল মানুষই মানুষকে ভয় পায়। মানুষ প্রকাশ্যে মানুষকে খুন করে, অন্যরা তাকিয়ে দেখে। মানুষ মানুষের সম্পদ লুট করে, মানুষ মানুষকে ধর্ষণ করে, অপহরণ করে। মানুষের মতো এত অসহায়, ভীত ও সন্ত্রস্ত প্রাণী আর একটিও নেই।

 

মানুষ বোকামি করলে ‘কাকের মতো বোকা’ বলা হয়। কিন্তু বিজ্ঞান বলে, কাক খুবই বুদ্ধিমান। কাক তাদের নিজেদের সুবিধামত ডাল-লতাপাতা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরি ও ব্যবহার করতে পারে, যে সব জায়গায় খাবার পাওয়া যায় সেসব জায়গা মনে রাখতে পারে। শক্ত খাদ্য কাক রাস্তায় ফেলে রাখে। গাড়ি আসলে খাদ্য ভেঙ্গে যায়, ফলে তারা সেগুলো খেতে পারে। শুধু তাই নয়, একটি কাক যে ঝাঁকের সদস্য, সে সেই ঝাঁকের অন্য কাকদের সাথে সমাজবদ্ধ হয়ে বিভিন্ন কাজ করে। একটি কাকের মৃত্যু হলে সামাজবদ্ধ কাকদের মধ্যে তীব্র আবেগের সৃষ্টি হয় যা মানুষের মধ্যেও হয় না।

 

যে জাতিকে সর্বশ্রেষ্ট জাতি হিসেবে সৃষ্টি করেছে, দিয়েছে বিবেক বুদ্ধিমত্তার পরিচয়, সেতো সমাজে পারাপ্রতিবেশীদের সাথে মিলেমিশে বড় হয়। আদব কায়দার সাথে ছোট থেকেই বড় হয়। তা হলে কেন বিবেক, বদ্ধি থাকার পরেও বিবেকহীন কাজ করে।

 

পত্রিকা খুললেই দেখা যায় শিশু ধর্ষন, চাচা-ভাতিজিকে ধর্ষন, খালু-মেয়েকে ধর্ষন, ৭০ বছরর বৃদ্ধা কর্তৃক প্রাইমারী পড়–য়া ছাত্রী ধর্ষণ, আবার বাবা মেয়েকে ধর্ষন করছে, শিক্ষক ছাত্রীকে ধর্ষন করছে, শিক্ষক শিক্ষিকাকে ধর্ষণ করছে, পালাক্রমে গনধর্ষণ করে থেমে থাকেনা, তাকে হত্যাকরে উল্লাস করে। ধর্ষন এখন হয়ে গেছে সকালের পান্তাভাত খাবার মত। প্রতিনিয়ত যেমন খাবার খেতে হয় তেমনি খবারের মতো এটা কোন ধর্ষণ কোন ঘটনাই না।

 

যাকে আমরা ধর্ষন করি, সেতো আমার বোনেরমতো, সেতো আমার মেয়েরমতো, সেতো আমার ছোট বোন, সেতো আমার মেয়ে । তাহেলে তাকে ধর্ষন করবো কেন? তাকে হত্যা করবো কেন? এটাই আমার প্রশ্ন।
বাংলাদেশে ধর্ষণ বাড়ছে, বাড়ছে ধর্ষণের পর হত্যা । একই সঙ্গে বাড়ছে নিষ্ঠুরতা।আর এই ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওয়তায় তেমন আনা যাচ্ছেনা বলা চলে। এর কারণ, অনেকেরই আছে ক্ষমতার যোগ

সুনামগঞ্জে ৭বছরের শিশু ধর্ষণ ৪ এপ্রিল-২০১৮ সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ৭বছরের শিশুকে ধর্ষণ করেছে হাসান মিয়া (৪৫) শিশুটিকে তার সহযোগীরা জোড়ঁ করে মুখে চেপেঁ ধরে পাশের একটি ভবনে নিয়ে ধর্ষন করে। হাসান মিয়ার ৪৫ বছর বয়স হওয়া সত্যেও রেহাই পায়নী তার মেয়ের মতো নিস্পাপ মেয়েটি।

 

মাহফিল চলাকালে কন্যাশিশুকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ: প্রতিপক্ষের সাত বছরের এক অবুঝ কন্যাশিশুকে তুলে নিয়ে ধর্ষণে করেছে চল্লিশোর্ধ্ব এক যুবক। শিশুটিকে গুরুতর দেখে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঐ রাতে সলুক শাহ মাজার প্রাঙ্গণে বার্ষিক ওরস মাহফিল চলছিল। শিশুটি সেখানেই খেলা করছিল। তখন হাসান ও তার কয়েকজন সহপাঠী শিশুটিকে তুলে নিয়ে যায় এবং পাশের একটি স্থানে ধর্ষণ করে।’‘শিশুটির চিৎকারের আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হাসান ও তাঁর সহযোগীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে হাসানকে গ্রেপ্তার করে। মাহফিল চলাকালিনও রেহাই পায়নী বিবেকবান চল্লিশোর্ধ্ব এক যুবকের কাছ থেকে।

 

ভাতিজিকে’ ধর্ষণ শেষে হত্যা : লক্ষ্মীপুরলক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় মাদ্রাসাছাত্রী নুশরাত জাহান নিশুকে ধর্ষণের পর হত্যাকরে। নিহত নুশরাত রামগঞ্জের ফয়েজে রাসুল নুরানী মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ত। সে গ্রেপ্তার হওয়া রুবলের দুঃসম্পর্কের ভাতিজি। সদ্য বিবাহিত রুবেল ঢাকায় গার্মেন্টসের ব্যবসা করেন। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মপাড়া এলাকার ব্রিজের নিচ থেকে গত ২৬ মার্চ নুশরাতের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত ২৩ মার্চ দুপুরে আইসক্রিম খাওয়া ও টিভি দেখার কথা বলে রামগঞ্জের পশ্চিম নোয়াগাঁও গ্রামের রুবেল একই বাড়ির শিশু নুশরাতকে ঘরে ডেকে নেন। এরপর শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে লাশ চট দিয়ে বেঁধে ঘরের স্টিলের আলমারির ওপর রেখে দেন। এভাবেই লাশ দুদিন ঘরে ছিল। ২৫ মার্চ রাতে বন্ধু বোরহানের সহযোগিতায় নুশরাতের বস্তাবন্দি লাশ সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠান রুবেল। এরপর তা তিন কিলোমিটার দূরে রামগঞ্জের কাঞ্চনপুরের ব্রহ্মপাড়ার একটি ব্রিজের নিচে খালের পানিতে ফেলে দেন।

 

পিতাহারা ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষন করল আপন চাচার : যশোরে ৮ বছরের একটি শিশুকে আপন চাচ মোঃ আলআমিন ওরফে বাবু ৩০ মার্চ খোলাডাঙ্গা নদীর পারে মেহগনী বাগানে নিয়ে জোরকরে ধর্ষন করে। আপন চাচা ওকি মানুষ না মানুষরূপী হায়না। হায়নার কাছ থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়।

চলন্ত ট্রাকে এক কিশোরীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করলো চালক হেলপার। তারা গাজীপুর থেকে তুলে নিয়েছিলো কিশোরীকে। তারপর দুই নরপশু চলন্ত ট্রাকেই তাকে ধর্ষণ করে। নারায়ণগঞ্জে এসে ট্রাকটি থামলে জনতা মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পুলিশের তৎপরতায় চালক হেলপার আটকও হয়। তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।

এ ঘটনার রেশ এখনও কাটেনি। এরই মধ্যে চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ করে চালক হেলপারসহ তিনজন। ধর্ষণ করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি। মেয়েটির ঘাড় মটকে এবং মাথা থেঁতলে মৃত্যু নিশ্চিত করে রাস্তা ফেলে দিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুরো দেশ এখন নড়েচড়ে বসেছে। এর আগেও বেশ কিছু ধর্ষণ ঘটনা নিয়ে এমন নড়াচড়া করেছিল দেশ। ফলাফল শূন্য। চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ! পিতা কর্তৃক কন্যা ধর্ষণ! মসজিদের ভেতর ঈমাম কর্তৃক শিশু ধর্ষণ! বাসা থেকে তুলে নিয়ে ক্ষমতাসীনদের হাতে তরুণী ধর্ষণ!

 

বাড়ছে ধর্ষন, বাড়ছে হত্যা, দিন দিন অপরাধ জগতে এগিয়ে যাচ্ছে বিবেকবান মানুষগুলো অপরাধ জগতে। নেই কোন প্রতিকার। আর এই অপরাধগুলো বেশিই করছে প্রভাবশালী মহল। একটি মেয়েকে ধর্ষণ করার পর অভিযোগ নিয়ে থানায় গেলে নেওয়া হয়না মামলা প্রশাসনকে ফোন দিয়ে তার আগেই ম্যানেজ করে ফেলে। স্থানীয়ভাবে শালীষ বৈঠক করে উল্টা শাশিয়ে দিয়ে মোটামুটি ধামাচাপা দিয়ে রাখে। পরবর্তী সংকেত দেওয়া হয় এ নিয়ে বারাবারি করলে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। না হয় আবারো ধর্ষণ করে হত্যা করবো ইত্যাদি।

 

আর যেসব ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটছে তার ২০ ভাগের বেশি থানায় মামলায় হয় না শতকরা এক ভাগের বেশি শান্তি হয়না । বিচারহীনতা এবং ভয়ের সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণ অনেকটা অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে৷ বিচার না পাওয়ায় এখন অনেকেই আর মামলা করতে আগ্রহী হচ্ছেন না। আর ভয়ের কারণেও অনেকে মামলা করতে পারছেন না। সাহস পাচ্ছেন না। ক্ষমতা আর বিত্তের কাছে বিচার প্রার্থীরা অসহায় হয়ে পড়ছেন। আর যারা অপরাধী, তারাও জানে যে তাদের কিছু হবেনা। তাই তারাও নিবৃত্ত হয় না।”তিনি বলেন, এরসঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে ঘৃণার সংস্কৃতি। এমনভাবে ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়া হয় যে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। মানুষ নিজেকে গুটিয়ে নেন। বিচার চান না। আর যারাও ন্যায় বিচার পাওয়ার জন্য মামলা করে বিচারে গিয়ে গেখা যায ধর্ষক কিছুদিন পর সবার সামনে বুক ফুলিয়ে হাটছে। আরাও ধর্ষনের নেশাটাও একটু বেরে যায়। সঠিকভাবে পাচ্ছেনা ধর্ষীতার পরিবার কোন সু-বিচার ##

  • গোলাম মোস্তফা (জিএম বারী)