প্রাণ ফিরে পাচ্ছে খুলনা-কলকাতা রেললাইন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৭ | আপডেট: ৭:২৫:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৭
প্রাণ ফিরে পাচ্ছে খুলনা-কলকাতা রেললাইন

খুলনা-কলকাতা রেল রুটে আজ চালু হচ্ছে বন্ধন এক্সপ্রেস। এটি ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার আগেই বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হবে। আর গন্তব্য শেষে কলকাতায় হবে সে দেশের ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস কার্যাদি। পরীক্ষামূলকভাবে আজ চলবে। আর ১৬ নভেম্বর থেকে নিয়মিত এ ট্রেন চলাচল করবে। একই সঙ্গে চালু হবে দ্বিতীয় ভৈরব ও দ্বিতীয় তিতাস রেলসেতু।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সকাল সাড়ে ১১টায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের কার্যক্রম সুন্দরভাবে তদারকির জন্য সকাল ৯টায় দ্বিতীয় ভৈরব রেলসেতুর কাছে উপস্থিত থাকবেন রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক। প্রসঙ্গত ব্রিটিশ শাসনামলে খুলনা ও কলকাতার মধ্যে সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু ছিল। কিন্তু ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় এ ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্রিটিশ শাসনামলে কলকাতামুখী বরিশালের রেলযাত্রীরা স্টিমারে করে খুলনা আসতেন। খুলনা থেকে রেলে চেপে তারা কলকাতার শিয়ালদহ রেলস্টেশনে যেতেন। বরিশালে স্টিমারের টিকিট কেনার সময়ই রেলের ভাড়া একইসঙ্গে নেয়া হতো। অনুরূপ কলকাতার যাত্রীরাও একইভাবে টিকিট কিনে গন্তব্যে চলাচল করতেন। তাই আজ বন্ধন এক্সপ্রেস চালুর মাধ্যমে প্রাণ ফিরে পাবে খুলনা-কলকাতা রেললাইন। অবসান ঘটবে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় বন্ধ থাকা রেল চলাচলের অধ্যায়। বন্ধন এক্সপ্রেসে আসন থাকবে ১৫৬টি। থাকবে এসি সিট ও এসি চেয়ার। বন্ধন এক্সপ্রেসে এসি সিটের ভাড়া হবে ১৫০০ টাকা এবং এসি চেয়ারের ভাড়া ধরা হয়েছে ১ হাজার টাকা। ১৬ নভেম্বর থেকে এ ভাড়া কার্যকর হবে। খুলনা থেকে দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ছাড়বে বন্ধন। বেনাপোল অতিক্রম করবে দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে, পেট্রাপোল যাবে ৩টা ১৫ মিনিটে এবং কলকাতায় পৌঁছবে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে। আর কলকাতা থেকে রওনা হবে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে এর পর পেট্রাপোল অতিক্রম করবে ৮টা ৫৫ মিনিটে এবং বেনাপোল পৌঁছবে ৯টা ২০ মিনিটে। এর পর খুলনায় পৌঁছাবে ১২টা ৫ মিনিটে।
এদিকে ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে রুটে অন্তর্ভুক্তির জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে নির্মাণ করা হয়েছে দ্বিতীয় ভৈরব ও তিতাস সেতু। ভারতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি)’র অর্থায়নে নির্মাণ শেষে সেতুগুলো উদ্বোধনের পর পরই ট্রেন চলাচল শুরু হবে বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানান। এই সেতু দুটি চালুর ফলে ঢাকা-আখাউড়া সেকশন পর্যন্ত নিরবছিন্নভাবে ডাবল লাইনে উন্নীত হবে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রামে রেলপথে ১০ মিনিট যাত্রা সময় কমে যাবে।
জানা গেছে, ঢাকা চট্টগ্রাম পর্যন্ত ৩২০ কিলোমিটার রেলপথকে ডাবল লাইনে উন্নীতর অংশ হিসেবে দ্বিতীয় ভৈরব ও তিতাস সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়। সংযোগ রেলপথসহ প্রায় ১ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় ভৈরব রেল সেতুটি মেঘনা নদীর উপরে নির্মাণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় রেল সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। এছাড়া সংযোগ রেলপথসহ ২১৮ দশমিক ৭০ মিটার দীর্ঘ দ্বিতীয় তিতাস রেল সেতুটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া আখাউড়া তিতাস নদীর উপর নির্মাণ করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ৯৬৭ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারতের প্রথম এলওসি থেকে ৮৭৮ দশমিক ৬০ কোটি টাকা প্রকল্পে ব্যয় করা হয়। এছাড়া ৯৩ দশমিক শূন্য ২ টাকা সরকারি ফান্ড থেকে ব্যয় করা হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথটি একটি আন্তর্জাতিক রেল নেটওয়ার্ক। এই রেলপথটি দিয়ে বাংলাদেশের সাথে যুক্ত হবে রেলওয়ের সার্ক করিডোর, বিমসটেক, সাসেকসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ট্রান্স-এশিয়ান নেটওয়ার্ক। এই রেল রুটের মাধ্যমে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহ চট্টগ্রামে পোর্টে মালামাল পরিবহনের সুবিধা পাবে। এর ফলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ উদ্যোক্তারা আকৃষ্ট হবে বলে রেলওয়ে সূত্র জানায়। এ সম্পর্কে রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেছেন, ভারতের অর্থায়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে নির্মাণ করা হয়েছে দ্বিতীয় ভৈবর ও দ্বিতীয় তিতাস রেল সেতু। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথকে ডাবল লাইন করার অংশ হিসেবে এই সেতু দুটি নির্মাণ করা হয়েছে।