লামায় যুব উন্নয়ন অফিসে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি অভিযোগ ওঠেছে

মো.জাহিদ হাসান মো.জাহিদ হাসান

বান্দরবন জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:৩৯ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৩৯:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০১৮

লামা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ও কর্মচারীদের ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিয়মিত অফিস না করে সরকারী কাজে ফাঁকি দিয়ে মাসের পর মাস কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকছেন বলে জানা গেছে। প্রশাসনের উর্ধŸতন কর্মকর্তার চোখে ফাঁকি দিয়ে একের পর এক অনিয়ম দুর্নীতি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লামা উপজেলায় যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষিত বেকার যুবকদের ঋণ না দিয়ে সুদি মহাজনদের নামে-বেনামে একাধিক পরিবারের সদস্যদের নামে মোটা অংকের উৎকোচ গ্রহণ করে ঋণ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বেকার যুবককেরা যুব উন্নয়ন থেকে ঋণ না পেয়ে চক্রবৃদ্ধি সুদে মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ গ্রহণ করছে। আরো জানা গেছে, প্রতিবছর তামাকের মৌসুমে লামা পৌরসভার হরিণঝিরি এলাকার জনৈক নুরুজ্জামান এর নিকট থেকে উৎকোচ বিনিময়ে তাকে নামে-বেনামে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ দেয়া হয়। অথচ প্রকৃত যুবকেরা অর্থ অভাবে বেকারত্ব গুছাতে পারছেনা।

অপরদিকে একশ্রেণীর ঠিকাদাররা নামে-বেনামে ঋণ গ্রহণ করে ঠিকাদারী ব্যবসা বিনিয়োগ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তি জানান, সরকারী চাকরীজীবিরা যুব উন্নয়নের ঋণ গ্রহণ করছে। মধুঝিরি হালিমা বেগম জানায়, প্রশিক্ষণ দিয়েও ঋণের জন্য মাসের পর ঘুরেও ঋণ পাচ্ছিনা। একই এলাকার রীনা আক্তার বলেন, আমরা ৩০ জন মহিলা প্রশিক্ষণ দিলেও আমাদের কাছে মোটা অংকের ঘুষ দাবী করায় তা দিতে না পেরে আমরা ঋণ পাচ্ছিনা। আরেক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মমতাজ বেগম, শিউলী আক্তার, মরিয়ম বেগম ও হালিমা বেগম অভিযোগ করেন, ঋণের জন্য গেলে আমাদের সাথে দুরব্যবহার করে তাড়িয়ে দেয়। অফিসটি ভুতুড়ে গলিতে হওয়ায় আমরা নারীরা সেখানে গিয়ে নিরাপদ বোধ করছিনা। এদিকে অসহায় চিংকুম পাড়ার বাসিন্দা নুর উদ্দিন জানান, আমরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ঋণের জন্য গেলে আমাদের ঋণ দেয়া হয়নি। ঋণ নিতে হলে প্রাপ্ত ঋণের ২৫% টাকা ঘুষ হিসেবে দিতে হবে বলে অফিসের ঋণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা জানান। এছাড়া তামাকের দাদন ব্যবসায়ীদের সাথে আতাত করে অফিসের একশ্রেণীর কর্মচারীরা তাদের নামে-বেনামে ঋণের সুবিধা দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা জানান।

উত্থাপিত অভিযোগ সমূহের বিষয়ে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রলু প্রু জানান, ঋণ নিতে কোন প্রকার ঘুষ প্রয়োজন নেই। তবে কেউ নিয়ে থাকলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিয়মিত অফিসে হাজির না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, আমি ৪ উপজেলার দায়িত্বে থাকায় নিয়মিত লামা অফিসে আসতে পারিনা। তাছাড়া অফিসে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কোচিং পড়ানো কোন সুযোগ নেই। কিছু কিছু অনিয়মের বিষয়ে অনেকে আমাকে বলেছে।

এব্যাপারে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুব উন্নয়নের সমন্বয়কারী আবু তাহের বলেন, যুব উন্নয়নের হাজারো অভিযোগ শুনতে শুনতে কান ঝালাপালা হয়ে গেছে। পুরাতন কর্মচারীদের অন্যত্র বদলী করে নতুন করে অফিস ঢেলে না সাজালে এই সমস্যা সমাধান হবেনা।
এব্যাপারে লামা উপজেলা নিবার্হী অফিসার নুর এ জান্নাত রুমী বলেন, আমি নবাগত,যুব উন্নয়নের বিয়ষটি দেখা হবে তবে অনিয়ম হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email