বাজারে সুবাতাস সপ্তাহ পরেই!

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ২:১৪ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৭ | আপডেট: ২:১৪:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০১৭
বাজারে সুবাতাস সপ্তাহ পরেই!

প্রত্যাশা ছিল চলতি মাসে চাল, শাকসবজিসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের অস্বাভাবিক উচ্চমূল্য কিছুটা কমে আসবে। স্বস্তি পাবে দেশের মানুষ।
কিন্তু পরিস্থিতি এখনো অস্বস্তিকর। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো সাধ্যের নাগালে নামেনি। রাজধানীতেই শুধু নয়, দেশের অন্যান্য এলাকায়ও প্রায় একই পরিস্থিতি। বাজারে শীতের আগাম সবজি আসতে শুরু করলেও এর ইতিবাচক প্রভাব এখনো দেখা যাচ্ছে না।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী দু-এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি অনেকটাই সহনীয় হয়ে উঠতে পারে। বাজারে শীতের নতুন সবজি উঠতে শুরু করবে। খাল-বিল, নদী-নালার মাছ ধরা শুরু হয়ে যাবে। সেগুলো বাজারে এসে গেলেই দাম কমে আসবে। তা ছাড়া ভারতে নতুন পেঁয়াজ ওঠায় দাম কমে এসেছে; সেটা বাংলাদেশে আমদানি হয়ে সপ্তাহখানেকের মধ্যে এসে গেলে এখানেও পেঁয়াজের দাম কমে যাবে।
এদিকে নতুন রোপা আমন ধান উঠতে শুরু করেছে কোনো কোনো এলাকায়। গতকাল বুধবার ঢাকার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা ও চিকন দুই রকমের চালই কেজিতে ১৫ দিন আগের তুলনায় কমপক্ষে এক টাকা করে কমেছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমানে কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমানের ধারণা তেমনটাই। গতকাল কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, বাজারে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের, বিশেষ করে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ছে। এ অবস্থায় চড়া দাম টিকিয়ে রাখা যাবে না। ’

চড়া দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, খুচরা বাজারে বিক্রেতার সংখ্যা প্রয়োজনের অতিরিক্ত। তারা নিজেদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অল্প পণ্যে বেশি লাভের অপকৌশলে লিপ্ত। এ কারণে পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা বাজারে দামে ব্যবধান বেশি। আবার মধ্যস্বত্বভোগীও রয়েছে। কৃষকের ক্ষেত থেকে কৃষিপণ্য বাজারে পৌঁছানোর অপ্রকাশ্য অনেক খরচ আছে। সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে যারা বাজারের জায়গা বরাদ্দ পেয়েছে তাদের কাছ থেকে সেসব জায়গা সাব-লিজ নিয়ে কর্মচারী দিয়ে অনেকেই কারবার চালাচ্ছে। এত সব হাতের চাহিদা শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদেরই পূরণ করতে হচ্ছে। আরো একটি সমস্যা হচ্ছে, ক্রেতারা সংগঠিত নয় এবং তারা প্রতিবাদে সোচ্চার হতে পারে না। সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মতো সহনশীল ক্রেতা আর কোথাও নেই। এর বিপরীত অবস্থানে ব্যবসায়ীরা। গলার জোর ও দাবি তাদেরই বেশি। সরকারের ব্যবসাবান্ধব নীতির সুযোগ নিয়ে সাধারণ ক্রেতাদের জীবনযাপন দুর্বিষহ করে তুলছে তারা। ব্যবসায়ীরা ‘সরকার তো আমাদের’—এই আত্মগর্বে যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে।

অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, এই পরিস্থিতি হয়েছে বন্যার কারণে উৎপাদন কমে যাওয়ায়। কিন্তু ভুক্তভোগীরা বন্যাকেই একমাত্র কারণ মানতে রাজি নয়। তারা বলছে, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকাও এ অবস্থার জন্য দায়ী।

এ বিষয়ে গোলাম রহমানের প্রস্তাব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাজার পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি বিভাগ থাকা দরকার। ওই বিভাগ নির্দিষ্ট কতগুলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ, পরিস্থিতি, মূল্য—এসব পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে দাম বাড়াচ্ছে কি না, বাজারে প্রকৃত প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি রয়েছে কি না, সে সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে প্রযোজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে ওই বিভাগকে।

মূল্যবৃদ্ধির সরকারি তথ্য : সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) প্রতিবেদনেও এক বছর আগের তুলনায় বর্তমানে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির তথ্যের স্বীকারোক্তি রয়েছে। একই সঙ্গে কিছু পণ্যের দাম কমেছে বলেও জানানো হয়েছে।

এ সংস্থার গতকাল বুধবারের হিসাবে এক বছর আগের তুলনায় ঢাকায় চালের দাম মানভেদে কেজিপ্রতি ১৫.৭৯ থেকে ২৫.৫৩ শতাংশ বেশি। তবে এক মাস আগের তুলনায় ৩.৯১ থেকে ১০.২০ শতাংশ কমেছে।

ডালের মধ্যে মুগডালের দাম এক বছর আগের তুলনায় কেজিপ্রতি মানভেদে গড়ে ২৪.২১ শতাংশ বেশি। অবশ্য মসুর ডালের দাম ২৩.২৪ শতাংশ কম। পেঁয়াজের দাম মানভেদে বেড়েছে কেজিপ্রতি এক মাস আগের তুলনায় ৬১.১১ থেকে ৭১.৬৮ শতাংশ। আর এক বছর আগের তুলনায় বেশি ১৫৩.৮৫ থেকে ১৬৩.৬৪ শতাংশ। তবে রসুনের দাম কিছুটা কমতির দিকে। বিভিন্ন ভোজ্য তেলের মূল্য এক বছর আগের তুলনায় কেজিপ্রতি ২.০৫ থেকে ৮.৩৩ শতাংশ বেশি।

অন্যান্য মসলার মধ্যে দারচিনি এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে ১৪.২৯ শতাংশ। এ ছাড়া এলাচি ৬.৬৭ শতাংশ, ধনে ৭.৪১ শতাংশ, তেজপাতা ৩.৪৫ শতাংশ বেড়েছে। গুঁড়া দুধ এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানভেদে সর্বোচ্চ ৩.০৮ শতাংশ। ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে এক বছর আগের তুলনায় ৭.৪১ শতাংশ। গরুর মাংসের দাম এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে ১৬.৬৭ শতাংশ। একই সময়ের ব্যবধানে খাসির মাংসের দাম ২৬.০৯ শতাংশ বেড়েছে। মাছের মধ্যে রুইয়ের দাম বেড়েছে এক বছর আগের তুলনায় ৮.৩৩ শতাংশ।

তবে টিসিবির প্রতিবেদনে শাকসবজির বাজারদরের কোনো তথ্য নেই। সরকারের কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে এ সম্পর্কে তুলনামূলক কোনো তথ্য রাখা হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে সাম্প্রতিক বাজারদরের যে তথ্য জানানো হয়েছে তার সঙ্গে প্রকৃত বাজারদরের কোনো মিল নেই। ঢাকায় খুচরা বাজারের সাধারণ বেগুনের দাম উল্লেখ করা হয়েছে কেজিপ্রতি ৫৭ টাকা। কিন্তু বাস্তবে ৭০ টাকার নিচে কোনো বেগুন নেই। পেঁপের দাম উল্লেখ করা হয়েছে কেজিপ্রতি ২১ টাকা। কিন্তু বাস্তবে ৩০ টাকার নিচে কোনো পেঁপে নেই।

রাজধানীর বাজার : গতকাল আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক শওকত আলী রাজধানীর শুক্রাবাদ, ধানমণ্ডি, শংকর, মোহাম্মদপুর টাউন হল মার্কেট কাঁচাবাজার, হাতিরপুল, সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এসে জানান, এরই মধ্যে শীতের ছয়-সাত রকমের আগাম সবজি বাজারে এসেছে। এর মধ্যে মাঝারি সাইজের ফুলকপি, ছোট ছোট বাঁধাকপি, মুলা, শিম ও আমদানি করা নতুন গোল আলু। এসব সবজির দাম চড়া। ফুলকপি খুচরা বাজারভেদে প্রতিটি ৩০ থেকে ৫০ টাকা, যা পাইকারি বাজারে ১২ থেকে ১৫ টাকা। বাঁধাকপি খুচরা বাজারে প্রতিটি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা আর পাইকারিতে ১০ থেকে ১২ টাকা। লাল বরবটি প্রতি কেজি খুচরা বাজারে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা আর পাইকারি বাজারে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। মাঝারি আকারের মুলা কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, যা পাইকারি বাজারে ২৫ টাকা, বেগুন কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ১০০ টাকা, যা পাইকারি বাজারে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, শিম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, যা পাইকারি বজারে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, ঢেঁড়স কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, যা পাইকারিতে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আমদানি করা নতুন গোল আলু বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত দামে, যা পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। অন্যান্য সবজির দাম এখনো কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের গাউছিয়া সবজি ভাণ্ডারের বিক্রেতা কামাল মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নতুন সবজিগুলো বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে পরিমাণে কম বলে দাম বেশি। তবে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সবজির সরবরাহ আরো বেড়ে যাবে। তখন দামও পড়বে। ’ যদিও আরো প্রায় ২০ দিন আগে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেছিলেন, ১৫-২০ দিন পর থেকে সবজির দাম কমতে শুরু করবে।

কারওয়ান বাজারের সবজির পাইকারি বিক্রেতা আনিসুল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শীতের নতুন সবজি উঠতে শুরু করেছে। বাজরে আসছে, তবে পরিমাণে কম। ৮-১০ দিন পর সরবরাহ অনেক বাড়বে বলে আমরা খোঁজ নিয়েছি। তখন দাম এত বেশি থাকবে না। সরবরাহ পুরোদমে শুরু হলে দাম অর্ধেকে নেমে আসবে। ’

এ বাজারে দেশি পিঁয়াজ প্রতি কেজি ৭৬-৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮৫-৯০ টাকা পর্যন্ত। আর আমদানি করা পিঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৪-৫৫ টাকায়, যা খুচরা বাজারে ৬৫-৭০ টাকায়। মূলত পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয় ভারতে সংকট এবং দেশীয় ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটকে কেন্দ্র করে। আমদানি করা এই পেঁয়াজকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ব্যবসায়ীরা দেশি পেঁয়াজে অতিমুনাফা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্যারিফ কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারতের বাজারে পিঁয়াজের যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা কাটতে শুরু করেছে। কারণ নতুন পেঁয়াজ বাজারে এসেছে। দামও কমছে। এর ফলে ব্যবসায়ীরা আর অজুহাত খুঁজতে পারবে না। আগামী সপ্তাহের শুরুতেই এই পেঁয়াজগুলো দেশে ঢুকতে শুরু করবে। তখন দাম অনেক কমে নাগালের মধ্যে আসবে বলে আশা করছেন বাজারসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে ১৫-২০ দিনের ব্যবধানে এক-দুই টাকা করে কমেছে চালের দাম। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে আমন কাটার সময় হয়ে এসেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমন ধান বাজারে এলে নতুন চাল পাওয়া যাবে, যা চালের দাম আরো কমাতে প্রভাব রাখবে। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটা চাল স্বর্ণা প্রতি কেজি ৩৯-৪০ টাকায় পাইকারি বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৪৬ টাকায়। মিনিকেট চাল দোকান ও মানভেদে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৮ থেকে ৬২ টাকা পর্যন্ত। তবে সাধারণ মানের নাজিরশাইল চাল ৬২-৬৫ টাকায় বিক্রি হলেও উন্নতমানের নাজিরশাইল এখনো ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া মাঝারি মানের সরু চাল যেমন বিআর-২৮ (দুই প্রকারের) পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৪৮ টাকা পর্যন্ত দামে, যা খুচরা বাজারে ৫৫-৫৮ টাকা।

খাদ্য ভাণ্ডার রাইস এজেন্সির রুবেল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খুব দ্রুতই ধান কাটা শুরু হবে। নতুন চাল এলে দাম তো কমবেই। অনেক দিন ধরে মানুষের যে ভোগান্তি সেটা ধীরে ধীরে কমে আসবে। ’

এদিকে ইলিশের কারণে অন্য মাছের ওপর অনেকটাই চাপ কম। ৪০০-৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ ৪৫০-৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত দাম উঠছে। এ ছাড়া মাঝারি আকারের চাষের রুই মাছ প্রতি কেজি ২০০-২২০ টাকা, বড় আকারের রুই প্রতি কেজি ৩০০-৩২০ টাকা, টেংরা প্রতি কেজি ৪৫০-৬০০ টাকা, সরপুঁটি ১৩০-১৫০ টাকা, দেশি শিং ও মাগুর মাছ ৬৫০-৭০০ টাকা; যদিও চাষের শিং-মাগুর পাওয়া যাচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫০-৫৫০ টাকায়।

মূলত শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ায় পুকুর, খাল-বিল, নদ-নদী সব জায়গায় এখন পানি অনেক কমে গেছে। এটাই মাছ ধরার ভালো সময়। ফলে এই সময়ে বাজারে অনেক বেশি মাছ পাওয়া যায়। কারওয়ান বাজারের মাছ বিক্রেতা হেলাল মিয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা হচ্ছে মাছের সিজন। খাল-বিল থেকে পানি নামছে, সবাই এখন মাছ ধরবে। শীত পুরোদমে শুরু হতে হতেই প্রচুর মাছ বাজারে আসবে। এমনিতেই তো ইলিশের সরবরাহ ভালো থাকায় মাছের দাম কিছুটা কম। সামনে আরো কমবে বলে মনে হচ্ছে। ’

বগুড়ার পাইকারি মোকামের চিত্র : বগুড়া থেকে আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক লিমন বাসার জানান, এ অঞ্চলের সবজির অন্যতম পাইকারি মোকাম মহাস্থানহাটে এবার উল্টো চিত্র। শীতকাল ঘনিয়ে এলেও হাটে খুব বেশি বাড়ছে না সবজির সরবরাহ। দামও বাড়ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মহাস্থানহাটে পাইকারি পর্যায়ে বেশ কিছু শীতকালীন আগাম সবজির দাম কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আর খুচরা বাজারে এসব সবজিই আবার কেজি প্রতি আরো ১০ থেকে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার মহাস্থানহাটে প্রতি কেজি হাইব্রিড করলা পাইকারি পর্যায়ে কেনাবেচা হয়েছে ৪৫ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি করলার দাম ছিল ২৫ টাকা। এক হাত বদলের পর বগুড়ার ফতেহ আলী বাজারে এই করলা গতকাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়।

অন্যদিকে এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি হাইব্রিড মুলা এই হাটে কেনাবেচা হয়েছে ২৫ টাকা কেজিতে। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা বেড়ে গতকাল পাইকারি পর্যায়ে তা ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর এক হাত বদলের পর শহরের ফতেহ আলী বাজারে এসে এই মুলার দাম হয়ে যায় ৬০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে মহাস্থানহাটে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ছিল ৮০ টাকা। সপ্তাহ শেষে এই কাঁচা মরিচ কেনাবেচা হয়েছে প্রতি কেজি ৯০ টাকায়। আর ফতেহ আলী বাজারে গতকাল প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ছিল ১৪০ টাকা।

এক সপ্তাহ আগে মহাস্থানহাটে প্রতি কেজি শসা ৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সপ্তাহ শেষেও এই শসার দাম একই রয়ে গেছে। তবে বগুড়ার ফতেহ আলী বাজারে গতকাল প্রতি কেজি শসার দাম ছিল ৬০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে শীতকালীন ফুলকপি ও বাঁধাকপি কেজিতে ১৫ টাকা কমে গতকাল মহাস্থানহাটে পাইকারি পর্যায়ে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে ফতেহ আলী বাজারে প্রতি কেজি ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রায় দ্বিগুণ বেশি দামে বিক্রি হয়। এক সপ্তাহ আগে মহাস্থানহাটে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হয়েছে ১০০ টাকা কেজি দরে। গতকাল আরো ২০ টাকা বেড়ে তা ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক প্রতুল চন্দ্র সরকার বলেন, এ মৌসুমে ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজির চাষ হয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে এবার শীতকালীন সবজির চাষ বিলম্বিত হওয়ায় দেরিতে বাজারে আসছে।

সবজির দাম নাগালের বাইরে মানিকগঞ্জে : আমাদের স্থানীয় প্রতিনিধি সাব্বিরুল ইসলাম সাবু গতকাল জেলা শহরের তিনটি বাজার ঘুরে জানান, বেগুন বিক্রি হচ্ছে খুচরা ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে। ঝিঙা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ফুলকপি ৬০, প্রতি কেজি গোল বেগুন ৫০, করলা ৫০, মুলা ৪০ ও শসা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আকারভেদে লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ১০০ টাকায়। মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে আকারভেদে ৫০ থেকে ১৫০ টাকায়। আলু ২০ এবং পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে। পুঁইশাক, লালশাক, মুলাশাক বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, আগামী আট-দশ দিনের মধ্যে শীতের সবজি বাজারে উঠতে শুরু করবে। তখন দাম কমে আসবে।

নওগাঁয় ধান কাটা শুরু : স্থানীয় প্রতিনিধি ফরিদুল করিম জানান, তিন-চার দিন আগে ধান কাটা শুরু হয়েছে। কর্তনের পরিমাণ ৯ শতাংশ। জেলার ১১ উপজেলায় গতকাল পর্যন্ত ১৪ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে।

ধান ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন খান টিপু বলেন, হাট-বাজারে এখনো নতুন ধান ওঠেনি। এর জন্য এখনো ৮-১০ দিন অপেক্ষা করতে হবে। যেটুকু ধান হাটে কৃষকরা আনছে তা ধান কাটার খরচ মেটানোর জন্য। নতুন স্বর্ণা ধানের প্রাথমিকভাবে বাজারে দাম প্রতি ৩৭.৩২৪ কেজি (এক মণ) ৯০০ থেকে ৯১০ টাকা, গুটি স্বর্ণা প্রতি মণ ৮৬০ থকে ৮৭০ টাকা।