পবিপ্রবিতে মুক্তি পেল শর্টফিল্ম “আনকালচার্ড ” (ভিডিও)

প্রকাশিত: ১২:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৪৫:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০১৮

বাইরের সৌন্দর্য অথবা সুন্দর ও দামি পোশাক কখনোই একটি মানুষকে যাচাইয়ের মাপকাঠি হতে পারেনা। হয়তো মলিন পোশাকের আড়ালেও লুকিয়ে থাকে অনেক উদার ও ত্যাগি এক মানবিক সত্ত্বা।

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আনকালচার্ড’ নির্মিত হয়েছে এমনই এক বাস্তব কাহিনী অবলম্বনে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যনিমাল সাইন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের একদল তরুন নির্মাণ করেছে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি।

তাদের প্রতিষ্ঠিত মাইক্রোক্রিয়েশন স্টুডিওস  নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে এ পর্যন্ত তারা তিনটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র তৈরী করেছে। তৃতীয় এবং সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ আনকালচার্ড’ ইতিমধ্যে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে।এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছে উক্ত অনুষদের ৩য় বর্ষের ছাত্র তুখলিফুল মিয়াদ মইন।তাছাড়া অভিনয় করেছে উক্ত অনুষদের  নাইম হোসেন, সাকিব রহমান,শরীফ খান,মুজাহিদুল ইসলাম,তৃনি তৃপ্তার্থী,রুবাবা আলম,সাইমা ইসলাম সহ অনেকে।

বরাবরের মত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছে একই অনুষদের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সজীব আহমেদ প্রিন্স। এক বিবৃতিতে সে জানায়, ‘অনেক বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে শর্টফিল্ম বানাতে হয় আমাদের। চলচ্চিত্র তৈরীর তীব্র ইচ্ছায় আমাদের প্রধান হাতিয়ার। অর্থ সংকট থেকে শুরু করে প্রফেশনাল ক্যামেরা, ভালো কনফিগারেশন এর কম্পিউটার না থাকার পর ও আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে  সামর্থ্যানুযায়ী ভালো কিছু দর্শকদের উপহার দেওয়ার।যার কারনে আমরা চেষ্টা করি ভালো কোন গল্প রিপ্রেজেন্ট করতে।

স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটিতে অভিনয়কারী মূল চরিত্র তুখলিফুল মিয়াদ মঈন জানায় ‘মাত্র দুই দিনের শুটিং এ একটি ফিল্ম কম্পিলিট করা সত্যিই খুবি কষ্টসাধ্য একটি ব্যাপার ছিলো।নিজস্ব ক্যামেরা না থাকলে কাজ করাটা সত্যিই অনেকটা দুরুহ।আমরা খুবই অল্প সময়ের জন্য ক্যামেরা পেয়েছিলাম কাজ করার জন্য।যদি কোনো পিছুটান বা ধরাবাঁধা সময় আমাদেরকে দেয়া না হত তাহলে আমার বিশ্বাস এর থেকেও অনেক বেশি এক্সপ্রেশান আমরা দিতে পারতাম এবং ত্রুটি আরোও কমাতে সক্ষম হতাম।তবু এতটুকুই বলতে চাই আমাদের হাজার বাধা থাকার পরেও মনোবল ও পরিশ্রমের জন্য আমরা এই কাজটাতে এতদুর এগোতে পেরেছি।’

গল্পটির পটভূমি মূলত একটি বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবে প্রদর্শন করা হয়েছে, সচারাচর আমাদের আশেপাশে এমন অনেক আনকালচার্ড (আধুনিক কালো চশমার ভেতর থেকে বিচারকারী মানুষদের ভাষায়) মানুষ পাওয়া যায় যারা কিনা হয়তো অনেক ভালো পরিবার থেকেই এসেছে অথচ বাস্তবতার কষাঘাতে তার জীবন আজ নিরানন্দ,গায়ের পোশাক আশাক আর গর্জিয়াস ভাবের অভাব তাকে ঘিরে ধরে।এই মানুষগুলোর হয়তো প্রধান চিন্তার বিষয়ই হলো রুজির যোগাড় আর ভেঙ্গে  পড়া পরিবারের হাল ধরা,আর হয়তো এই ব্যস্ততা নিজেকে নিয়ে যায় আধুনিক সমাজের জাকজমকতা থেকে বহুদুরে যান্ত্রিক এক জীবনে।আনকালচার্ড এর গল্পটা সেইসব মানুষদেরকে উৎসর্গ করে।

 

আর্থিক এবং টেকনিক্যাল সাপোর্ট  ছাড়াও সকলের অনুপ্রেরণা  পেলে হয়ত এসব তরুনদের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ এ আরো ভালো কিছু পাওয়া  সম্ভব। তাই আসুন আমরা এই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রটি আমাদের আশেপাশের পরিচিত সবাইকে দেখার সুযোগ করি।