৮ই এপ্রিলের মধ্যে অগ্রিম প্রচার সামগ্রী সরানোর নির্দেশ

গাজীপুর-খুলনা সিটি নির্বাচন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:৪৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০১৮ | আপডেট: ৮:৪৩:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২, ২০১৮

গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের অগ্রিম প্রচারণা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে ইসি আগামী ৮ই এপ্রিল রাত ১২টার মধ্যে প্রচারণার কাজে ব্যবহৃত ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, বিলবোর্ড, দেয়াল লিখন, তোরণ, প্যান্ডেল অপসারণের নির্দেশ দিয়েছে।

 

গতকাল নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গাজীপুর ও খুলনা সিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ঢাকা ও খুলনার বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এ নির্দেশ দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে প্রচারণা সামগ্রী যথাযথভাবে সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে কমিশনকে অবহিত করার জন্য ওই চিঠিতে বলা হয়েছে। ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ই মে গাজীপুর-খুলনা সিটি করপোরেশনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য গত ৩১শে মার্চ ইসি তফসিল ঘোষণা করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের পোস্টার, ব্যানার, বিলবোর্ড, তোরণ, প্যান্ডেল, আলোকসজ্জা, দেয়াল লিখনসহ সব প্রচারসামগ্রী ও নির্বাচনী ক্যাম্প অপসারণ করা প্রয়োজন।

গাজীপুর-খুলনা সিটির নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার সামগ্রী থাকলে তা ৮ই এপ্রিল রাত ১২টার পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ খরচে অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুই সিটি করপোরেশনের প্রাধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ে অপসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য বিভাগীয় কমিশনারদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক ফোর্স দিতে বলা হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের। ইসির কর্মকর্তারা বলেছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রচার সামগ্রী না সরালে প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো প্রার্থীর পোস্টার-ব্যানার দেখা গেলে সিটি করপোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী তা হবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সর্বোচ্চ ছয় মাস কারাদণ্ড অথবা ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে। নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের জন্য নির্বাচন কমিশন প্রার্থিতাও বাতিল করতে পারে। এদিকে গাজীপুর-খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি তালিকা চেয়ে সব দলকে চিঠি দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

 

গতকাল ইসির যুগ্ম সচিব (চলতি দায়িত্ব) ফরহাদ আহাম্মদ খান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক বা সমপর্যায়ের পদাধিকারী বা তাদের নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরিত এই মর্মে একটি প্রত্যয়নপত্র থাকতে হবে যে, উক্ত প্রার্থীকে উক্ত দল হতে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তাই কোনো দল কোনো ব্যক্তিকে মনোনয়ন প্রদানের ক্ষমতা দিলে দলের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, পদবী, নমুনা স্বাক্ষরসহ একটি পত্র আগামী সাত দিনের মধ্যে রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে। এজন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শনিবার দুপুরে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা দুই সিটির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেন।

 

তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ১২ই এপ্রিল, যাচাই বাছাই ১৫ ও ১৬ই এপ্রিল, প্রত্যাহার ২৩শে এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ ১৫ই মে। গাজীপুর সিটিতে ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এ সিটিতে ভোটার ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। খুলনা সিটিতে ৩১টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে। এ সিটিতে ভোটার চার লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৬।