বয়সের সাথে সাথে তারুন্ন ধরে রাখবেন যেভাবে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৪৫:অপরাহ্ণ, মার্চ ৩১, ২০১৮
বয়সের সাথে সাথে তারুন্ন ধরে রাখবেন যেভাবে

হাল সময়ে বয়সের কাছে হার মানা কখনোই ঠিক নয়। মনটা তরুণ রাখাই জরুরি। আর একটু সচেতন হলে বয়সকে হার মানাতে নিজের ইচ্ছাই যথেষ্ট। আপনি নন, বয়সই হার মানবে আপনার কাছে।

 

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে যে স্বাভাবিক কোমলতা বা উজ্জ্বলতা থাকে, তা হারিয়ে যায়। কিছু কিছু নিয়ম মেনে চললে এই বুড়িয়ে যাওয়া ভাবকে ঠেকানো যায়। যেমন—সঠিক খাদ্য তালিকা মেনে চলা, নিয়মিত ত্বকের আর শরীরের ঠিকমতো যত্ন নেওয়া। বয়স হলে শরীর ও মনে আসে কিছু পরিবর্তন।

 

বয়সকে জয় করার মূলমন্ত্র কিন্তু ইতিবাচক চিন্তা আর তারুণ্য। তারুণ্য চিরকালীন। আপনার মন সজীব থাকলে কারো সাধ্য নেই আপনাকে বুড়িয়ে দেওয়ার। নিজের প্রতি মনোযোগ ও যত্ন আর সবসময় হাসিখুশি থাকার মূলমন্ত্র আয়ত্তে আনতে হবে নিজেকেই।

বয়সের কাছে হারতে মানা

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে যে স্বাভাবিক কোমলতা বা উজ্জ্বলতা থাকে, তা হারিয়ে যায়। কিছু কিছু নিয়ম মেনে চললে এই বুড়িয়ে যাওয়া ভাবকে ঠেকানো যায়। যেমন সঠিক খাদ্য তালিকা মেনে চলা, নিয়মিত ত্বকের আর শরীরের ঠিকমতো যত্ন নেয়া। বয়স হলে শরীর ও মনে আসে কিছু পরিবর্তন। যেমন ত্বকে দাগ বা ভাঁজ পড়া, ত্বকের রং পরিবর্তন, ত্বক ছাপিয়ে শিরা দৃশ্যমান হওয়া, শারীরিক অবকাঠামো ভেঙ্গে পড়া ইত্যাদি। এ সবকিছু মিলে যে ব্যাপারটি সবচেয়ে ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তা হলো মানসিক অবসাদ। ত্বকের ওপর বয়সের প্রভাব মূলত জীবনের চার অধ্যায়ে ভাগ করা যায় কৈশোর, তারুণ্য, মধ্য বয়স ও বার্ধক্য। কৈশোরে ত্বকের যে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়, তার পরিণতি মেলে তারুণ্যে। ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ার শুরুটা মধ্য বয়সে। এ বয়সে ত্বকে কোলাজেনের পরিমাণ প্রতিবছর শতকরা এক ভাগ কমতে থাকে। এতে চোখের চারপাশে ও কপালে দেখা দেয় বলিরেখা। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে খুব তাড়াতাড়ি। ত্বকনিঃসৃত তেলের নিঃসরণ কমে যায় বলে সহজেই ত্বকে দাগ পড়ে। বার্ধক্যে ত্বকের নিচে জমে থাকা চর্বি কমে যেতে থাকে বলে চামড়া বা ত্বক ঝুলে পড়ে।

যে ৫ খাবার যৌবন ধরে রাখে

নিয়মিত ব্যায়াম, মেডিটেশনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসটা ঠিক থাকলে বয়স আপনাকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। তারুণ্য সঙ্গী হবে আপনার। এজন্য খাদ্য তালিকায় রাখুন নিচে বর্ণিত ৫টি খাবার।

কমলালেবু: কমলালেবু খাওয়া শরীরের জন্য খুবই ভালো। কারণ এই ফলে ভিটামিন `সি` থাকে। ত্বক টানটান ও উজ্জ্বল রাখে কমলালেবু।

স্ট্রবেরি : স্ট্রবেরি হোক কিংবা ব্ল্যাকবেরি সবকটিই শরীরের জন্য ভালো। বিশেষ করে কালো জাম। এতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন `সি` থাকে। এই জাতীয় ফল ত্বককে রাখে সতেজ।

দধি: নিয়মিত দই খান। দইয়ে থাকা ব্যাকটেরিয়া শরীরের জন্য ভালো। দই বয়সজনিত কারণে হওয়া রোগগুলো প্রতিরোধ করে। দইয়ে ক্যালসিয়ামও থাকে।

অলিভ অয়েল: অলিভ তেল রোগ থেকে যেমন দূরে সরিয়ে রাখবে, তেমনি ত্বকে এনে দেবে উজ্জ্বলতা। যা আপনার বয়সকে সত্যিই কম করে দেখাবে।

মধু : মধু আপনার শরীর ও ত্বক উভয়ের জন্য উপকারী। যৌবন দীর্ঘায়িত করে মধু।

চেহারায় তারুণ্য ধরে রাখতে ব্যায়াম

 

তারুণ্য ধরে রাখতে ব্যায়াম

কপাল : দুহাতের তর্জনী আপনার চোখের ঠিক উপরের অংশে রাখুন। এবার ধীরে ধীরে ভ্রু উপরে তলার চেষ্টা করুন। আপনি ভ্রু জোড়া উপরের দিকে টেনে তুলুন এবং নিম্নমুখী যে ত্বক তাকে নিচের দিকে টেনে রাখুন। আপনার কপালকে সুন্দর ও বয়সের ছাপমুক্ত রাখতে এই ব্যায়াম প্রতিদিন ১০ বার করার চেচ্টা করুন।

ঠোঁট : একটি আঙ্গুল দুই ঠোঁটের মাঝে রাখুন এবং ঠোঁট বন্ধ করুন। যতটুকু জোর দিয়ে সম্ভব আঙ্গুলটি চুষতে থাকুন অন্তত ৩ সেকেন্ড এবং এরপর ছেড়ে দিন। আপনার ঠোঁটের চারপাশ মসৃন ও রিংকেলস থেকে মুক্ত রাখতে সহজ এই ব্যায়ামটি প্রতিদিন অন্তত ১৫বার করুন।

চোখ : ব্যায়াম শুরু করার আগে আপনার চোখ বন্ধ করুন এবং নিজেকে শিথিল করুন। এবার ধীরে ধীরে চোখ খুলে মাথা ও মুখের অবস্থান অপরিবর্তিত রেখে যতটা সম্ভব উপরের দিকে তাকান। আবার আস্তে আস্তে নিচের দিকে তাকান। এভাবে অন্তত ১৫বার চোখ উপর নীচ করুন। কার্যকর ফলাফলের জন্য দিনে অন্তত একবার এই ব্যায়াম করা জরুরি।

ভ্রু : ভ্রু`র ক্ষেত্রে প্রথমেই সোজা হয়ে বসুন। চোখ বন্ধ করুন এবং নিজেকে শিথিল করুন। এবার আপনার চোখের ভ্রু ধীরে ধীরে উপরের দিকে তুলুন। ২-১ সেকেন্ড পর ভ্রু স্বাভাবিক করুন। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যে এটা করার সময় আপনার চোখ যেন বন্ধ থাকে। আপনার চোখের চারপাশ সুন্দর ও রিংকেলস মুক্ত রাখতে প্রতিদিন অন্তত ১৫ বার এই ব্যায়াম করা প্রয়োজন।

যৌবন ধরে রাখার গোপন কৌশল!

মাছের তেল: মাছের তেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড যা দেহে বয়সের ছাপ রুখে দিতে সক্ষম। এই ওমেগা৩ ফ্যাটি অ্যাসিড দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করেন, কার্ডিওভ্যস্কুলার সিস্টেম ঠিক রাখে, চুলের সুস্থতা বজায় রাখে এবং ত্বকে বয়সের ছাপ রোধ করে। সুতরাং আপনি দেখতে যেমন তরুণ দেখাবেন তেমনই আপনার দেহও তারুণ্য অনুভব করবে। আপনি ভালো কোনো মাছের তেল পরিমিত খেতে পারেন নতুবা সপ্তাহে অন্তত ৩-৪ দিন মাছ রাখুন খাদ্যতালিকায়।

 

চিনিকে না বলুন: ডারমাটোলজিস্ট আভা সাম্ভান বলেন, ‘প্রসেসড চিনি, যা আমরা হরহামেশা খাই তা আমাদের ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী। কারণ, প্রসেসড চিনি আমাদের ত্বকের কোলাজেন টিস্যু দুর্বল করে এবং ত্বকের ইলাস্টিসিটি নষ্ট করে দেয়’। সুতরাং চিনিকে একেবারেই না বলুন।

পরিশ্রম করুন: চলাফেরা, হাঁটাহাঁটি, শারীরিক ব্যায়াম যেভাবেই হোক না কেন পরিশ্রম করুন নিজের তারুণ্য ধরে রাখার জন্য। শারীরিক পরিশ্রম পুরো দেহের রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে, পুরো দেহে সঠিক উপায়ে অক্সিজেনের সরবরাহ করে। এতে আমাদের দেহের প্রায় প্রতিটি কোষ সজীব হয় এবং আমাদের দেহ অনেক সুঠাম হয়। দেহে বার্ধক্য জনিত সমস্যা অনেক কম দেখা দেয়।

মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকুন: মানসিক চাপের কারণে ত্বকে বিশেষ করে মুখের ত্বকে রিংকেল পড়তে দেখা যায়। এছাড়াও চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ ধরা হয় মানসিক চাপকে। মানসিক চাপ শুধুমাত্র ত্বকেই বয়সের ছাপ ফেলে না এটি আপনার দেহকেও বুড়িয়ে ফেলে। মানসিক চাপ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করার বেশ বড় একটি কারণ। এছাড়া অনেকেই মানসিক চাপে পড়লে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। তাই মানসিক চাপ থেকে যতোটা সম্ভব দূরে থাকুন।

 

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন: মানবদেহের ৬০ শতাংশই পানি। দেহে পানির পরিমাণ কমে গেলে বিভিন্ন অসুস্থতা দেখা দেয়। একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি খাওয়া প্রয়োজন। তবে এর বেশি হলে আরও ভালো। দেহে প্রচুর পরিমাণে পানি সরবরাহ হলে দেহের ভেতরের বিভিন্ন শিরা উপশিরা ভালোভাবে কাজ করতে থাকে। বিশেষ করে এটি হজমক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। এছাড়া এটি ত্বকের নমনীয়তা, স্পন্দনশীলতা রক্ষা করে, দেহের দূষিত পদার্থ নিঃসরণ করে, অনিদ্রা দূর করে।

স্বাস্থ্যসম্মত খাবার: চিরতরুণ দেখাতে একটি সুষম খাদ্য তালিকা তৈরি করতে পারেন যেখানে বেশিরভাগ খাদ্যের মধ্যে থাকবে ফলমূল এবং সবজি। গরুর মাংসসহ বিভিন্ন মাংস থেকে দূরে থাকাই ভালো এবং সম্ভব হলে সামুদ্রিক কোনো খাবার খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে পারেন। পাউরুটি এবং শস্যদানা জাতীয় খাবারকে বিদায় দেয়া চিরতরুণ থাকার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল এনে দেবে।