আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্রের ত্রিমুখী লড়াই

ভোটের হাওয়া : ফরিদপুর-৪

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:০৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০১৮ | আপডেট: ৮:০৭:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩০, ২০১৮
আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্রের ত্রিমুখী লড়াই

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর, বাকী মিয়া, সদরপুর, মিজানুর রহমান, ভাঙ্গা ও আবুল কালাম, চরভদ্রাসন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের লক্ষণ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে ফরিদপুর-৪ (সদরপুর-ভাঙ্গা-চরভদ্রাসন) আসনে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর মধ্যে যেমন, তেমনি এ দুই দলের সঙ্গে আবার লড়াই হবে স্বতন্ত্র এমপি মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর। গত নির্বাচনে চমক দেখানো এই এমপি আগামী নির্বাচনে বড় দুই দলেরই মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের গৃহদাহ আর বিএনপির ভোট বর্জনের সুযোগে এ আসনের সাবেক এমপি কাজী জাফর উল্যাহর বিরুদ্ধে জয় পেতে বেগ পেতে হয়নি স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীকে। তখন বিএনপির একটি অংশ এই স্বতন্ত্র এমপির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। স্থানীয় রাজনীতির এই সমীকরণও নিক্সন চৌধুরীকে সুবিধা দিয়েছিল। তবে আগামী নির্বাচনে

বিএনপি অংশ নিলে এই নেতাকর্মীরা দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই অবস্থান নেবেন।

এদিকে, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহ আগামী নির্বাচনেও অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দলে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী মনোনয়নপ্রত্যাশী না থাকায় বেশ নির্ভার তিনি। তা ছাড়া ভোটারদের সঙ্গেও তার সম্পর্ক নিবিড়। এলাকার উন্নয়নেও তিনি ভূমিকা রাখছেন। সাংগঠনিক ক্ষেত্রে দলীয় কোন্দল মেটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করছেন তিনি। তবে নেতাদের অনেকের মতে, দলের স্থানীয় কিছু কর্মী-সমর্থক এখনও স্বতন্ত্র এমপি মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে রয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে কাজী জাফর উল্যাহ বলেন, দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। স্থানীয়রা এরই মধ্যে বুঝতে পেরেছেন, স্বতন্ত্র এমপি নৌকা প্রতীক নিয়ে ফিরে আসার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা সঠিক নয়। শুধু তাই নয়, স্বতন্ত্র এমপির বেশিরভাগ প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে সর্বস্তরের ভোটাররা আবারও নৌকা প্রতীকে আস্থা রেখে তাকে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী করবে বলে কাজী জাফর উল্যাহ মনে করছেন।

এদিকে, নিক্সন চৌধুরী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্কও ভালো। তা ছাড়া আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা তার পক্ষে থাকায় তিনি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন।

গত নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় নিজেকে ভাগ্যবানই মনে করেন মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী। তার মতে, এর ফলে এই এলাকার মানুষের কাছে তার দায়বদ্ধতা বহুগুণে বেড়েছে। তিনি বলেন, জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে তিনি সব সময়ই নিজেকে ব্যস্ত রাখছেন। তার দাবি, আওয়ামী লীগের তৃণমূলের বেশিরভাগ নেতাকর্মী তার সঙ্গে রয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দৃষ্টিতে, আওয়ামী লীগের কোন্দলের সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে আগামী নির্বাচনে এ আসনে জয় পাওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব নয়। গত নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী সহজ জয় পেয়েছিলেন। আগামী নির্বাচনে তিনি এ সুযোগ আর নাও পেতে পারেন।

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ আসনে দলটির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সুযোগে বিএনপি এরই মধ্যে দল গোছাতে শুরু করেছে। সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী না হলেও তারা ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শাহরিয়া ইসলাম শায়লা।

এ প্রসঙ্গে খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম জানান, তিনি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নির্দেশেই নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি কয়েক মাস ধরে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নেতৃত্ব দিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখছেন। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত থাকায় তিনি অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বা এখনও হচ্ছেন। তার ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেলে জনগণ তাকে বিজয়ী করবে বলে তিনি মনে করছেন।

শাহরিয়া ইসলাম শায়লাও নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। তার বিশ্বাস, বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে তিনিই দলের মনোনয়ন পাবেন। তিনি বলেন, মানুষের পাশে থেকে তিনি দলের জন্য কাজ করছেন। হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। তবুও তিনি দমে যাননি। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের খোঁজ নিচ্ছেন। সার্বিক সহযোগিতা করছেন। সেই ভোটাররাই তাকে প্রার্থী হওয়ার জন্য জোর তাগিদ দিচ্ছেন।

জাকের পার্টির চেয়ারম্যান পীরজাদা মোস্তফা আমীর ফয়সাল এ আসনে নির্বাচন করবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে তিনশ’ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সে ক্ষেত্রে মোস্তফা আমীর ফয়সাল এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে মনে করছেন পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা।

  • সমকাল