প্রেম করতে ভয় পান? আসুন জেনে নিই

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০১৮ | আপডেট: ৮:২৮:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৯, ২০১৮

শিশুকাল থেকেই মানবজীবনে ভালোবাসার অন্তর-চক্ষু সৃষ্টি হয়। মানুষ নানাভাবে ভালোবাসার স্বাদ নিতে থাকে। ফ্রয়েডের মতে ভালোবাসা বলতে কিছু নেই। তিনি মানব ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যৌনবাসনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। সব ক্ষেত্রে তিনি যৌনবাসনা দেখেছেন। শিশুর মল ত্যাগ করার সময় জায়গা বদল করে করে আনন্দ নিতে চায়। ফ্রয়েডের মতে এটি হচ্ছে, একজন শিশুর যৌন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ!

 

মানুষের জীবন চক্রটি এক অদ্ভুত প্রকৃতির। শিশুকালে ভালোবাসা নামক যে রসের সৃষ্টি হয়, সেটি ধীরে ধীরে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিপক্ব হতে থাকে। অর্থাৎ মনের মাঝে ভালোবাসার একটি জগৎ তৈরি হতে থাকে। কিশোর বয়সে ভালোবাসা জিনিসটি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। কিন্তু সে বয়সে তা মুখে প্রকাশ করতে পারে না। এ বয়সে লজ্জা বেশি কাজ করে বিধায় ভালোবাসা নামক জিনিসটি কিশোর-কিশোরী বয়সে খুব কষ্ট দিয়ে থাকে।লাইফস্টাইল এর ছবির ফলাফল

তেরো থেকে উনিশ বছর বয়সে জীবনের প্রেমের মহাপ্রলয় ঘটে। অনেক সময় এই বয়সী কিশোর-কিশোরীরা ভালোবাসার জন্য মা-বাবা, গুরুজন এমনকি সমাজকেও মানে না। তাদের হৃদয়ে সুনামি ঘটে যায়। সে সময় তাদের চোখ দিয়ে শুধু ভালোবাসা দেখে আর মনের গভীরে চিনচিনে ব্যথা অনুভব করে। ভালোবাসার জন্য সমাজ-পরিবার সব ত্যাগ করতে দ্বিধা করে না। তখন চোখের দৃষ্টি দিয়ে ভালোবাসা ছাড়া অন্য কিছু দেখে না।

 

প্রেম কত প্রকার ও কী কী?

মনের মত মন খুঁজে সত্যিকারের প্রেম করা এক ধরণের শিল্প। মুখে বললেও প্রেমের মানে বুঝতে সারা জীবন লেগে যায়। তাই প্রেমের কোনও নিদিষ্ট বয়স হয় না। প্রথম প্রেমের কোন নির্দিষ্ট বয়স নেই। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই খুব কম বয়সে প্রথম প্রেম এসে থাকে। প্রথম প্রেম বেশিরভাগ সময়ই আদতে প্রেম হয়না, সেটাকে বলা হয়ে থাকে মোহ। প্রথম প্রেম যে কারও সঙ্গে যে কোনও মুহূর্তে হতে পারে। প্রথম প্রেম ছাড়াও মনুষ্য জীবনে প্রেমের অনেক প্রকারভেদ আছে। কি সেই প্রকারভেদ সেটাই আজকের এই প্রতিবেদন থেকে দেখে নেওয়া যাক:

১. প্রথম দেখায় প্রেম: প্রথম দেখাতেই এই ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। এ ধরনের প্রেম অনেক ক্ষেত্রেই একতরফা হয়। ছেলেদের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়। এ ধরনের প্রেমে প্রায় অবধারিতভাবেই তৃতীয় পক্ষের সাহায্যের দরকার পড়ে। এ ধরনের প্রেমের সূত্রপাতে রূপ স্মরণীয় ও দৈহিক সৌন্দর্যের ভূমিকাই বেশি।

২. মোবাইল প্রেম: বন্ধুর কাছ থেকে চেয়ে নিয়ে বা ফোনবুক থেকে চুরি করে, পাড়ার ফোনের দোকান থেকে সংগ্রহ করে, অন্য কোন সূত্র থেকে নাস্বার পেয়ে বা নিতান্তই মনের মাধুরী মিশিয়ে কোন নাম্বার বানিয়ে তাতে ফোন করে কোন মেয়ের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে এই ধরনের প্রেমের সূত্রপাত।

৩. ইন্টারনেটে প্রেম: ইন্টারনেটে চ্যাটিংয়ে বা সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রেম এটা এখন হামেশাই হচ্ছে। দু’জনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে এ ধরনের প্রেমের সূত্রপাত। এ ধরনের প্রেমে উভয়পক্ষেরই ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থাকে অনেক।

৪. বন্ধুত্ব থেকে প্রেম: এই ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে প্রেমিক ও প্রেমিকা দু’জনেই প্রথমে বন্ধু থাকে। তবে এধরনের প্রেম অনেক সময়ই অকালে ঝরে যায় কোন একতরফা সিদ্ধান্ত বা পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে। অনেকে বন্ধুত্বের এই রূপান্তর মেনে নিতে পারেনা বলে অনুশোচনায় ভোগে। বিশেষত মেয়েরা।

৫. বিবাহোত্তর প্রেম: এই প্রেম শুধুমাত্র স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে দেখা যায়। বিয়ের ঠিক পর পর প্রথম কয়েক মাস এই প্রেম প্রবল থাকে। বিবাহোত্তর প্রেম ফলাতে হানিমুনের জুড়ি নেই।

৬. পরকীয়া প্রেম: বিয়ের পর স্বামী বা স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন পুরুষ বা মহিলার সঙ্গে প্রেমকেই পরকীয়া প্রেম বলে। এই পরকীয়া প্রেমতো আদিযুগ থেকে চলে আসছে।

৭. ঘানি টানা প্রেম: প্রেমিক বা প্রেমিকার কাছ থেকে কোন বিশেষ সুবিধা লাভই এ ধরনের প্রেমের উদ্দেশ্য। মেয়েদের মধ্যে এ ধরনের প্রেমের প্রচলন বেশি দেখা গেলেও ছেলেদেরকেও মাঝে মাঝে করতে দেখা যায়।

৮. ‘আজো তোমায় ভালোবাসি’ প্রেম: এই প্রেমে প্রেমিক-প্রেমিকার বিচ্ছেদ ঘটেছে আগেই। তবুও আজো তারা একে অপরকে ভালোবাসেন। হাই হুতাশ আর চোখের পানিতেই কেটে গেলো এই প্রেম।

৯. অপরিণত প্রেম: এ ধরনের প্রেম সাধারণত স্কুলে পড়ুয়া অবস্থায় হয়ে থাকে। মেয়েরাই এ ধরনের প্রেমে বেশি পড়ে। তবে ছেলেরাও যে পড়ে না তা বলা ভুল হবে। প্রেমিক প্রেমিকাদের দু’জনই সমবয়সী হতে পারে।

১০. ত্রিভুজ প্রেম: এ ধরনের প্রেমকে বলা যেতে পারে একজন মেয়েকে নিয়ে দু’জন ছেলের দড়ি টানাটানি। একই মেয়ের প্রতি দু’জন ছেলের ভালোবাসা এই প্রেমের মূলকথা। উক্ত মেয়েকে পেতে দু’জন ছেলেই পাওয়ার জন্যে মরিয়া হয়ে থাকে।

১১. বহুভুজ প্রেম: একই মেয়ে বা ছেলের প্রতি দু’এর অধিক ব্যাক্তির অনুরাগই মূলত, বহুভুজ প্রেম। এক্ষেত্রে উক্ত মেয়ে বা ছেলেটি স্বভাবতই দৃষ্টিকাড়া সৌন্দর্যের অধিকারী হয়ে থাকেন। সবাই তার সাথে প্রেম করতে চায় এই বিষয়টি তাকে ব্যাপক আনন্দ দেয়।

১২. কর্মক্ষেত্রে প্রেম: কর্মসূত্রে দু’জন মানুষের পরিচয়ের মাধ্যমে এ ধরনের প্রেম গড়ে ওঠে। বেসরকারী সংস্থাতে এ ধরনের প্রেম বেশি দেখা যায়।

১৩. ভাড়াটে প্রেম: এ ধরনের প্রেমের প্রেমিক বা প্রেমিকারা বলতে গেলে ভাড়া খাটে। তারা সকালে একজনের গার্লফ্রেন্ড তো বিকেলে আরেকজনের। কোন নির্দিষ্ট ঠিক ঠিকানা নেই। ব্যাপারটা অনেকটা মাসে মাসে মোবাইল হ্যান্ডসেট চেঞ্জ করার মতো।

১৪. চুক্তিবদ্ধ প্রেম: এ ধরনের প্রেম হয় পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে। সাধারণ অর্থে প্রেম বলতে যা বোঝায় তা এই ধরনের প্রেমে অনুপস্থিত থাকে। কোন ভবিষ্যৎ থাকেনা এসব সম্পর্কের।

১৫. অব্যক্ত প্রেম: নীরবে এক অপরকে ভালোবেসে গেলেও পরিস্থিতি, সময় বা মনোবলের অভাবে প্রেমিক বা প্রেমিকার মধ্যে কেউই একে অপরকে কোনোদিন বলেনি। অব্যক্ত প্রেম হারানোর বেদনা খুব কষ্টদায়ক, জীবনের অন্যতম বড় ভুল হিসেবে মনে থাকে।

১৬. সুপ্ত প্রেম: একে অপরকে ভালোবাসে কিন্তু কেউই কাউকে বলছে না, পুরো ব্যাপারটাই লুকিয়ে যাচ্ছে এমন প্রেমই সুপ্ত প্রেম। সুপ্ত প্রেম আজীবন সুপ্ত থেকে গেলে তা পরিণত হয় অব্যক্ত প্রেমে।

১৭. অসাম্প্রদায়িক প্রেম: এ ধরনের প্রেমের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়ে দু’জনে দুই ধর্ম বা সম্প্রদায়ের অনুসারী হয়ে থাকে। সমাজ এ ধরনের সম্পর্ককে সমর্থন করেনা। বিশেষত, হিন্দু-মুসলমান ছেলে-মেয়ের মধ্যে প্রেম বেশি বিতর্কের সৃষ্টি করে।

১৮. ঝগড়াটে প্রেম: সারাক্ষণ দু’জনের মধ্যে খিটির-পিটির লেগে থাকাটা এই প্রেমের বৈশিষ্ট্য এ ধরনের প্রেমে ঝগড়াগুলো ক্ষণস্থায়ী হয়, কিন্তু খুব ঘনঘন হয়। ঝগড়াগুলো অধিকাংশই হয় ফোনে।

১৯. ব্যর্থ প্রেম: সবশেষে আছে ব্যর্থ প্রেম। এ প্রেম শুরু হবার আগেই শেষ হয়ে যায়। ব্যর্থ প্রেমিকার চাইতে ব্যর্থ প্রেমিকের সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি। ব্যর্থ প্রেমের শেষটা হয় প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান দিয়ে। কখনো কখনো ছেলেদের ভাগ্যে জোটে থাপ্পড়, মেয়েদের জুতার বাড়ি আবার কখনও উধুম গণধোলাই।

প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়ে বা প্রতারণার শিকার হয়ে অনেক নারী/পুরুষই আর কখনই প্রেমের সম্পর্কে না জড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন কিন্তু এমন অনেকে আছেন যারা এরকম কোন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন না হয়েও কখনো প্রেম করতে চান না। এমনকি কেউ তাকে সত্যিই অনেক ভালোবাসে, এমনটা জানার পরও তারা নিজেদের সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। মগ্ন থাকেন শুধু নিজের মধ্যেই। প্রেম সংক্রান্ত এই ভয়ের একটা বৈজ্ঞানিক নামও কিন্তু আছে। যেটিকে বলা হয় ফিলোফোবিয়া।

লাইফস্টাইল এর ছবির ফলাফল

অনেক মানুষই তার চারপাশে অনেক খারাপ সম্পর্কের অভিজ্ঞতার সামনা-সামনি হতে হতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ার উপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী মানসি হাসান বলেছেন, ‘যেসব মানুষ তাদের চারপাশে পরিবার বা বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে অনেক দাম্পত্য কলহ দেখেন বা বাজে প্রেমের সম্পর্ক দেখেন তারা কিছুটা বিতৃষ্ণা থেকেই প্রেম ব্যাপারটাকে দূরে সরিয়ে রাখেন। তারা হয়তো কখনো অনুধাবন করেন না যে, তাদের নিজেদের জীবনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অন্যরকমও ঘটতে পারে। কিন্তু চারপাশের খারাপ অভিজ্ঞতা থেকে তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন যে, কখনো প্রেম করার মতো ভুল করবেন না!’প্রেম এর ছবির ফলাফল

এছাড়াও আরও কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন-

প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার ভয়:-

প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার আতঙ্ক বেশিরভাগ সম্পর্কগত ইস্যুরই সাধারণ একটা সমস্যা। অনেকেই কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কোন সম্পর্কে জড়াতে চান না প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে এই আতঙ্কে। হয়তো কারো প্রতি ঐ নারী/পুরুষের অনেক আবেগ-অনুভূতি আছে। কিন্তু তারপরও দায়িত্বশীল একটা সম্পর্কে জড়ানোর ভয়ে তিনি প্রত্যাখ্যান করেন ঐ মানুষটিকে। সে সময় তিনি হয়তো মাথায় আনবেন প্রেমের সম্পর্ক গড়ার সব নেতিবাচক চিন্তাগুলো। আর শেষে ঘোষণা করবেন, ‘আমি একাই ভালো আছি, কোন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কের চেয়ে।’প্রেম এর ছবির ফলাফল

ভুল মানুষের সাথে প্রেমের ভয়:-

মেয়েরা সব চাইতে বেশি ভয় পান ভুল মানুষের সাথে প্রেমকে। দেখা গেলো অনেক চিন্তা ভাবনা করেই প্রেমের সম্পর্কে জড়ালেন কিন্তু পরবর্তীতে সেই মানুষটিই ভুল মানুষ হিসেবে জীবনে ঝড় তুলে দিয়ে গেলেন। এই ধরনের ভয়ে মেয়েরা প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে চান না। কারণ ভুল মানুষের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে কষ্ট পাওয়ার থেকে একাকী জীবন অনেক আনন্দের।

আপত্তিকর ঘটনার শিকার হওয়ার ভয়:-

ইদানিংকার প্রেমের সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রেই শুধুমাত্র দেহ সর্বস্ব। বলতে বা শুনতে খারাপ লাগলেও এটিই আমাদের সমাজের বর্তমান দৃশ্য। অনেক সময় নিজের প্রেমিকের দ্বারাও অনেক মেয়েরা শোষিত হন। এই ধরণের আপত্তিকর ঘটনার ভয়েও অনেক মেয়েরা প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে ভয় পান।

পরিবারের ভয়:-

প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোতে পিছিয়ে যাওয়ার অন্য একটি কারণ হচ্ছে পরিবারের ভয়। একটি ছেলের তুলনায় একটি মেয়ে এই দিক থেকে অনেক বেশি অসহায়। মেয়েটি তার পরিবারের কাছে বাঁধা। যদি পরিবারের মানুষজনের মত না থাকে তবে মেয়েটির কিছুই করার থাকে না। শুধু কষ্ট পাওয়া ছাড়া। অনেক ছেলেই পরিবারকে মানিয়ে নিতে পারেন কিন্তু মেয়েরা অনেক ক্ষেত্রেই পারেন না। এই ভয়ের কারণেই মেয়েরা পিছিয়ে আসেন সম্পর্কে জড়ানোর থেকে।প্রেম এর ছবির ফলাফল

বন্ধু হারানোর ভয়:-

ওই ছেলে বা মেয়ের সাথে কথা বলবে না, বন্ধুদের আড্ডায় বেশি যাবে না, ঘরে থাকো, বন্ধুদের সাথে খুব বেশি মিশবে না ইত্যাদি কথার পাশাপাশি সারাক্ষণ একসাথে থাকার কারণে বন্ধু বান্ধব হারিয়ে যায় জীবন থেকে। নিজের একলা সময়েও কোনো বন্ধুর কাছে যাওয়া সম্ভব হয় না তখন। এই ধরণের বন্ধু হারানোর ভয়েও অনেকে প্রেমের সম্পর্কে জড়াতে চান না।

 

মানুষ প্রেমে পড়ে বা প্রেম করে কেন?

মাঝে মাঝে দেখা যায় কারো কারো প্রেমের আবেগ কমে যায়। তার কারণ মস্তিষ্ক থেকে ওই হরমোনগুলো নিঃসৃত হয় না। আবার এও দেখা গেছে যে কোনো মানুষের শরীরে কৃত্রিমভাবে এই হরমোন রসায়ন প্রয়োগ করা হলে তাদের মাঝে সেই প্রেমের অনুভূতি হয়।

প্রেম এর ছবির ফলাফল

দুই প্রেমিক প্রেমিকার সদা ঘোর লাগা অবস্থার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কি? এ নিয়ে রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ববিদ হেলেন ফিশার এবং স্নায়ুচিকিৎসক লুসি ব্রাউন, আর্থার অ্যারোন প্রমুখ বিজ্ঞানীরা প্রায় ৪০ জন প্রেমে পড়া ছাত্রছাত্রীদের উপর এক গবেষণা চালান। তাদের গবেষণার ধরনটি ছিলো এরকমের। প্রেমিক-প্রেমিকাদের সামনে তাদের ভালবাসার মানুষটির ছবি রাখা হল, এবং তাদের মস্তিষ্কের ফাংশনাল এমআরআই (fMRI) করা হলো। দেখা গেলো, এ সময় তাদের মস্তিষ্কের ভেন্ট্রাল এবং কডেট অংশ উদ্দিপ্ত হচ্ছে, আর সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে ডোপামিন নামক এক রাসয়ায়নিক পদার্থের নিঃসরণ ঘটছে। অবশ্য কারো দেহে ডোপামিন বেশি পাওয়া গেলেই যে সে প্রেমে পড়েছে তা নাও হতে পারে। আসলে নন-রোমান্টিক অন্যান্য কারণেও কিন্তু ডোপামিনের নিঃসরণ বাড়তে পারে। যেমন, গাঁজা কিংবা কোকেইন সেবন করলে। সেজন্যই আমরা অনেক সময়ই দেখি ভালবাসায় আক্রান্ত মানুষদের আচরণও অনেকটা কোকেইনসেবী ঘোরলাগা অবস্থার মতোই টালমাটাল হয় অনেক সময়ই।

প্রেম এর ছবির ফলাফল

তবে ভালবাসার এই রসায়নে কেবল ডোপামিনই নয় সেই সাথে জড়িত থাকে অক্সিটাইসিন, ভেসোপ্রেসিনসহ নানা ধরনের বিতিকিচ্ছিরি নামের কিছু হরমোন। বিজ্ঞানীরা বলেন, এই হরমোনগুলো নাকি ‘ভালবাসা টিকিয়ে রাখতে’ মানে প্রেমিক প্রেমিকার বন্ধন দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করে। এমনকি বিজ্ঞানীরা এও বলেন কেউ মনোগামী হবে না বহুগামী হবে – তা অনেকটাই কিন্তু নির্ভর করছে এই হরমোনগুলোর তারতম্যের উপর। দেখা গেছে রিসেপটর বা গ্রাহক জিনে ভেসোপ্রেসিন হরমোনের আধিক্য থাকলে তা পুরুষের একগামী মনোবৃত্তিকে ত্বরান্বিত করে। বিজ্ঞানীরা প্রেইরি ভোলস আর মোন্টেইন ভোলস নামক দুই ধরনের ইঁদুরের উপর গবেষণা চালিয়ে তারা দেখেছেন, একগামিতা এবং বহুগামিতার মত ব্যাপারগুলো অনেকাংশেই হরমোনের ক্রিয়াশীলতার উপর নির্ভরশীল। এমনকি বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম উপায়ে ভেসোপ্রেসিনের প্রবাহকে আটকে দিয়ে একগামী ইদুঁরকে বহুগামী, কিংবা অতিরিক্ত ভেসোপ্রেসিন প্রবেশ করিয়ে বহুগামী ইঁদুরকে একগামী করে ফেলতে সমর্থ হয়েছেন।