আ. লীগ বিএনপিতে হবে সেয়ানে লড়াই

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:১৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ৭:১৫:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০১৮
আ. লীগ বিএনপিতে হবে সেয়ানে লড়াই

ডেস্ক রিপোর্ট : টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন ঘিরে উৎসবে মেতেছেন ভোটার ও প্রার্থীরা। প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা মতবিনিময়, উঠান বৈঠকসহ নানাভাবে প্রচার চালাচ্ছেন। নিজের বাক্সে ভোট আনতে ভোটারদের বিভিন্নভাবে বোঝাচ্ছেন। বিজয়ী হলে ব্যাপক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। আগামী ২৯ মার্চ হবে এই নির্বাচন।

ঘাটাইলের পাহাড়িয়া এলাকাখ্যাত তিনটি ইউনিয়ন ভেঙে সংগ্রামপুর, সন্ধানপুর, রসুলপুর, ধলাপাড়া, লক্ষ্মীন্দর ও সাগরদীঘি নামে ছয়টি ইউনিয়ন গঠন করা হয়। ২০১৬ সালে উপজেলার আট ইউনিয়নে নির্বাচন হলেও আইনি জটিলতায় নবগঠিত ও পুনর্গঠিত এই ছয় ইউনিয়নে নির্বাচন হয়নি। পরে আইনি বাধা কাটিয়ে আগামী ২৯ মার্চ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন ঘিরে দম ফেলার ফুসরত নেই প্রার্থী ও তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের। ভোটারদের মন জয় করতে তাঁরা চালাচ্ছেন ব্যাপক প্রচার। হাট-বাজার, চায়ের দোকান-মাঠে সর্বত্র চলছে ভোট নিয়ে আলোচনা। চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকলেও মূল আলোচনা আওয়ামী লীগ-বিএনপির প্রার্থীদের ঘিরে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাও হবে এই প্রার্থীদের মধ্যে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বসে নেই। সবাই নিজেদের জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিতে আদা-জল খেয়ে মাঠে নেমেছেন।

ছয় ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের চেয়ে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। চেয়ারম্যান পদে একটি ইউনিয়নে বিদ্রোহী ছাড়া অন্য ইউনিয়নে বিএনপির একজন করে প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম লেবুর সঙ্গে এ আসনের (টাঙ্গাইল-৩ : ঘাটাইল) সংসদ সদস্য (এমপি) আমানুর রহমান খান রানার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত এমপি রানা কারাগারে থাকলেও পাহাড়িয়া এলাকায় তাঁর প্রভাব রয়েছে। এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে। ফলে বিএনপি অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ের হাসি হাসতে পারেন। এসব নিয়ে ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলছেন না।

সাগরদীঘি ইউনিয়নের ভোটার খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন জমে উঠেছে। লড়াই হবে আওয়ামী লীগ বিএনপির মধ্যে। তবে এমপি রানার প্রার্থীও খেলা দেখাতে পারে।’ লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইউনিয়নে এখন ভোটের উৎসব শুরু হয়েছে। আমাদের (ভোটারদের) এখন খুব দাম। সবাই খোঁজখবর নিচ্ছে। কে জিতবো তা বুঝা যাচ্ছে না। হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে মনে হচ্ছে।’

ছয় ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সংগ্রামপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে চারজন প্রার্থী আছেন। আওয়ামী লীগ মনোনীত উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহিম, বিএনপি মনোনীত মাহবুবুর রহমান পালন, এমপি রানার অনুসারী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন বাবু, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইব্রাহিম।

সন্ধানপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী পাঁচজন। আওয়ামী লীগের মো. মতিয়ার রহমান সরকার, বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম শহীদ, নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মো. রুহল ইসলাম রিপন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সুলতান মাহমুদ, মো. শরিফুল ইসলাম সাইদ।

রসুলপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী চারজন—আওয়ামী লীগের শহিদুল ইসলাম, বিএনপির উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শামছুল আলম, এমপি রানার অনুসারী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. এমদাদুল হক সরকার ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম।

লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়নে পাঁচজন প্রার্থী—আওয়ামী লীগের মো. আব্দুল আজিজ, বিএনপির উপজেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোফাজ্জল হোসেন, এমপি রানার অনুসারী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. এসকান্দর হক, স্বতন্ত্র প্রার্থী সুজন চন্দ্র ও মো. একাব্বর আলী।

ধলাপাড়া ইউনিয়নে প্রার্থী পাঁচজন—আওয়ামী লীগ মনোনীত শফিকুল ইসলাম, বিএনপি মনোনীত মো. এজহারুল ইসলাম ভূঁইয়া মিঠু, এমপি রানার অনুসারী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রবিউল ইসলাম সেন্টু, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নাজিবুল হক ঝন্টু, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম লেবু।

সাগরদীঘি ইউনিয়নে পাঁচজন প্রার্থী—আওয়ামী লীগ মনোনীত বর্তমান চেয়ারম্যান মো. হেকমত সিকদার, বিএনপির মামুনুর রশিদ বাদশা ভূঁইয়া, এমপি রানার অনুসারী মো. শাহাদৎ হোসেন সিকদার, অন্য দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম ও মো. হাবিবুল্লাহ বাহার।

ছয় ইউনিয়নে প্রার্থীসংখ্যা ২৯২। তাঁদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ২৮ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১৯৮ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৬৬ জন। ভোটারসংখ্যা এক লাখ ১২ হাজার ৭২৫ (পুরুষ ৫৫ হাজার ৯৩০ ও মহিলা ৫৬ হাজার ৭৯৫)। উপজেলা নির্বাচন কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সূত্র : কালের কণ্ঠ