অর্থের লোভে মা-মেয়েকে হত্যা, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৪

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:১২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৪৩:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০১৮
অর্থের লোভে মা-মেয়েকে হত্যা, মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৪

সুশান্ত সাহা : অর্থের লোভে নিজের খালা সুজাত চিরানের (৪২) ও নানী বেসেথ চিরান (৬৫) হত্যা করেন সঞ্জীব ও তার বন্ধুরা। এক মাস আগে সঞ্জীব ও তার তিন বন্ধু মিলে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করে। সঞ্জিব ধারণা করে খালার পরিবারের সবাই চাকরী করে তাই তাদের বাসায় ৫-৬ লাখ টাকা থাকতে পারে। আসন্ন স্টার সানডে উপলক্ষে আনন্দ ফুর্তি করার জন্য এ চুরির পরিকল্পনা করে তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ানের (র‌্যাব) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

তিনি বলেন, হত্যাকারীরা ঘটনার পর শেরপুরের নালিতাবাড়িতে ফিরে যায়। তারা আত্মগোপন করতে অবৈধপথে পাশের কোনও দেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় র‌্যাব-১ এর একটি দল শেরপুরের নলিতাবাড়ি এলাকায় থেকে রাজধানীর গুলশানের উত্তর কালাচাঁদপুরে সুজাত চিরান ও তাঁর মা বেসেথ চিরান হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী সুজাতের ভাগ্নে সঞ্জীব চিরান ও তাঁর তিন বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। অন্য তিনজন হচ্ছেন প্রবীন সাংমা, শুভ চিসিম ওরফে শান্ত এবং রাজু সাংমা ওরফে রাসেল। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছে ।

মুফতি মাহমুদ খান আরও বলেন, সুজাতের স্বামী আশিষ মানকিন সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন। তাদের তিন মেয়ের মধ্যে একজন গ্রামে থাকে। বাকি দুইজন একই বাসায় থাকেন এবং বিউটি পার্লারে কাজ করেন। সুজাতের বোনের ছেলে সঞ্জীব বছর খানেক আগে চাকরির খোঁজে ঢাকায় এসে ওই বাসায় কিছুদিন অবস্থান করেন। এ সময় তার থাকা-খাওয়া বাবদ মাসে চার হাজার টাকা দাবি করেন সুজাতার স্বামী। কিছুদিন পর তিনি ওই বাসা থেকে চলে গেলেও মাঝে মধ্যে বেড়াতে আসতেন।

তিনি বলেন, গত সোমবার সঞ্জীব তার দুই বন্ধু প্রবীণ সাংমা ও শুভ চিসিম ওরফে শান্তকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় আসেন। ঢাকায় অবস্থানরত তার বন্ধু রাজু সাংমা ওরফে রাসেলের বাসায় থাকতে চাইলে রাজু উত্তরায় এক বাসায় তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দেন। সেখানে বসেই তারা সুজাতকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ওই অনুযায়ী, রাজুর কাছ থেকে একটি ধারালো অস্ত্র নিয়ে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সঞ্জীব একবার কালাচাঁদপুরের ওই বাসায় যান। সেখানে গিয়ে লোকজন দেখে ফিরে আসেন। বিকেলে আবার গিয়ে খালা সুজাতের সঙ্গে কথাবার্তা বলেন। এ সময় সুজাতের বড় মেয়ে মায়াবী বাসায় ছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর মায়াবী কাজে চলে যান।

এরপর সঞ্জীব ও তাঁর বন্ধুরা বাইরে থেকে দেশি মদ এনে নিজেরা পান করেন ও খালা সুজাতকেও পান করান। সুজাত মদ খাওয়ার পর অচেতন হয়ে বিছানায় পড়ে থাকেন। ওই অবস্থায় সুজাতার ওপর সঞ্জীব চড়ে বসে। রাজু মুখে বালিশচাপা দিয়ে ধরে। এরপর সঞ্জীব ধারালো ছোরা দিয়ে শরীরে ও গলায় আঘাত করে একাধিকবার আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এর পরে সঞ্জীব ও তার বন্ধুরা তখন চুরির প্রস্তুতি নেয়ার সময় পাশের রুমে থাকা সুজাতের মা বেসেথ ওই রুমে এলে তাকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে হত্যা করে খাটের নিচে রেখে ওই চারজন পালিয়ে যান।সেখান থেকে বের হয়ে তারা প্রথমে উত্তরায় যান। সেখানে থেকে আব্দুল্লাহপুর বাস কাউন্টারের পেছনে ছুরিটি ফেলে বাসে চড়ে শেরপুর চলে যান।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর গুলশান কালাচাঁদপুরের মাঞ্চল স্কুল গলির ৫৮/২ সাত তলা বাড়ির চতুর্থ তলা থেকে মা বেশেথ চিরান ও মেয়ে সুজাতা চিরানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আমাদের সময়.কম