বরিশালে মহাসড়কের জায়গা বেদখল

সওজ ও সিটি করপোরেশনকে উদ্যোগী হতে হবে

প্রকাশিত: ৮:২১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০১৭ | আপডেট: ৮:২১:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০১৭
বরিশালে মহাসড়কের জায়গা বেদখল

বরিশাল নগরের রূপাতলী এলাকায় সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় অবৈধ বাজার ও স্থাপনা উচ্ছেদের পর আবার বেদখল করার ঘটনায় এটাই প্রমাণিত হয় যে এ দেশে ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা যা খুশি তাই করতে পারেন। আর কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারে না।
প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রূপাতলী এলাকায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে সওজ বিভাগের জায়গায় অবৈধভাবে বাজার ও দোকানঘর স্থাপন করে একটি চক্র। মহাসড়কে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে গত অক্টোবর মাসে দুই দফা অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করা হয়। এলাকার সাবেক কাউন্সিলর ও বরিশাল মহানগর শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত স্থানীয় বাসিন্দা সুমন মোল্লা এখন আবার ওই একই জায়গা দখলের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। প্রায় এক একর জায়গা দখল করে সেখানে দোকানঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছেন আর এলাকাবাসীকে বলে বেড়াচ্ছেন তিনি সওজ বিভাগ থেকে এই জমি ইজারা নিয়েছেন। সওজ বিভাগের বরিশাল কার্যালয় অবশ্য কোনো ধরনের জমি ইজারা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে দখল থেকে উচ্ছেদ করে যদি তা রাখা না যায় তবে সেই উচ্ছেদের অর্থ কী? আর সওজের দায়িত্ব কি শুধু ইজারা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা? তারা দখলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? শ্রমিক লীগের নেতার ঘনিষ্ঠ বলেই কি কেউ বাধা দেওয়ার সাহস করছে না? মহাসড়কে যান চলাচল নির্বিঘ্ন করার দায়িত্ব তো তাদেরই।
অতীতে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে যে সওজের জায়গার ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানের মালিকদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগের একশ্রেণির অসৎ কর্মকর্তার আর্থিক লেনদেনের সম্পর্ক থাকে। ফলে সড়ক-মহাসড়কে অবৈধভাবে দোকানপাট গড়ে উঠলেও সেগুলো উচ্ছেদ করা হয় না। মহাসড়কটি যেহেতু বরিশাল নগরীর ভেতরে, তাই বরিশাল সিটি করপোরেশনেরও এ ব্যাপারে দায়িত্ব রয়েছে। মহাসড়কে কোনো অবৈধ স্থাপনা যাতে গড়ে উঠতে না পারে, সেটা তাদের নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা আশা করব, সিটি করপোরেশন ও সওজ বিভাগের বরিশাল কার্যালয় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক থেকে অবৈধ দখলদারদের হটানোর সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেবে। ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অবৈধ দখলদারেরা যেন কোনোভাবেই পার না পায়।