বয়স্ক দেখাচ্ছে? বয়সের কাছে তারুণ্য ধরে রাখুন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০১৮ | আপডেট: ৮:০৪:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২০, ২০১৮
হাল সময়ে বয়সের কাছে হার মানা কখনোই ঠিক নয়। মনটা তরুণ রাখাই জরুরি। আর একটু সচেতন হলে বয়সকে হার মানাতে নিজের ইচ্ছাই যথেষ্ট। আপনি নন, বয়সই হার মানবে আপনার কাছে। 
 
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকে যে স্বাভাবিক কোমলতা বা উজ্জ্বলতা থাকে, তা হারিয়ে যায়। কিছু কিছু নিয়ম মেনে চললে এই বুড়িয়ে যাওয়া ভাবকে ঠেকানো যায়। যেমন—সঠিক খাদ্য তালিকা মেনে চলা, নিয়মিত ত্বকের আর শরীরের ঠিকমতো যত্ন নেওয়া। বয়স হলে শরীর ও মনে আসে কিছু পরিবর্তন। যেমন—ত্বকে দাগ বা ভাঁজ পড়া, ত্বকের রং পরিবর্তন, ত্বক ছাপিয়ে শিরা দৃশ্যমান হওয়া, শারীরিক অবকাঠামো ভেঙে পড়া ইত্যাদি। এ সবকিছু মিলে যে ব্যাপারটি সবচেয়ে ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তা হলো মানসিক অবসাদ। ত্বকের উপর বয়সের প্রভাব মূলত জীবনের চার অধ্যায়ে বিন্যস্ত—কৈশোর, তারুণ্য, মধ্যবয়স ও বার্ধক্য। কৈশোরে  ত্বকের যে ইতিবাচক পরিবর্তন হয়, তার পরিণতি মেলে তারুণ্যে। ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ার শুরুটা মধ্যবয়সে। এ বয়সে ত্বকে কোলাজেনের পরিমাণ প্রতিবছর শতকরা এক ভাগ কমতে থাকে। এতে চোখের চারপাশে ও কপালে দেখা দেয় বলিরেখা। শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে খুব তাড়াতাড়ি। ত্বকনিঃসৃত তেলের নিঃসরণ কমে যায় বলে সহজেই ত্বকে দাগ পড়ে। বার্ধক্যে ত্বকের নিচে জমে থাকা চর্বি কমে যেতে থাকে বলে চামড়া বা ত্বক ঝুলে পড়ে।

এমনই কিছু খাবারের তালিকা যা আপনার তারুণ্যকে ধরে রাখতে পারে। 

১. পালংশাক
শাক অনেকে পছন্দ করেন না। কিন্তু যদি বয়স ধরে রাখতে চান, তবে পালংশাক খাদ্য তালিকায় রাখুন। পালংশাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ই রয়েছ যা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে থাকে। এটি হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখে এবং রক্তচাপ কমিয়ে দেয় এবং কলেস্টরল হ্রাস করতে সাহায্য করে। রান্না বা সালাদ যেকোনোভাবে খেতে পারেন পালংশাক।

২. গাজর
এই সবজিতে আছে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ। যা দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাছাড়া ত্বকের জন্যও গাজর অত্যন্ত উপকারী। ভিটামিন এ কোষ গঠনে সাহায্য করে তাই ত্বক সুন্দর রাখে। তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার রোধেও সাহায্য করে গাজর।

৩. ডার্ক চকলেট
কোকো প্রোটিন ও ভিটামিন বি সমৃদ্ধ অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি উৎসও যা চুলের গুনগত মান ভালো করে। এছাড়া এটি শরীরের বাড়তি চর্বি পুড়িয়ে ওজন কমাতে সহায়তা করে।

৪. মিষ্টিআলু
বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদানের অন্যতম উৎস মিষ্টিআলু। তাছাড়া ডায়বেটিসের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে মিষ্টিআলু। এতে রয়েছে গ্লুটাথায়ন নামের একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা হজম শক্তি বাড়াতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সাহায্য করে। আলঝাইমার, লিভারের সমস্যা, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক ইত্যাদির ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে মিষ্টি আলু। এছাড়া মিষ্টি আলুতে ভিটামিন সি’র পরিমাণও প্রচুর। যা ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সাহায্য করে।

৫. ব্লুবেরি
উচ্চ ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং পটাসিয়াম সমৃদ্ধ ব্লুবেরি শরীরে বার্ধক্যের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং ত্বকের ফোলা ভাব কমায়।

৬. গ্রিন টি বা সবুজ চা
তারুণ্য ধরে রাখতে অনেক জনপ্রিয় একটি পানীয় হচ্ছে সবুজ চা। সবুজ চায়ে রয়েছে একাধিক পুষ্টি উপাদান ও খনিজ পদার্থ যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ভাজহীন ত্বক এবং আভ্যন্তরীণ অবস্থা ভালো রাখতে সাহায্য করে।

৭. অলিভ অয়েল
অলিভ অয়েল প্রতিদিনকার রান্নায় ব্যবহার করুন। এছাড়া এক টেবিলচামচ অলিভ অয়েল নিয়ে প্রতিদিন দুইবার করে ত্বকে ম্যাসাজ করুন। এটি ত্বকের শুষ্কতা দূর করে যেকোন দাগ দূর করতে সাহায্য করে থাকে।

৮. কাঠবাদাম
মাংস পেশী গঠন, মস্তিষ্কের গঠন এবং ত্বকের বলিরেখা দূর করতে কাঠ বাদামের জুরি নেই। তাছাড়া হাড় শক্ত করতেও কাঠবাদাম উপকারী। কাঠবাদামে কোলেস্টেরলের পরিমাণ খুবই কম থাকে যা রক্তে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। কাঠবাদামে আরও আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই যা সূর্যের রশ্মি কারণে হওয়া ত্বকের ক্ষতি পুষিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাছাড়া স্মৃতিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে ভিটামিন ই।

৯. ব্রকলি
ব্রকলি বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াটিকে ধীরে করে থাকে। এতে সালফারোফেন এবং ইনডোল রয়েছে যা স্ট্রেসের সাথে লড়াই করে ক্যান্সারের কোষ ধ্বংস করে দেয়।  ব্রকলিতে থাকা ভিটামিন বি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। ব্রকলিতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন কে১ যা হাড় মজবুত করে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। সপ্তাহে তিন বা চারবার ব্রকলি খাওয়ার চেষ্টা করুন।

১০. টমেটো
টমেটো ত্বকে কোলাজেন তৈরি করে এবং ত্বকে প্রোটিনের সরবারহ বজায় রাখে। এছাড়া এতে লিকোফেইন নামক অ্যান্টি অক্সিডেন্ট সূর্যের ক্ষতিকর ইউভি রশ্নি থেকে ত্বককে রক্ষা করে। প্রতিদিন এক গ্লাস টমেটোর জুস পান করতে পারেন।

১১. হলুদ
কারমামিন নামের পলিফেনল যৌগের কারণে এই মসলার রং হয় হলুদ। যা ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। তাছাড়া টিউমার হওয়ার সম্ভাবনাও কমিয়ে আনে। ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেসের এক গবেষণায় জানা যায়, মস্তিষ্ক সুস্থ রেখে আলঝাইমার রোগের ঝুঁকিও কমায় হলুদ।

বয়স্ক দেখাচ্ছে? আয়নার সামনে দাঁড়ালেই খারাপ হয়ে যাচ্ছে মন?, বিষয়গুলো মেনে না চলার কারণেই আপনার চেহারায় হয়তো পড়ছে বয়সের ছাপ।

যৌন জীবন : মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের যৌন জীবন তার চেহারায় প্রভাব ফেলে। নিয়মিত যৌন জীবন আপনার বয়স সাতগুণ কম দেখাতে সাহায্য করবে। এই অভ্যাসের কারণে একই সঙ্গে ঘুম ভালো হবে এবং ক্লান্তি দূর হবে।

নিদ্রাহীনতা :  নানা ব্যস্ততা, শহরজুড়ে যানজটের কারণে দেরি করে বাড়ি ফেরাসহ নানা কারণে নিদ্রাহীনতা আমাদের অনেকেরই দৈনন্দিন জীবনের অন্যতম অংশ হয়ে গেছে। কারণে কিংবা অকারণে এই যে রাত জাগার অভ্যাস বয়স্ক দেখানোর বড় একটি কারণ।

চিকিৎসকদের মতে, একজন ব্যক্তির প্রতিদিন কমপক্ষে সাত ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। এর চেয়ে ঘুম কম হলে মানুষের ত্বকের স্বাভাবিক মসৃণতা কমে যায়। চোখের নিচে ভাঁজ পড়ে যায়, ঢিলা হয়ে আসে ত্বক। তাই তারুণ্য ধরে রাখতে নিদ্রাহীনতার অভ্যাস ত্যাগ করা জরুরি।

অতিরিক্ত চিনি খাওয়া :  যারা খুব বেশি চিনি খেতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য দুঃসংবাদ। কারণ অতিরিক্ত চিনি বা চিনিজাতীয় খাবার চেহারায় দ্রুত বয়স্ক ভাব ফুটিয়ে তোলে। তাই আজ থেকেই ছেড়ে দিন এই অভ্যাস।

কম ফল ও শাক-সবজি খাওয়ার অভ্যাস : তারুণ্য ধরে রাখতে হলে ফল এবং শাকসবজির কোনো বিক্ল্প নেই। ত্বকের সজীবতা রক্ষা করতে এগুলো অত্যন্ত জরুরি। তাই যদি দেখেন দ্রুত বয়স বাড়ছে, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনুন। ভাজাপোড়া বা অস্বাস্থ্যকর খাবার বাদ দিয়ে খাদ্যতালিকায় যোগ করুন রঙিন ফল আর তাজা শাকসবজি।

ডায়েটিং : শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলতে অনেকেই মাত্রাতিরিক্ত ডায়েটিং করেন। এটাই অনেকের ক্ষেত্রে পুষ্টিহীনতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত ডায়েটিংয়ের ফলে দেহে অ্যান্টি-অক্সিজেনসহ বেশ কিছু ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি দেখা দেয়। এসব ঘাটতি চেহারায় বয়স্ক ভাব বাড়িয়ে দেয়। ফলে ডায়েটিং করুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী। গ্রহণ করুন প্রয়োজনীয় পুষ্টি।

কম বা বেশি ব্যায়াম : একেবারে ব্যায়াম বা শরীরচর্চা না করা কিংবা অতিরিক্ত ব্যায়াম করা এই দুটোই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। চেহারায় বয়সের ছাপ বাড়িয়ে তুলতে এই দুটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই বয়স, শরীরের গঠন, জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী পর্যাপ্ত ব্যায়াম করা উচিত।

সানস্কিন সামগ্রী : সূর্যরশ্মি থেকে ত্বককে বাঁচাতে সানস্ক্রিনসামগ্রী ব্যবহার করা সব সময়ই খুব জরুরি। যদি ঘরের ভেতরেও থাকেন তাহলেও স্বল্পমাত্রার সানস্ক্রিনসামগ্রী ব্যবহার করুন। কারণ বাইরে থেকে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ঠিকই ঘরে প্রবেশ করে। আর এই রশ্মি ত্বকের ভীষণ শত্রু। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতি সপ্তাহে অন্তত চারবার সানস্ক্রিন ব্যবহার করেন তাঁরা অনেকদিন তারুণ্য ধরে রাখতে পারেন।

অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন : অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপন করতে গিয়ে একটু পর পরই হাতমুথ ধোয়া ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। কারণ এতে ত্বকের আর্দ্রতা নষ্ট হয়ে যায়। তকের আর্দ্রতা কমে গেলে তা রুক্ষ হয়ে বয়স্ক দেখায়। এ জন্য দৈনন্দিন বিভিন্ন স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের পাশাপাশি বিভিন্ন ময়েশ্চারাইজিং ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব ক্রিম ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে বুড়িয়ে যেতে বাধা দেয়।

বয়স ধরে রাখার উপায়!

আপনাকে কি প্রকৃত বয়সের তুলনায় বেশি বুড়ো দেখায়? আয়নায় যদি নিজেকে দেখে চিনতে কষ্ট হয়, তাহলে প্রতিদিনের রুটিনটা এখনই মূল্যায়ন করা উচিত। আপনি কী খান, কীভাবে ঘুমান, সেসব বিষয়ও আপনাকে নতুন করে ভেবে দেখতে হবে। এগুলো সঠিকভাবে না হলে আপনার কাঙ্ক্ষিত আয়ুও কিন্তু কমে যেতে পারে! বিশেষজ্ঞরা গবেষণায় জেনেছেন, প্রতিদিন যে অভ্যাসগুলো আপনাকে আরো বেশি বয়স্ক করে তুলবে চলুন সেগুলো জেন নেই।

অনেকের ধারণা প্রতিদিন নানা ধরনের কাজ করা ভালো। আসলে ব্যাপারটা উল্টো। প্রতিদিন যদি কাজের চাপ লেগেই থাকে, তাহলে তা মানসিক ও শরীরিক চাপ তৈরি করে। আর তা আপনার চেহারা ও শরীরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট করে বয়স বাড়িয়ে দেয়। কয়েক ধরণের গবেষণায় দেখা গেছে ক্রনিক স্ট্রেস শরীরের কোষগুলো নষ্ট করে দেয়। তাই ডাক্তাররা বলছেন, প্রতিদিন একটি কাজের উপরই বেশি জোর দেয়া উচিত। সেটি ভালোভাবে শেষ হলে পরের কাজ শুরু করুন।

মিষ্টি বা মিষ্টান্ন যদি সব সময় খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলে ওজন যেমন বাড়তে পারে, তেমনি চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে পারে। চিনি আপনার দেহে গ্লাইকেশন প্রক্রিয়ায় বাধা দিয়ে দেহ ও চেহারার উজ্জ্বলতা নষ্ট করে দিতে পারে। এতে করে মুখে বয়সের ছাপ, চোখের নিচে কালো দাগ এসব দেখা দেয়। তাই তারুণ্য ধরে রাখতে চাইলে মিষ্টি, চিনি জাতীয় খাবার বর্জন করুন।

প্রতি রাতেই কি আপনি ৫ ঘণ্টার কম ঘুমাচ্ছেন? এতে চোখের নিচে যেমন কালো ছাপ পড়বে, তেমনি আপনার আয়ুও কমে যাবে। তাই ডাক্তাররা রাতে অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেন। ব্রিটিশ জার্নাল অফ স্পোর্টস মেডিসিন পরিচালিত ২৫ ও তার চেয়ে বেশি বয়সী ১১ হাজার অস্ট্রেলিয়ান যুবকের উপর এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন ১ ঘণ্টা টিভি দেখেছে, তাদের আয়ু ২২ মিনিট করে কমেছে। আমরা যারা দিনে গড়ে ৬ ঘণ্টা টিভি দেখি, তাদের আয়ু কমে যাচ্ছে ৫ বছর। মূলত এক জায়গায় কয়েক ঘণ্টা বসে থাকার ফলে শরীরে চিনির পরিমাণ বেড়ে গিয়ে নানা রোগ দেখা দেয়। তাই টিভি দেখা বা অফিসে কাজ করার সময় এক জায়গায় দীর্ঘক্ষণ বসে না থেকে প্রতি ৩০ মিনিট পর একটু হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

যারা দিনের বেশির ভাগ কর্মহীন সময় কাটান, তারা কিডনি, কার্ডিওভাস্কুলার রোগ, ক্যানসার, ওজন বাড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। তাই, প্রতিদিন ব্যায়াম করা জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে সপ্তাহে যারা ১৫০ মিনিট বা তার চেয়ে বেশি সময় ব্যায়াম করেন, তাদের আয়ু ১০-১৩ বছর বেড়ে যায়।

গবেষকরা বলছেন, প্রতিদিন একটা ভালো মানের আই ক্রিম ব্যবহার করা জরুরি। নইলে চোখের নিচে বলিরেখা দেখা দিয়ে বয়স বেশি দেখাবে। সম্ভব হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত সব সময়। আপনি নারী হলে প্রতিদিন যদি কড়া মেকআপ নিয়ে বাইরে বের হন, তাহলে এক সময় আপনার বয়স বেশি দেখাবে । অতি মাত্রায় স্কিন প্রোডাক্ট ব্যবহার করলে, সেগুলোতে থাকা কেমিক্যাল আপনার চেহারার স্বাভাবিক কোমনীয়তা নষ্ট করে দেবে।

আপনি কি সব সময় উপুড় হয়ে ঘুমান? তাহলে আপনার চেহারায় বয়সের ছাপ দেখা দিতে পারে। কারণ গবেষকরা বলছেন, ওভাবে ঘুমালে চেহারার কোষগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। খাবারের তালিকা থেকে সব ধরণের চর্বি বাদ দেয়া ঠিক না। বিশেষ করে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছের চর্বি ত্বকের জন্য খুব উপকারী। এটি ত্বক ও চেহারায় উজ্জ্বলতা এনে দেয়। তাই বয়স্ক হওয়ার আগেই বুড়ো হতে না চাইলে আপনাকে প্রতিদিনের এসব অভ্যাস সম্পর্কে এখনই সতর্ক হতে হবে।

  • তথ্য ও সূত্র : ইন্টারনেট