রোহিঙ্গাদের ফেরৎ নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়কে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:২০ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৭ | আপডেট: ১১:২০:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৭

নতুন চেয়ারপাসন নির্বাচন, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের নিঃশর্ত ফেরৎ নিতে এই মানবিক সঙ্কট সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়কে জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান এবং নিন্দা জানানোর মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার শেষ হয়েছে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) সম্মেলন। এ সম্মেলনের শেষ অধিবেশনে এ বিষয়ে নিন্দা জানিয়ে একটি বিবৃতিও দেয়া হযেছে।

এদিকে সিপিএর সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে রেজুলেশন নেয়ার বিষয়ে জল্পনা ও ঐকমত্য থাকলেও সিপিএর বিধিগত জটিলতায় শেষ পর্যন্ত রেজুলেশন নেয়া যায়নি। সিপিএর বিধি অনুয়ায়ী কোনো বিষয়ে রেজুলেশন নিতে হলে ৬০ দনি আগে প্রস্তাব আকারে তা দাখিল করতে হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেহেতু সাম্প্রতিক ঘটনা সে হিসেবে এ বিষয়ে সিপিএর রেজুলেশন নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই এ বিষয়ে একটি সুপারিশ গ্রহণ করে বিবৃতি প্রদান করেছে সিপিএ। এতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের আবাসস্থল মিয়ানমারের ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকরের ওপর চাপ প্রয়োগের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বলা হয়েছে, অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের নিঃশর্তভাবে ফেরৎ নিতে হবে। আর এর মধ্য দিয়েই বর্তমান চেয়ারপার্সন ও বাংলাদেশের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর তিন বছরের মেয়াদ শেষ হলো।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সিপিএ সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশনের সমাপনী পর্বে বাংলাদেশসহ সদস্য দেশগুলোর দাবির প্রেক্ষাপটে বিবৃতিটি উত্থাপন করা হয়। পরে সর্বসম্মতভাবে বিবৃতিটি গ্রহণ করা হয়। সম্মেলন থেকে এই বিবৃতিটি সিপিএভুক্ত সকল সংসদ, জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে পাঠানোর জন্য সিপিএ সেক্রেটারি জেনারেলকে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে মিয়ানমারে এই উদ্বেগজনক ঘটনা অব্যাহত থাকলে সিপিএ’র পরবর্তী সম্মেলনের সাধারণ অধিবেশনে তা উত্থাপন করতে বলা হয়েছে।
সিপিএ চেয়ারপার্সন ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অধিবেশনে চার পৃষ্ঠার এই বিবৃতিটি উত্থাপনের পর অধিবেশনকক্ষে উপস্থিত প্রতিনিধিরা টেবিল চাপড়ে সিপিএ নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানান। এসময় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া ফ্লোর নিয়ে আনুষ্ঠানিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সিপিএ’র বিবৃতি অনুযায়ী চলমান রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ মিয়ানমারের উপর আরো বেশি চাপ সৃষ্টি করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সম্মেলন শেষে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, সিপিএ সম্মেলনে কোনো নির্ধারিত এজেন্ডা না থাকলেও সদস্য দেশগুলোর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি প্রেস ব্রিফিং-এর আয়োজন করা হয়। সেখানে বাংলাদেশের পদক্ষেপ ও সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের প্রস্তাবের পক্ষে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফুর্ত সমর্থন জানায়। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে একটি বিবৃতি গ্রহণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত সমাধান হবে বলে সিপিএ আশা করছে। আর কমনওয়েলথভূক্ত দেশগুলো বাংলাদেশের পাশে থাকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা সমস্যা সমাধানে বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্ত খুলে দিয়ে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তাদের খাদ্য, বস্ত্র, স্যানিটেশন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। এই সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশে পাশে থাকার জন্য কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। এবিষয়ে সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের সুপারিশ, বিশ্ব মানবাধিকার ঘোষণা, ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)’র ১৩৭ তম সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাব এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাবনার আলোকে এই সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হোক।

এদিকে সিপিএ সম্মেলন মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক ভাবে শেষ হয়েছে। দিনব্যাপী সাধারণ অধিবেশন শেষে আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রেস ব্রিফিং করা হয়। ব্রিফিং-এ সিপিএ’র বিদায়ী চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, নতুন চেয়ারপার্সন ক্যামেরুনের ডেপুটি স্পিকার এ্যামেলিয়া মোনজোয়া লিফানকা, সিপিএ’র সেক্রেটারী জেনারেল আকবর খান, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট মো. ফজলে রাব্বী মিয়া, প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় স্পিকার সফলভাবে সিপিএ সম্মেলন শেষ করতে পারায় সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সিপিএ ও আইপিইউ সম্মেলনের সফল ভাবে আয়োজন থেকে আমাদের অর্জন অনেক। এটা আমাদের গণতন্ত্র ও সংসদের অগ্রযাত্রায় বড় ধরণের ভূমিকা রাখবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। বিশ্ববাসী সচক্ষে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিসহ অন্যান্য বিষয়গুলো দেখার সুযোগ পেয়েছে। এই সম্মেলন আমাদের গণতন্ত্রের ইতিহাসে মাইল ফলক হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, সরাসরি ভোটে আমি এই সংস্থার চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হয়েছিলাম। গত তিন বছর দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমার অর্জন অনেক। এখানে থেকে অনেক কিছু দেখার ও শেখার সুযোগ হয়েছে। বাংলাদেশও এখান থেকে অনেক কিছু পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল নেতৃত্বের কারণে এটা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এরআগে গতকাল সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (বিআইসিসি) সিপিএর সাধারন এসেম্বিলি শুরু হয়। সিআিইসিরি হল অব ফেমে অনুষ্ঠিত এই এসেম্বিলিতে বর্তমান চেয়ারপার্সন শিরীন শারমিন চৌধুরী সভাপতিত্ব করছেন। জেনারেল এসেম্বিলিতেই সিপিএর পরবর্তী টার্মের জন্য নতুন চেয়ারপার্সন নির্বাচন করা হয়েছে। বিকালে নতুন নির্বাহী কমিটির বৈঠকের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে আট দিনব্যাপী এই সম্মেলনের। বুধবার সম্মেলনে আগত ডেলিগেটদের নিয়ে সম্মেলনোত্তর পুনঃমিলনীর আয়োজন করবে আয়োজকরা। তাদের ঢাকার অদূরে গাজীপুরের সফিপুর আনসার একাডেমিতে ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হবে।

গত ১ নভেম্বর ঢাকায় সিপিএ সম্মেলন শুরু হয়। ৫ নভেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও সিপিএ ভাইস প্যাট্রন শেখ হাসিনা এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সিপিএ সম্মেলনের আয়োজক সিপিএ বাংলাদেশ শাখা ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়।

কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৬৩তম সিপিএর সাধারণ সভায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে রোহিঙ্গদের মানবতা বিরোধী সংকট দ্রতু সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সমাজের প্রতি জরুরীভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান জানিয়ে একটি বিবৃতি দেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। সুপারিশ পূর্ব দীর্ঘ বিবৃতির প্রস্তবানায়, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের প্রস্তবনার ভিত্তিতে মায়ানমার সরকারকে অবিলম্বে নিঃশর্ত ভাবে এই সহিংসতা বন্ধ করে অতি অল্প সময়ের মধ্যে তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার আহবান জানানো হয়। জাতিসংঘের চার্টাার, বিশ্বমানবাধিকার ঘোষণা, আইপিইউ ১৩৭তম সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাব সামনে রেখে এবং বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ যে প্রস্তাবনা দিয়েছে তার আলোকে রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হোক। প্রস্তাবনায় মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাসহ অন্যদের উপর যে নিধনযোগ্যসহ মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে তার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। এতে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে নাগরিক অধিকারসহ তাদের প্রতি সকল বৈষম্য বন্ধ করে টেকসই ও চিরস্থায়ী সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে কমনওয়েলথ দেশগুলো । একইসঙ্গে তাদের নিরাপত্তা, জীবিকা ও নারগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বিবৃতিতে রোহিঙ্গাদের জীবণ ও মানবাধিকার রক্ষায় বাংলাদেশের সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলা হয়, সীমান্ত খুলে দিয়ে, তাদের খাদ্য, বস্ত্র, আশ্রয়, স্যানিটেশন ও চিকিৎসা ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ বিশ্বে মানবাধিকার রক্ষায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কমনওয়েলথভূক্ত রাষ্ট্রগুলোকে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশকে সহায়তা করার জন্য আহ্বাবন জানানো হয়। এছাড়া যাতে তারা নিজভূমে ফিরে যেতে পারে সে বিষয়ে নিজ নিজ সংসদ থেকে সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানানো হয়।

বিবৃতিতে সিপিএ সেক্রেটারি জেনারেলকে রোহিঙ্গাদের অবস্থাটি সিপিএভূক্ত সংসদ, জাতিসংঘের মহাসচিব, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকে অবহিত করতে বলা হয়েছে। এছাড়া সিপিএ কনফারেন্সের ৬৪তম সাধারণ অধিবেশনে মিয়ানমারের এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের প্রকাশ বিষয় থাকলে তা উত্থাপন করার আহবান জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশের আতিথেয়তায় মুগ্ধ ডেলিগেটরা
কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর সংগঠন সিপিএ’র সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের আতিথেয়তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, বাংলাদেশের মতো অতিথি পরায়ন দেশ এর আগে দেখেননি। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার বিষয়টিকেও তারা বাংলাদেশের উদারতা ও মানবিকতাবোধ ও মানবাধিকারের উৎকৃষ্ট উদাহরণ বলেও অভিহিত করেন তারা।
ব্রিটেন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও হাউস অব লডসের সদস্য জর্জ ফোকেজ বলেন, বাংলাদেশ মানবতার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আমরা পশ্চিমারা শরনার্থীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিই। অথচ বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ রোহিঙ্গাদের বুকে টেনে নিয়েছে। তাদের আশ্রয়, খাদ্য, স্বাস্থ্য সেবাসহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা দিয়ে তাদের প্রতি মানবিক আচরণ করছে। এ জন্য অনেক অর্থও খরচ করতে হচ্ছে। এজন্য বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগন অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য।

বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করে কানাডার সংসদ সদস্য আলেক্সজান্ডার ম্যান্ডেজ বলেন, রোহঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতা ও উদারতার ক্ষেত্রে বিশ্বে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। রোহিঙ্গা সমস্যাকে নাটকীয় ও জটিল সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ সমস্যার সমাধানে কানাডা সরকার বাংলাদেশের সাথে কাজ করছে। এজন্য আমরা রিফুজি হিসেবে সবাইকে না হলেও একটি অংশকে কানাডায় আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এছাড়া ওদের বর্তমান চাহিদা পূরণে কানাডা সরকার সহযোগিতা করছে।

কানাডার সিনেটর সালমা আতাউল্লাজান বলেন, ‘বাংলাদেশকে আগে আমরা প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ হিসেবেই জানতাম। কিন্তু এদেশের মানুষের প্রাণশক্তি অফুরান। আপনারা সাহসী জাতি। আপনাদের অতিথি পরায়ণ হৃদয় আমাদের মুগ্ধ করেছে।
সেন্ট হেলেনা দ্বীপপুঞ্জের ডেরেক থমাস বলেন, আামি এর আগে শুধু বাংলাদেশের নাম শুনেছি। কিন্তু তেমন কোনো ধারণা ছিল না। তবে এদেশে এসে খুব ভালো লাগছে। এখানকার মানুষগুলো খুব মিশুক। এ ছাড়া আপনাদের আতিথেয়তা অসাধারণ।

দক্ষিণ আফ্রিকার মালামা প্রদেশের এমপি পিড্ডি মা মাকুলা বাংলাদেশের উচ্ছ্বসিত প্রসংশা করে বলেন, আমি বাংলাদেশকে খুব ভালোবাসি। এখানকার মানুষগুলো খুব সহজ সরল। কাদামাটির মতো তাদের মন। যতদূর জেনেছি তাদের মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করতে হয়েছে। যা সত্যিই প্রসংশার দাবিদার।

মালয়েশিয়ার এমপি ও কমনওয়েলথ উইমেন পার্লামেন্টারিয়ানের চেয়ারপার্সন ড. ডাটো নোরানী আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের আতিথেয়তা আমি মুগ্ধ। বাংলাদেশ আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে এটাই আমার প্রত্যাশা।

গায়ানার ড.বার্টন ড্রেক এমপি বলেন, মানুষ মানুষের জন্য, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ তা বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জও। তাই অবিলম্বে মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ক্যামেরন সংসদের মাইনরিটি চিফ হুইপ বানাদজেম জোসেফ বলেন, এদেশে এসে বাংলাদেশ সম্পর্কে আমার ধারণা পাল্টে গেছে।

দক্ষিণ আফিকার প্রাদেশিক পরিষদের হুইপ ফিলেমন ফালাগা বলেন, উন্নয়নের রোল মডেল বাংলাদেশ। নারী নেতৃত্বের রোল মডেল বাংলাদেশ। সিপিএ সম্মেলন সুন্দরভাবে সম্পন্ন করায় এদেশের মানুষ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।