সমঝোতার গুঞ্জন, তবুও অনিশ্চিত খালেদা জিয়ার মুক্তি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৫০:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৮

জিএম নিউজ :

মো. কামাল হোসেন: হঠাৎ করে বিএনপির সাথে সরকারের সমঝোতার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, সড়ক যোগযোগ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মিরপুরে পুড়ে যাওয়া ইলিয়াস মোল্লা বস্তি পরিদর্শনে গিয়ে সরকারের সাথে বিএনপির সমঝোতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে বহুল আলোচিত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ২৮ মার্চ বিশেষ আদালতে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ১৩ মার্চ রাজধানীর ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ ৫ নম্বর আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান এ নির্দেশ দেন।

এব্যাপারে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে বিশেষ জজ ৫ নম্বর আদালতে খালেদা জিয়াকে কারাগার থেকে হাজির করার বিষয়ে শুনানি হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাকে ২৮ মার্চ আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন।

এদিকে একই দিন জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি’র চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানি শেষে জামিন বহাল রেখে অধিকতর শুনানির জন্য পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়েছে চেম্বার জজ আদালত। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এই আদেশ দেন। এর ফলে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল থাকল। তবে পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানি চলবে।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেন, চেম্বার জজ জামিন স্থগিত করেননি। শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়েছেন। এতে করে তার (খালেদা জিয়া) জামিন বহাল থাকল।

এর আগে সকালে খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ। এর আগে ১২ মার্চ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

এদিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট থেকে জামিন মঞ্জুরের পর জানা গেল অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন গ্রহণ করে হাজিরা পরোয়ানা (পিডব্লিউ) জারি করেছে কুমিল্লার একটি আদালত।

একই সঙ্গে তাকে ২৮ মার্চ ওই আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে কিছুটা স্পষ্ট হয়ে যায় বেগম খালেদা জিয়ার সহসাই মুক্তি মিলছে না। ১২ মার্চ বিকেলে কুমিল্লার আমলি আদালত-৫–এর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মুস্তাইন বিল্লাহ ওই আদেশ দেন। হাজিরা পরোয়ানা ইতিমধ্যে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লার কোর্ট পরিদর্শক সুব্রত ব্যানার্জি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানতে চাইলে সুব্রত ব্যানার্জি বলেন, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হলে আগুনে পুড়ে আটজন যাত্রী নিহত হন। এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আদালত আগেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

১২ মার্চ গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর কুমিল্লার আদালতে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে আবেদন করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বিকেলে আদালতের বিচারক তার বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করেন। একই সঙ্গে ২৮ মার্চ তাকে কুমিল্লার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন। হাজিরা পরোয়ানার কপি বিকেল সাড়ে তিনটায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে কপি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হবে।

এমতাবস্থায় ‘কুমিল্লার মামলায় খালেদা জিয়া জামিন না পেলে কারাগার থেকে মুক্তি পাবেন না’ বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেলারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। ১৩ মার্চ দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে হাইকোর্টের চেম্বার জর্জ আদালত জিয়া অরফানেজ দূর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে হাইকোর্ট বেঞ্চ চার মাসের জন্য জামিন মঞ্জুর করলে সরকার পক্ষ থেকে জামিন বাতিলের আবেদন করেন।

কিন্তু চেম্বার জজ হাইকোর্টের জামিন বহাল রেখে, আবেদনটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আদেশ দেয়। আর এই আদেশের পর এক প্রতিক্রিয়ায় অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম উপরোক্ত মন্তব্য করেন।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর পুরান ঢাকার পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে বিশেষ কারাগার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়াকে সেখানে রাখা হয়।

একদিকে জামিন জন্য আইনী লড়াই অন্যদিকে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এই বাস্তবতায় আপাদত খালেদা জিয়ার ঘটনাবহুল এই কারাভোগ হয়তো দীর্ঘ হবে, ফলে মুক্তি অনিশ্চিতই থাকছে।