খালেদ মোশাররফ হত্যার বিচার হতে পারে: এইচ টি ইমাম

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:০৮ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৭ | আপডেট: ১১:০৮:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৭
খালেদ মোশাররফ হত্যার বিচার হতে পারে: এইচ টি ইমাম

খালেদ মোশাররফ হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনও সম্ভব বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম; এক্ষেত্রে নিজের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন ৭ নভেম্বর নিহত মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের স্মরণে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক আলোচনায় এই অবস্থান প্রকাশ করেন ক্ষমতাসীন দলের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর খোন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতায় বসলেও চলছিল অস্থিরতা।

এর মধ্যেই ৩ নভেম্বর জেল হত্যাকাণ্ডের পর সেনা কর্মকর্তা খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে অভ্যুত্থান হয়, গৃহবন্দি করা হয় সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানকে।

৭ নভেম্বর পাল্টা অভ্যুত্থান হয় সেনা বাহিনী ছেড়ে আসা আবু তাহেরের নেতৃত্বে। তখন মুক্ত হন জিয়া; পালানোর সময় নিহত হন খালেদ মোশাররফসহ তার সঙ্গীরা।

জিয়ার গড়া দল এই দিনটি ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে; তাহেরের দল জাসদ পালন করে ‘সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে; ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আওয়ামী বলয়ের সংগঠনগুলো।

এইচ টি ইমাম বলেন, “খালেদ মোশাররফকে খুন করা হয়েছে। মার্ডার কেস কোনোদিন তামাদি হয় না। যারা তাকে হত্যা করেছে, তাদের অনেকে জীবিত। তাদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে।”

প্রক্রিয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “কোনো হত্যার বিচার শুরু করতে হলে থানা থেকে প্রথমে কাজ শুরু হয়। এক্ষেত্রে কী হয়েছে, স্পষ্ট এখন জানা নেই। এক্ষেত্রে কেউ অভিযোগ নিয়ে আসে, তা নাহলে থানা বিষয়টি আমলে নেয়।”

এক্ষেত্রে ‘ঠাণ্ডা মাথায় বসে’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার উপর গুরুত্ব দিয়ে ইমাম বলেন, “যতটুকু দরকার সাহায্য করবো, বুদ্ধি পরামর্শ দেব।”

মুক্তিযুদ্ধে ‘কে’ ফোর্সের অধিনায়ক বীরউত্তম খালেদ মোশাররফের স্ত্রী সালমা খালেদ, তার মেয়ে সংসদ সদস্য মেহজাবিন খালেদও এই অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

মেহজাবিন বলেন, “প্রত্যেকবার ৭ নভেম্বর মনে একটা প্রশ্ন উঠে, কেন তার হত্যার বিচার হচ্ছে না, কেন মামলা হচ্ছে না। এই কথাটা অনেকবার উঠে আসে। আসলে এখানে পরিবারেরও ব্যর্থতাও কিছু আছে,তাছাড়া কয়েকবার সরকার বদল হয়েছে, আমরা পারিনি।

নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মামলাটি যেন হয়, সেজন্য নিজে কাজ করবেন জানিয়ে অন্যদের সহযোগিতা চান খালেদ মোশাররফ কন্যা।

সালমা খালেদ বলেন, “দেশের সঙ্কটময় মুহূর্তে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর একটি সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খালেদ মোশাররফ। তার ক্ষমতার কোনো মোহ ছিল না। ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

“এটা ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। সেখানে সেনাবাহিনীর সর্বমহলে সমর্থন ছিল বলে তার ধারণা ছিল।৭ নভেম্বর তথাকথিত সিপাহী-জনতার বিপ্লব ৩ নভেম্বরকে ঢেকে দেয় পরাজয়ের গ্লানিতে। পরাজিত হয়ে যায় তার পদক্ষেপ। তাকে প্রাণ দিতে হয়েছিল নির্মমভাবে।”

“অনেকে অনেকভাবে তার কথা বলে, নানাভাবে সমালোচনা করে থাকে। এই পর্যন্ত কোনো তদন্ত হয়নি, কার নির্দেশে কারা এই মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছে,” বলেন খালেদ মোশাররফ পত্নী।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইসমত কাদির গামা, বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন্সের চেয়ারম্যান এ এস এম সামসুল আরেফিন, মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার শচীন কর্মকার, ৭১ টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী আরাফাত প্রমুখ।

৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতা কাঠামোর কেন্দ্রে চলে আসা জিয়ার ভূমিকা নিয়ে সমালোচনাও করেন বক্তারা।

বঙ্গবন্ধুর আমলের মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে মোশতার সরকারের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনায় থাকা এইচ টি ইমাম বলেন, “জিয়াউর রহমানকে কখনও মুক্তিযোদ্ধা মনে করি নাই, করি না ও করবও না। কারণ তার অন্য চেহারাটি আমার ভালো করে জানা আছে।

“তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের কী ক্ষতি করেছেন, সেটাও আমার জানা আছে। একসময় জেনারেল ওসমানী তাকে পদচ্যুত করতে চেয়েছিলেন। সেই ওসমানী আবার পরবর্তীতে আশীর্বাদ দিয়ে ক্ষতিটি আমাদের করেছেন।”

মুক্তিযুদ্ধে খালেদ মোশাররফের সাহসী ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন ইমাম।

ইসমত কাদির গামা বলেন, “জিয়া যেভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, আগে তাকে হত্যা করা হলে আজকে ইতিহাসটা অন্যরকম হত।”

জিয়ার বীরউত্তম খেতাব প্রত্যাহারের দাবিও তোলেন স্বাধীনতার পরপরই ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনকারী গামা।

সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “জিয়া যত অপকর্ম করেছে, তারপরও তাকে একটা বিষয়ে ধন্যবাদ দিই। কর্নেল তাহেরকে সে ক্ষমতা দেয় নাই এবং কর্নেল তাহেরকে সে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলিয়েছে।

“এটা তাহেরের প্রাপ্য ছিল। তাহের না থাকলে জিয়া তার সহকর্মীদের এভাবে হত্যা করত না।”

  • বিডিনিউজ