ইউএস-বাংলার দুর্ঘটনায় নিহত মরদেহ দ্রুত দেশে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:৪৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৮ | আপডেট: ৬:৪৩:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৮
ইউএস-বাংলার দুর্ঘটনায় নিহত মরদেহ দ্রুত দেশে আনা নিয়ে অনিশ্চয়তা

জিএম নিউজ :

তারেক : নেপালে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দুর্ঘটনায় নিহতদের সবার মরদেহ শনাক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনতে আরো কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস। সোমবারের ওই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬ বাংলাদেশি মারা গেছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এসব মরদেহ কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা হাসপাতালের ফরেনসিক ল্যাবে রয়েছে। নিহতদের মৃতদেহ দেশে আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ফরেনসিক বিভাগের ময়নাতদন্ত শেষ করতে আরো চারদিন সময় লাগবে। তারপর তারা স্বজনদের তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য নিশ্চিত করে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিৎ করবেন। মরদেহ ফেরত পাঠাতে পরে হয়তো আরো ২-১ দিন বেশি সময় লাগতে পারে। পুড়ে যাওয়ার কারণে যাদের মরদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ মেলানোর দরকার হবে, তাদের ক্ষেত্রে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে বলে জানান তিনি।
হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ডাক্তার প্রমোদ শ্রেষ্ঠকে উদ্ধৃত করে তিনি জানিয়েছেন, পরিচয় সুনিশ্চিত হয়েই তারা মৃতদেহ হস্তান্তর করতে চান। মরদেহ পরিচয় জানতে চারটি দল কাজ করছে। এরমধ্যে দুটি দল ময়নাতদন্ত করছে। একটি দল মরদেহের নানা স্যাম্পল নিয়ে সেখান থেকে পরিচয় জানার চেষ্টা করছে আর অন্যটি পরিবারের স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
এই চারটি দল সম্মিলিতভাবে একটি মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজটি সম্পন্ন করবে। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই প্রতিটি মরদেহের ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানানো হচ্ছে।

গতকাল পর্যন্ত ১৮টি মরদেহের পোস্ট মর্টেম সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু এই আঠারো জন কারা সেটি নিশ্চিত করা যায়নি। ৪৯টি লাশের ময়নাতদন্ত চলবে আরো কয়েকদিন। কর্তৃপক্ষ বলছেন, পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে স্বজনের কাছে হস্তান্তর কিংবা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়।
রাষ্ট্রদূত মাশফি বিনতে শামস সাংবাদিকদের বলেন, সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ১৮ জনের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। মরদেহ শনাক্ত করার পর দেশে কীভাবে পাঠানো হবে তা নিয়ে নেপাল ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

নেপালে স্বজনদের খোঁজে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে না- এমন অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক হাসপাতালে থাকছেন। দূতাবাসেও একটি কোঅর্ডিনেশন সেন্টার খোলা হয়েছে।
ইউএস বাংলার জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল হাসান গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা এলে তারা যে কোনো মুহূর্তে নেপাল থেকে মরদেহগুলো বাংলাদেশে নিয়ে আসতে প্রস্তুত।

এদিকে ওই দুর্ঘটনার কারণে সিঙ্গাপুর সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে আসার পর বুধবার ঢাকায় নিজের কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালনের সিদ্ধান্ত হয়।
পরে মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনায় মৃত বাংলাদেশিদের দেশে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে বার্ন ইউনিটের দক্ষ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি চিকিৎসা দল কাঠমান্ডুতে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং মৃতদের ডিএনের নমুনা সংগ্রহের জন্য পুলিশের একটি দলকেও নেপাল পাঠানো হচ্ছে বলে জানান মুখ্য সচিব। তিনি আরো বলেন, আহতরা যদি রাজি হন তাহলে তাদেরকে আমাদের বার্ন ইউনিটে এনেও চিকিৎসা দেওয়া হবে। কারণ আমাদের বার্ন ইউনিটে খুবই উন্নত চিকিৎসা হয়।
আহতদের বর্ণনায় ভয়ঙ্কর সেই মুহূর্ত: কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত ইউএস-বাংলা উড়োজাহাজে বেঁচে যাওয়া আরোহীরা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে ভয়ঙ্কর সে অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন। তাদের একজন নেপালের আশিষ রনজিত বলেন, আমি সৌভাগ্যবান।

একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নেপালের যে ১৩ জন ট্রাভেল এজেন্ট পরিচালক বাংলাদেশে এসেছিলেন তাদের একজন আশিষ। ডান হাত, মাথা ও দুই পায়ে আঘাত নিয়ে তিনি এখন নরভিক ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

আশিষ কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, দুর্ঘটনার আগেই আমি বিপদ বুঝতে পেরেছিলাম। উড়োজাহাজটি ভয়ঙ্করভাবে দুলছিল। ভয় পেয়ে আমি একজন এয়ার হোস্টেজকে ডাকি। তিনি নিজের আসন থেকে আমাকে ইশারায় চিন্তা না করতে বলেন। হঠাৎ করেই উড়োজাহাজের গতি দ্রুত বাড়তে থাকে এবং আমি বিকট শব্দ শুনতে পাই। সঙ্গে সঙ্গে চেতনা ফিরে পাওয়ায় পুড়ে মরতে হয়নি।

চোখ খুলেই আগুন দেখা আর মানুষের চিৎকার শোনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যখন আমি চোখ খুললাম তখন উড়োজাহাজে আগুন ধরে গেছে। লোকজন কাঁদছিল, কেউ কেউ সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলছিল। আমি সিটবেল্ট খুলে ফেলি। আমার কয়েক বন্ধুরও চেতনা ছিল। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে উড়োজাহাজ থেকে লাফ দিয়ে নিজেদের প্রাণ রক্ষা করি।

উড়োজাহাজের ডান দিকের তৃতীয় সারিতে তার আসন ছিল জানিয়ে আশিষ আরো বলেন, আমার মনে হয় উড়োজাহাজের বাম দিকের যাত্রীরা বেশি আঘাত পেয়েছে। কারণ, উড়োজাহাজটি বাম দিকে কাত হয়ে পড়েছে।

দুর্ঘটনার পরপর উড়োজাহাজের ভাঙা জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসেন বলে জানান রাশিতা ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের কর্মকর্তা বসন্ত বোহোরা। যদিও ওই সময়ে স্মৃতি পুরোপুরি স্পষ্ট নয় তার কাছে। মাথায় ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন তিনি।
বসন্ত বোহোরা বলেন, কীভাবে উড়োজাহাজ থেকে বেরিয়ে এলাম সেটা পুরোপুরি মনে করতে পারছি না। সবই ধোঁয়াশা। কেএমসি হাসপাতালে আনার পর আমি সম্পূর্ণ চেতনা ফিরে পাই। আমি ভাগ্যবান, আমি বেঁচে গেছি।

বেঁচে যাওয়া আরেক নেপালি কেশব পান্ডে বলেন, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। আমি সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু আমার হাত ও পা আটকে গিয়েছিল। জরুরি ফটকের কাছে আমার আসন ছিল। খুব সম্ভবত উদ্ধারকর্মীরা সেটি খোলার পর আমি নিচে পড়ি। তারপর আর কিছু মনে নেই।
বাংলাদেশি শিক্ষক শাহরিন আহমেদ বলেন, আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল এবং কেবিন ভরে গিয়েছিল ধোঁয়ায়। তার পরপরই প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ পাই। আমাকে বাইরে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

মৃতদেহ আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চায় ইউএস বাংলা: নেপালে উড়োজাহাজ বিধ্বস্তে নিহতদের মৃতদেহ দেশে আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে ইউএস বাংলা কর্তৃপক্ষ। গতকাল বারিধারায় ইউএস বাংলার জিএম কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি জানান, নিহতদের স্বজনের মধ্যে যাদের পাসপোর্ট নেই তারা যোগাযোগ করলে ইউএস বাংলা নিজ খরচে পাসপোর্ট করে তাদের নেপালে নিয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন, পুড়ে যাওয়ার কারণে মৃতদেহ শনাক্ত করতে সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য ডিএনএ পরীক্ষার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে ডিএনএ পরীক্ষা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। আমরা নেপাল প্রশাসনের আশানুরূপ সাড়া পাচ্ছি না। এ জন্য দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় বসলে সহজে সমস্যার সমাধান হতে পারে। বিমানমন্ত্রী এখন নেপালে আছেন, ওনার মাধ্যমে এ উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।
তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হলে বাবা, মা, ভাই-বোনের যে কারো যেতে হতে পারে। এ জন্য যাদের পাসপোর্ট নেই তারা যোগাযোগ করলে আমরা নিজ খরচে তাদের পাসপোর্টের ব্যবস্থা করব। যদি এক-দুই দিনের মধ্যে পাসপোর্ট করার সুযোগ থাকে, আমরা নিজ খরচে সেটাও করব।

আহতদের ভালো চিকিৎসার জন্য যদি সিঙ্গাপুর নিতে হয় ইউএস বাংলা নিজ খরচে নিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি। কবে নাগাদ মৃতদেহ দেশে আসতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমরা বলতে পারব না। তবে মৃতদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।

পাইলটের অবসাদগ্রস্ত ছিল না -ইউএস বাংলা: নেপালের কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজের পাইলট আবিদ সুলতান ‘অবসাদগ্রস্ত’ ছিলেন না বলে দাবি করেছে বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থা ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স।
গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক কামরুল হাসান বলেন, আইসিএওর (আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা) নিয়ম অনুযায়ী একজন পাইলটের কর্মঘণ্টা ১৪, এরমধ্যে তিনি ১১ ঘণ্টা ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারেন। এরমধ্যে আমাদের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে সময় লাগে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট। প্রতিবার ফ্লাইয়ের পর ৩০ মিনিট গ্রাউন্ড টাইম। এখানে অবসাদগ্রস্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নাই।

অভ্যন্তরীণ রুটে একাধিক ফ্লাইট পরিচালনার পরে ইউএস বাংলার বিএস-২১১ ফ্লাইটের প্রধান বৈমানিক আবিদ সুলতান অবসাদগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি একথা বলেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের শোক: নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সরকারকে একটি বিবৃতি পাঠিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, ভয়ঙ্কর এ বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার সাহস পরিবারগুলো হারাবে না।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেনের কাছে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়, কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে দুর্ঘটনার খবরে তিনি ‘গভীরভাবে মর্মাহত’। দুর্ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের সবার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। কঠিন এই সময়ে আমরা জাতিসংঘের সবাই বাংলাদেশের সঙ্গে সমব্যথী।

যেভাবে বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত করা হয়: কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা ফ্লাইটের দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে, কিন্তু বিমান দুর্ঘটনার তদন্ত কিভাবে হয়? কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের সঙ্গে দুর্ঘটনা কবলিত ফ্লাইটের পাইলটের কথোপকথনের একটি রেকর্ড ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়ার পর দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। এই দুর্ঘটনার তদন্তে এই কথোপকথন ছাড়াও নানা দিক খুঁটিয়ে দেখা হবে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন।
ভারতের বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ ভি কে ভাল্লাহ বলেন, দুর্ঘটনার পর প্রধানত দুটো দিক দেখা হয়- যন্ত্র বিকল হয়েছিল, নাকি মানুষের ভুল হয়েছিল। সাধারণত যন্ত্রের কারণেই অধিকাংশ বিমান দুর্ঘটনা হয়। তদন্ত শুরু করা হয় বিমান টেক-অফ করারও অনেক আগের ঘটনাপ্রবাহ থেকে। ফ্লাইটের আগে পাইলটকে কী ব্রিফ করা হয়েছিল, আগের দিনগুলোতে ওই বিমানে কোনো ত্রুটি কখনো ধরা পড়েছিল কিনা। ধরা পড়লে সেটা শোধরানো হয়েছিল কিনা। বিমান ওভারলোড ছিল কিনা ইত্যাদি বহু কিছু। সংশ্লিষ্ট বহু মানুষের সঙ্গে কথা বলা হয়।

এখানে একটা বিষয় জানিয়ে রাখি, তদন্তের প্রধান দুটো সূত্র- ব্ল্যাক বক্স এবং ফ্লাইই ডেটা রেকর্ডার (এফডিআর)। ইউএস বাংলা বিধ্বস্ত ফ্লাইটের ধ্বংসাবশেষ থেকে এই দুটো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রই উদ্ধার করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার কমোডর ইকবাল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার আগের সমস্ত কথোপকথন বা যান্ত্রিক গোলমালের সমস্ত তথ্য জমা থাকে এই দুটিতে। আগুনে পুড়লেও এগুলো নষ্ট হয় না, এবং প্রধানত এই দুটো যন্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য থেকে বিমান দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করা হয়।

তিনি বলেন, ব্ল্যাক বক্স থেকে তথ্য বের করার সক্ষমতা অধিকাংশ দেশের এখনো নেই। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাউ) সহায়তা নিয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় বিমান চলাচল সংস্থা এফএএ এসব ব্যাপারে সাহায্য করে থাকে।

কমোডর ইকবাল বলেন, যেহেতু বাংলাদেশ এবং নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের সক্ষমতা নেই, সুতরাং তারা হয়তো ব্ল্যাক বক্স আইকাও বা এফএএ’র কাছে নিয়ে যাবে।
তদন্তের দায়িত্ব কার?: কমোডর ইকবাল বলেন, দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ের প্রধান দায়িত্ব যে দেশে দুর্ঘটনা ঘটে এবং যে দেশের বিমান সেই দুই দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলার এবং ব্ল্যাক বক্স বা এফডিআরের তথ্য জানার অধিকার প্রধানত তাদেরই থাকে।

তিনি আরো জানান, প্রতিটি দেশের বেসামরিক চলাচল কর্তৃপক্ষেরই বিশেষ একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি থাকে যাদের প্রধান দায়িত্ব দুর্ঘটনা হলে তার তদন্ত করা। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট বিমান পরিবহন সংস্থা, বিমান নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বা বীমা কোম্পানিগুলো নিজেরাও দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের প্রধান দায়িত্ব স্ব স্ব দেশের বিমান পরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থার।

বোম্বারডিয়ারের তদন্ত দল নেপাল যাচ্ছে: দুর্ঘটনা কবলিত ইউএস-বাংলার কিউ-৪০০ টার্বোপ্রপ উড়োজাহাজের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কানাডার মন্ট্রিয়েল-ভিত্তিক বোম্বারডিয়ার দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে একজন ঊর্ধ্বতন তদন্ত কর্মকর্তাসহ দু’সদস্যের একটি দলের মঙ্গলবার সকালেই নেপালে রওয়ানা হওয়ার কথা- কোম্পানির মুখপাত্র ন্যাথালি সিফেংফেট টরন্টো স্টারকে জানিয়েছেন। বোম্বারডিয়ার নির্মিত কিউ-৪০০ বা ড্যাশ-৮ বৃহৎ প্রপ উড়োজাহাজ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চলছে। কোম্পানিটি এ পর্যন্ত ৯০টি দেশে ৫০০’র বেশি কিউ-৪০০ উড়োজাহাজ সরবরাহ করেছে।
বোম্বারডিয়ারের এই উড়োজাহাজই ছিল বাংলাদেশের বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বহরে, যা সোমবার নেপালের কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়ে অর্ধশত নিহত হন।
দুর্ঘটনার জন্য বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সঙ্গে বৈমানিকের ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে: বিষয়টি তদন্ত করছে নেপাল সরকার।

মরদেহ বহনে সহযোগিতা করবে বিমান: ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের প্লেন বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহতদের মরদেহ পরিবহনে যে কোনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ এ কথা জানান।

শাকিল মেরাজ বলেন, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স চাইলে যে কোনো ধরনের সহযোগিতা করব আমরা। সেটা মরদেহ পরিবহন হোক, আর অভিজ্ঞ কোনো কর্মকর্তা দিয়ে হোক বা যে কোনো ধরনের টেকনিক্যাল সমস্যা সমাধানে বিমান তাদের পাশে আছে। তারা যে ধরনের সহযোগিতা চাইবে সেটাই দিতে আমরা প্রস্তুত। মানবকণ্ঠ