সাংবাদিক নির্যাতনকারী ডিবি পুলিশের ৮ সদস্য ক্লোজড (ভিডিও নির্যাতনের কথা)

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৪১:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৮

বেসরকারী টিভি চ্যানেল’র ক্যামেরা পার্সন সুমন হাসান’র উপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ৮ সদস্যকে লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদনের উপর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মহানগরের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ। ক্লোজড হওয়া আট পুলিশ সদস্য হলো-উপ পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) আবুল বাশার, সহকারী উপ পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) আক্তার হোসেন ও স্বপন, কনস্টেবল মাসুদ, রাসেদ, হাসান, রহিম ও সাইফুল।Image may contain: 3 people, people smiling

এদিকে ডিবি পুলিশের নির্যাতনের শিকার টিভি চ্যানেল ডিবিসি’র ক্যামেরা পার্সন সুমন হাসানকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

ডিবিসি’র নির্যাতিত সাংবাদিক সুমন হাসান জানান, মঙ্গলবার দুপুরে অফিস থেকে বাসায় যাওয়ার পথে এক নিকট আত্মীয়কে গোয়েন্দা পুলিশ ইয়াবা সহ আটক করে বলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় সে। সেখানে গিয়ে জানতে পারে তার আত্মীয়ের কাছ থেকে কোন ইয়াবা পায়নি ডিবি পুলিশ। সেই সময় আটককৃত যুবককে ধাক্কা দেয় সে। কারণ হিসেবে সে জানায়, আটককৃত যুবক তার ঐ নিকট আত্মীয়কে জড়িয়ে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে। তখন ডিবি’র এসআই আবুল বাশার’র নেতৃত্বাধীন দলের সদস্যরা পরিচয় জানতে চায়। সাংবাদিক পরিচয় দেয়া মাত্রই তার উপর চড়াও হয় ডিবি পুলিশের সদস্যরা। মুহুর্তের মধ্যেই ডিবি’র সদস্যরা তার টি-শার্ট টেনে ছিড়ে ফেলে চড়-থাপ্পড় শুরু করে।

এমনকি তাকে রাস্তায় ফেলে পেট ও হাতের উপর পা দিয়ে মাড়িয়ে অপর হাতে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে টেনে হিচড়ে তাদের গাড়িতে তোলে। সুমন অভিযোগ করেন, ডিবির ওই সদস্যরা তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়। এমনকি সাংবাদিকদেরও গালাগাল দিয়ে অন্ডকোষ চেপে ধরে মেরে ফেলার চেষ্টা এবং ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।

এদিকে খবর পেয়ে কর্মরত বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা নগরীর পলিটেকনিক রোডে নগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে ছুটে যান। সেখানে নির্যাতিত সাংবাদিক সুমনকে হাতকড়া পরিহিত অবস্থায় কাঁদতে দেখে ক্ষোভে ফেঁটে পড়েন তারা। এ সময় তাদের সামনেই সুমনের উপর নির্যাতনকারী প্রধান অভিযুক্ত কনস্টেবল মাসুদ অপর এক সাংবাদিককে লাথি দেয়। এতে সাংবাদিকরা আরো ক্ষুব্ধ হন। তখন মহানগরের পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ খান সাংবাদিকদের শান্ত করে তার অফিস কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে সকল সাংবাদিকদের দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী নগর গোয়েন্দা পুলিশের দলে থাকা ৮ জনকে ক্লোজড করে লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

ডিবি পুলিশের দায়িত্বে থাকা উপ-পুলিশ কমিশনার উত্তম কুমার পাল ও উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম রউফ খান সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়ে বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথেই দেখছি। এই ঘটনায় জড়িতদের শুধু ক্লোজডই নয়। তাদের বিরুদ্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে আশ্বস্থ করেন।

এদিকে সুমনকে নির্যাতনের খবর শুনে সিনিয়র সাংবাদিকরা ডিবি অফিসে গেলে কতিপয় অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যর সাথে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কয়েকজন সংবাদ কর্মীকে লাথি, কিল-ঘুষিও দেয়া হয় যা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও প্রমান পেয়েছেন।