“বিমানে বিধ্বস্ত বাবা-মেয়ের লাশ মর্গে”শ্রীপুরে শোকের মাতম

এস এম জহিরুল ইসলাম এস এম জহিরুল ইসলাম

গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ১২:২৮:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৮
“বিমানে বিধ্বস্ত বাবা-মেয়ের লাশ মর্গে”শ্রীপুরে শোকের মাতম

বেসরকারি মালিকানাধীন বাংলাদেশী বিমান সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নম্বর ২১১ নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রানওয়েতে নামার সাথে সাথে কানাডীয় বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা বমবার্ডিয়ার অ্যারোস্পেসের তৈরি ড্যাশ-৮ বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। নেপালে ত্রিভুবন বিমানবন্দরে সোমবার বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস বাংলার বিমানে ছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুরের নগর হাওলা গ্রামের পাঁচ যাত্রী। তারা হলেন- এফ.এইচ প্রিয়ক (৩২), স্ত্রী আলমুন নাহার এ্যানী প্রিয়ক (২৫), একমাত্র মেয়ে তামারা প্রিয়ন্মুখ (৩) ও একই গ্রামের মেহেদী হাসান মাসুম (৩৩) এবং তার স্ত্রী সাঈদা কামরুন্নাহার স্বর্ণা (২৫)।

রাতে মেহেদী হাসান মাসুমের ফোনে খবর আসে সে ভাল আছে এবং তার স্ত্রী স্বর্ণা এবং প্রিয়কের স্ত্রী এ্যানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও প্রিয়ক ও প্রিয়কের একমাত্র মেয়ে তামারা নিখোঁজ রয়েছে। এ নিয়ে এই পরিবারের স্বজনরে মধ্যে উদ্বেগ আর শোকের মাতম নেমে আসে। নিখোঁজ হওয়া প্রিয়কের বিধবা মা জানান, তার একমাত্র ছেলে স্ত্রী কন্যাসহ নেপালে ৫ দিনের ভ্রমণের উদ্দেশ্যে বের হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি এবং বার বার মূর্ছা যান। স্বজনদের পাশে গভীর রাতেই শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেহেনা আকতার ও সহকারি কমিশনার (ভুমি) সোহেল রানা দূতাবাস থেকে সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দেন।

এদিকে মঙ্গল বার সকাল ১০ টার দিকে স্বজনদের ৪৬ জন ইউএস বাংলার আরেকটি ফ্লাইটে নেপাল পৌঁছান। কাঠমান্ডুতে পৌঁছার পর প্রথমেই নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশ দূতাবাসে। সেখান থেকে দূতাবাসের গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে আপনজনের লাশের পাশে। শ্রীপুরের স্বজনদের মধ্যে ইজাজ আহমেদ মিলন জানান, নিখোঁজ হওয়া প্রিয়ক ও তার মেয়ের লাশের সন্ধান মিলেছে হাসপাতালের মর্গে। সকল লাশ স্বজনরা শনাক্ত করার পরই লাশ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা হবে।