ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বিপাকে কুয়াকাটার শুঁটকি চাষীরা

প্রকাশিত: ১২:২২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৮ | আপডেট: ১২:২২:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৮

ব্যাপক কর্মসংস্থান আর রাজস্ব আয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দিনে দিনে কুয়াকাটা থেকে কমে যাচ্ছে শুঁটকি চাষ। স্থায়ী পল্লী, পুজি সংকট ও শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি না থাকায় নানা সমস্যায় বিপাকে শুঁটকী চাষীরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটাসহ কলাপাড়া চরাঞ্চলে গড়ে উঠেছে বেশ কয়েকটি অস্থায়ী শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত পল্লী ও শুঁটকী মার্কেট।

কাঁচা মাছ কীটনাশক ছাড়া পরিচ্ছন্নতার সাথে রোদে শুকিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরন করে করা হচ্ছে শুঁটকী। মৌসুমের শেষ ভাগে পল্লী গুলোতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন শ্রমিকসহ ব্যবসায়ীরা। অস্থায়ী ভাবে গড়ে ওঠা এ সব পল্লীতে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় একশ পঞ্চাশ মেট্রিক টন মাছের শুঁটকি হয়। যা দেশের বাজার ছাড়াও রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে। স্থানীয় বাজারে বারোমাস চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বর্ষায় শুকানো যায়না বলে প্রাকৃতিক নির্ভর এ ব্যবসা চলে কার্তিক থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত। তাছাড়া শুঁটকির সাথে জড়িত অধিকাংশ ব্যবসায়ীদের রয়েছে পুজি সংকট। পুজি বলতে তাদের রয়েছে এনজিওর লোন আর মহাজনদের উচ্চ সুদের ধারদেনা। এ এনজির লোন ও মহাজনদের উচ্চ সুদ শোধ করে ব্যবসা চালানো তাদের পক্ষে খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। কিন্তু কুয়াকাটায় দীর্ঘ চল্লিশ বছরেও গড়ে ওঠেনি কোন স্থায়ী শুঁটকী পল্লী। শ্রমিকদের রয়েছে পারিশ্রমিক কম পাওয়ার অভিযোগ ।

ফলে দিনে দিনে কুয়াকাটা থেকে কমে যাচ্ছে শুঁটকি চাষ। তবে কুয়াকাটায় স্থায়ী ভাবে শুঁটকী পল্লী, শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা এবং পুজি সঙ্কটের স্থায়ী সমাধানে স্বল্প সুদে পর্যাপ্ত ঋনের ব্যবস্থা করা হলে, সরকারের রাজস্ব যেমনি বাড়ত তেমনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শুঁটকির সাথে জড়িত সহ¯্রাধিক পরিবারের স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ ঘটত বলে আসা বিশিষ্টজনদের।

শুঁটকি প্রক্রিয়াজাত শ্রমিক মোসা.কদবানু বলেন, সারাদিন খাটুনির পর তিনশ টাকা বেতন পাই। যা দেয় তাতে পোষায়না। বসে থাকলে তো পেটে খাবার জোটবেনা। তাই কাজ করি। যদি একটু বেতন বাড়াতো তবে ভালভাবে চলতে পারতাম।

শুঁটকী ব্যবসায়ী রহমান মিয়া বলেন, বিভিন্ন দুর্যোগে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তারপরও বিশ বছর ধরে এ ব্যবসা ধরে রেখেছি। পুঁজি আমাদের বড় সমস্যা। স্থানীয় ব্যাংক গুলো আবাসন ব্যবসায়ীদের লোন দিলেও আমাদের দিচ্ছেনা। খুরচা বিক্রেতা করিম হাওলাদার বলেন, পর্যটন মৌসুমে শুঁটকির ব্যাপক চাহিদা থাকে। এ মৌসুমে আমাদের ব্যবসা বেশ ভালই হয়। বর্ষা মৌসুমে আমাদের ব্যবসা তেমন একটা ভাল চলেনা। তবে সরকার যদি স্থায়ী ভাবে শুঁটকি পল্লী করে দিত তাহলে সারা বছর ব্যবসা করতে পারতাম।

কুয়াকাটার অস্থায়ী শুটকি পল্লীতে ঘুরতে আসা পর্যটক সালেহীন আহমেদ বলেন, শুঁটকীর গুনগত মান ভাল। বেশ পরিচ্ছন্নও। তবে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সচেতনতায় নজর বাড়ানো উচিৎ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম জানান, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন শুঁটকি উৎপাদনের জন্য ইতোমধ্যে এ উপজেলার ৩০০ জন জেলেকে প্রশিক্ষন দেয়া হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌর মেয়র আবদুল বারেক মোল্লা জানান, শুঁটকি পল্লীর স্থান নির্ধারনের জন্য পরিকল্পনা চলছে। এছাড়া শুটকি মার্কেটের জন্য এলজিইডিতে দুটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।