তৃণমূলকে চাঙা করতে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে প্রধানমন্ত্রী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৪৫:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০১৮

মামুন : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৃণমূলকে চাঙা করতে নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনী বছরে ধারাবাহিক জেলা সফরে করছেন তিনি। দলীয় সভানেত্রীর এই আগমনের খবরে সাংগঠনিক গতি বাড়ছে মাঠ নেতাদের। প্রধানমন্ত্রী যেসব জেলায় জনসভা করছেন সেখানকার নেতারা জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত করার জন্য দিনরাত প্রাণান্তকর চেষ্টা চালাচ্ছেন।

জনসভায় ব্যাপক লোকসমাগমের লক্ষ্যে মহানগর, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়েও ধারাবাহিক সভা, গণসংযোগ, মিছিল, মাইকিং এবং লিফলেট বিতরণ করছে আওয়ামী লীগ। টানা ৯ বছরের বিভিন্ন খাতের অভাবনীয় উন্নয়ন প্রচার ও নিজের পরিকল্পনায় দেশের তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়িত নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘুরে দেখছেন তিনি। এর পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আনতে নৌকা মার্কায় ভোট চাইছেন জনগণের কাছে। সূত্র জানায়, এখন নগরগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। পরে দুই মেয়াদে সরকারপ্রধান থাকা অবস্থায় যেসব জেলায় এখনো সফর করেননি সেগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

সূত্রমতে, টানা ৯ বছরের উন্নয়নগুলো স্বচক্ষে দেখা এবং জেলা-মহানগরবাসীর বিশেষ উপহার নিয়ে হাজির হচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জ, ২১ মার্চ চট্টগ্রাম, ২৯ মার্চ ঠাকুরগাঁও, ১ এপ্রিল চাঁদপুর, ৫ এপ্রিল ময়মনসিংহ যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর গাজীপুর, রংপুর ও কক্সবাজার যাওয়ার কথা রয়েছে। ৩০ জানুয়ারি সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি বরিশাল, ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী ও ৪ মার্চ খুলনায় নির্বাচনী জনসভা করে এসেছেন তিনি। দলীয় প্রধানের এই সফর ঘিরে উজ্জীবিত হচ্ছে তৃণমূল। গতি ফিরছে দলে। ভোট বাড়ছে নৌকার পক্ষে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত জেলা সফর অব্যাহত রাখবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দল ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শীর্ষ সূত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইতিমধ্যে যেসব জেলায় সফর শেষ করেছেন, সেসব জায়গায় নেতা-কর্মীরা আগের চেয়ে উজ্জীবিত ও ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী সফর পর্যায়ে প্রথম এসেছিলেন সিলেট। তিনি জনসভা করে যাওয়ার পর মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের সব পর্যায়ের নেতা-কর্মী উজ্জীবিত। তারা দলের সদস্য সংগ্রহ এবং সরকারের উন্নয়নগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে ব্যাপকভাবে কাজ করছেন। দলীয় সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছে আওয়ামী লীগ। টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে সংগঠন গোছানোর পাশাপাশি উন্নয়ন প্রচারে মনোযোগী ক্ষমতাসীন দলটি।

এ জন্য এখন থেকেই নির্বাচনী মাঠে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী নিজেই। ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনী সফর শুরু করেছেন। প্রথমে বিভাগীয় শহর, পরে জেলায় জেলায় জনসভা করছেন। ইতিমধ্যে চারটি বিভাগীয় শহর সফর শেষ করেছেন। সামনে দুটি বিভাগীয় শহর ও পাঁচটি জেলা সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত আছে। বিশেষ কোনো কারণ না থাকলে এগুলোয় জনসভা করবেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের উজ্জীবিত করতে এবং টানা ৯ বছরে সরকারের উন্নয়ন জনগণের সামনে তুলে ধরতে বিভাগীয় শহর ও জেলা সফর করছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সফর অব্যাহত থাকবে।

দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর জেলা সফর নির্বাচনী প্রচারণারই অংশ। সামনে সিটি নির্বাচন। যেসব জেলায় সিটি নির্বাচন হবে, সেগুলোয় তফসিল ঘোষণার আগেই প্রধানমন্ত্রী সফর শেষ করছেন। কারণ তফসিল ঘোষণা হলে প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় অংশ নেওয়া নির্বাচনী আচরণবিধিতে নিষেধ আছে। এ ছাড়া জেলায় জেলায় তার সফরে দলীয় নেতা-কর্মীরা চাঙা হয়ে উঠছেন। আগের চেয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে সাংগঠনিক কাজের গতি বেড়েছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন