খালেদাকে ‘গণতন্ত্রের মা’ বললেন ফখরুল

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:০৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০১৮ | আপডেট: ১১:০৪:অপরাহ্ণ, মার্চ ১০, ২০১৮

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়া কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। বর্তমান সরকার তাঁর ওপর অনেক অত্যাচার করেছে। তাঁকে বাড়ি থেকে উৎখাত করা হয়েছে। এ জন্য তিনি শুধু দেশের মা নন, আজ খুলনার জনসভা থেকে তাঁকে ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে নতুন উপাধি দিতে চাই।

আজ শনিবার খুলনা নগরের কেডি ঘোষ রোডে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত দলীয় জনসভায় মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন। শনিবার নগরের শহীদ হাদিস পার্কে সভা করার অনুমতি চেয়েছিল বিএনপি। কিন্তু সেখানে সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সব ধরনের মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পরে দুপুর ১২টায় খুলনা নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এইমাত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে জনসভা করার অনুমতি দিয়েছেন।

জনসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ সংগ্রামের সূচনা শুধুমাত্র খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য নয়। এই সংগ্রামের সূচনা হলো বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির জন্য। এই সংগ্রাম হলো মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য, আমাদের ভাতের অধিকার আদায়ের জন্য। এই সংগ্রাম হচ্ছে আমাদের বাঁচা মরার সংগ্রাম। এই সংগ্রামে জয়ী হতে হবে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া কখনো অন্যায়ের সঙ্গে আপস করেননি। নয় বছর এরশাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, খালেদা জিয়াকে ন্যূনতম আইনি অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কারণ ভয়! এই ভয় কিসের? খালেদা জিয়া যদি মাঠে নামেন, তাহলে এই স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারকে শুধু এই দেশ থেকে নয়, উপমহাদেশ থেকে চলে যেতে হবে। সেই কারণে বিএনপিকে এত ভয়।

বিএনপির মহাসচিব অভিযোগ করেন, এই সরকার গায়ের জোরে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে আছে। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার জন্য তারা যা ইচ্ছে তাই করছে। গত কয়েক বছরে বিএনপির বহু নেতা-কর্মীকে খুন করা হয়েছে, গুম করা হয়েছে, পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছে। পুলিশ বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা কেন জনগণের প্রতিপক্ষ হচ্ছেন? জনগণ আপনাদের প্রতিপক্ষ মনে করে না। জনগণের প্রতিপক্ষ তো আওয়ামী লীগ।’ তিনি বলেন, আজ আমাদের নেত্রী কারাগারে। হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অভিযোগ আমরা নাকি নাশকতার পরিকল্পনা করি।

নেতা-কর্মীদের সকল বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান ফখরুল।

স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, আজ আওয়ামী লীগ রাজনীতির জোরে নয় প্রশাসনের জোরে টিকে আছে। আজ দেশে গণতন্ত্র নেই। আর মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করছে সরকার।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৩৬ বছর আগে খালেদা গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে রাজনীতিতে আসেন। তিনি স্বামী-সন্তানকে বিসর্জন দিয়েছেন। কিন্তু জনতাকে ছাড়েননি। গণতন্ত্রের আন্দোলনের সঙ্গে আপোস করেননি। কারাগারে যাওয়ার পর এতটুকুও ভেঙ্গে পড়েননি। কারাগারে থাকা অবস্থায় তার চেহারায় মলিনতার ছাপ পড়েনি। বরং জনগণের কথা মাথায় রেখে তিনি এখনও মনের শক্তিতে বলিয়ান রয়েছেন। কারাগারে থেকেও তিনি তেজশ্রী রয়েছেন। তিনি কারাগার থেকে দলীয় নেতা-কর্মীকে ধৈর্য ধারণ করে জনতাকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে বলেছেন। ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন

কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও বক্তব্য দেন নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নিতাই রায় চৌধুরী, বরকতুল্লাহ বুলু, খুলনার মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান প্রমুখ।

এর আগে সকাল থেকে এই জনসভা ঘিরে নগরে উৎকণ্ঠা ছিল। বেলা ১১টার দিকে দেখা যায়, খুলনা সদর থানা মোড়ে ও হেলাতলা মোড়ে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে রেখেছে পুলিশ। বিপুলসংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি জলকামান ও পুলিশের সাঁজোয়া যানও ছিল। বিএনপির নেতা-কর্মীরা ধীরে ধীরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন। এ ছাড়া নগরের প্রবেশ পথ এবং বিভিন্ন মোড়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ে।

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে