চলন্ত বাসে পোশাককর্মীকে ধর্ষণ

পরিবহনশ্রমিক নিয়োগে শৃঙ্খলা আনতে হবে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৭ | আপডেট: ৩:৫৪:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৭, ২০১৭
চলন্ত বাসে পোশাককর্মীকে ধর্ষণ

চট্টগ্রামে চলন্ত বাসে ফের তরুণী ধর্ষণের ঘটনায় গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তার গুরুতর সমস্যার বিষয়টি আবার তুলে ধরল। গতকাল সোমবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ওই পোশাককর্মী (২৪) বান্ধবীদের সঙ্গে বেড়ানো শেষে বাসে করে বাড়ি ফেরার সময় তাঁর তিন বান্ধবীসহ অন্য যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর ফাঁকা বাসে ধর্ষণের শিকার হন। জানালা-দরজা আটকে বাসের চালকের সহকারী ও বাসচালক ওই পোশাককর্মীকে পালা করে ধর্ষণ করেন। গত ২৭ অক্টোবর এ ঘটনা ঘটলেও ওই পোশাককর্মী ৩ নভেম্বর ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

দেখা যাচ্ছে, কোনো তরুণী বাসে একা হলেই তিনি ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। আমরা রূপার বেলায়ও তাই দেখেছি। গত ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন বাসচালক, সহকারীসহ পাঁচ পরিবহনশ্রমিক। এ রকম আরও বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এ রকম চলতে থাকলে এ দেশের নারীরা গণপরিবহনে কীভাবে যাতায়াত করবেন?

গণপরিবহনে নারীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারেন, সে জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। আমাদের দেশে গণপরিবহনে চালক, সহকারী নিয়োগের ক্ষেত্রে তেমন কোনো নিয়ম মানা হয় না। মালিকপক্ষ তাদের ইচ্ছামতো পরিবহনশ্রমিক নিয়োগ করে। এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনতে হবে। গাড়িতে চালক ও সহকারী নিয়োগের বিষয়টি একটি নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। তাঁদের নিয়োগপত্র দিতে হবে, যাতে বিভিন্ন শর্তের উল্লেখ থাকবে। তাঁদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে এবং অতীতের কর্মকাণ্ড যাচাই করে ছবি ও দরকারি সব তথ্য নিয়ে তবেই নিয়োগ

দিতে হবে, যাতে কোনো অপরাধ করলে তাঁদের দ্রুত শনাক্ত করা যায়। বাসের মালিকপক্ষের সচেতনতা ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ সফল হবে না। তবে সবার আগে এ ব্যাপারে সরকারের তরফে প্রয়োজনীয় করণীয় ঠিক করা জরুরি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।

চট্টগ্রামে চলন্ত বাসে ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত দুই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে। দেরিতে হলেও সাহস করে ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মামলা করায় আমরা ওই পোশাককর্মীকে অভিনন্দন জানাই। আমরা আশা করব এই ধর্ষকেরা যথোপযুক্ত সাজা পাবেন। আইনের ফাঁক গলে তাঁরা যাতে বের হয়ে যেতে না পারেন, সে ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।