ভাবমূর্তি! দৃশ্যমান এই পরিস্থিতি কাটাতে চায় জাপা !

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০১৮ | আপডেট: ১২:৩৩:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০১৮
ভাবমূর্তি! দৃশ্যমান এই পরিস্থিতি কাটাতে চায় জাপা !

তারেক : জাতীয় পার্টিজাতীয় সংসদে বিরোধী দল আর সরকারে চার মন্ত্রী— ২০১৪ সালের পর থেকে এই হচ্ছে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির ভাবমূর্তি! দৃশ্যমান এই পরিস্থিতি কাটাতে চায় দলটি। আগামী নির্বাচনের আগে সংসদে ও রাজপথে সরকারের বিরুদ্ধে নানামুখী বক্তব্য দিয়ে প্রকাশ্যে বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে চাইছে জাপা।

রাজপথে থাকা বিরোধী দল ও শক্তিগুলোর অভিযোগ— কার্যকর বিরোধী দল হতে ব্যর্থ হয়েছে জাতীয় পার্টি। আর এই অভিযোগের স্বীকারোক্তিও এসেছে জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদের কাছ থেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যেই বিরোধী দলের নেত্রী বলেছেন, ‘জাপার এমপিরা বিরোধী দল হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন না। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে লজ্জা পান। কারণ, আমরা সরকারি দল, না বিরোধী দল–সাংবাদিকরা তা জানতে চান।’ রওশন এরশাদ এও বলেছেন— ‘সরকার থেকে তার দলের মন্ত্রীদের সরিয়ে দিতে, না হলে রেখে দিতে।’

রওশন এরশাদের এই বক্তব্যের দুদিন পরই পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ জানালেন, দ্রুতই মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করবেন জাপার এমপিরা।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপি নির্বাচন বর্জন করলে; নানা নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে দশম সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল জাতীয় পার্টি। এরপর বিরোধী দলের আসনে বসার পাশাপাশি সরকারেও যোগ দেয় দলটি। দলের তিন নেতা সরকারের মন্ত্রিসভায় আছেন। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ রয়েছেন মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের দায়িত্বে।

জাপার প্রেসিডিয়ামের একাধিক সদস্যের ভাষ্য— বিগত চার বছর ধরে সংসদে থাকলেও বিরোধী দল হিসেবে কোনও ভাবমূর্তিই দাঁড়ায়নি জাপার। পার্টির চেয়ারম্যান অন্তত দশ বার মন্ত্রিপরিষদ থেকে তার দলের সদস্যদের পদত্যাগের কথা বললেও তার কথা কেউ শোনেননি। এমনকী তিনি নিজেও বিশেষ দূতের পদ থেকে পদত্যাগ করেননি। বরাবরই এ বিষয়ে এরশাদ কোনও মন্তব্য করবেন না বলে জানিয়েছেন। শুক্রবার (২ মার্চ) দুপুরেও এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বললে তিনি কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

দলের কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের মনে করেন, জাপার সদস্যদের মন্ত্রিপরিষদ থেকে আরও আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল। যদিও ঠিক কী কারণে তারা পদত্যাগ করেননি, তা তিনি বলেননি।

প্রভাবশালী একটি গোয়েন্দা সংস্থার সূত্রের দাবি, জাপা চেয়ারম্যান এরশাদ অনেকবারই মন্ত্রিপরিষদ থেকে তার দলের সদস্যদের পদত্যাগ করতে বলেছেন। তবে এগুলো কেবল রাজনৈতিক প্যানিক সৃষ্টির জন্য। বিশেষ করে আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে জাপা জোট থেকেই নির্বাচন করবে। আর বিএনপি নির্বাচনে না এলে জাপা আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেবে।

জিএম কাদেরের তরফেও এমনই তথ্য জানানো হয়।

তবে গোয়েন্দা সংস্থার ওই সূত্রের ভাষ্য— হঠাৎ করেই রওশন এরশাদের কণ্ঠে পদত্যাগের কথা আসায়, তারা বিচলিত হয়েছেন। যদিও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ নিয়ে কোনও চিন্তা নেই।

সূত্র বলছে, রওশন এরশাদ পদত্যাগের কথা বললেও এতে উচ্চ পর্যায়ের সমর্থন রয়েছে। বিশেষ করে সরকারপন্থী জোটের কয়েকটি শরিক দলের মন্ত্রীত্ব পাওয়ার ইচ্ছা থেকেই একঢিলে দুই পাখি শিকার করা যায় কিনা, এমন চিন্তা সরকারের উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

এপ্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাপা নেতা ও সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমরা দল করি। দলের যে কোনও সিদ্ধান্ত মেনে চলবো। মন্ত্রিত্ব ছাড়া না ছাড়ার বিষয়ে দল যে সিদ্ধান্ত দেবে, আমার কাছে সেই সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এখানে আমার ব্যক্তিগত কোনও অভিমত নাই।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মুজিবুল হক বলেন, ‘আমাদের পার্টির নেতা, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ কেন এই কথা বলেছেন, তা আমি জানি না। তার কাছে আমি জানতেও চাইনি। কেননা, এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া আমার এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না।’

এবিষয়ে জাপার মহাসচিব রুহুল আমীন হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

দলটির প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্য ও সংসদ সদস্য মনে করেন, ‘মানুষের মধ্যে সংশয় আছে জাতীয় পার্টি সত্যিকার অর্থে বিরোধী দল কিনা। কিন্তু এটাই সত্যি যে, আমরা না সরকার—না বিরোধী দল। পার্টির প্রেসিডিয়ামে সিদ্ধান্ত থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন নির্বাচনের বছর, জাপা সরকারে ছিল, বিরোধী দলে আছে। সেই সূত্র ধরেই প্রকৃত অর্থে বিরোধী দল হতে চাই আমরা।’ বাংলা ট্রিবিউন