নব সাজে খুলনা নগরী, সকলে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত, চাঙ্গা নেতাকর্মীরা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:২৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৫২:অপরাহ্ণ, মার্চ ২, ২০১৮
নব সাজে খুলনা নগরী, সকলে প্রধানমন্ত্রীকে বরণে প্রস্তুত, চাঙ্গা নেতাকর্মীরা

খুলনায় সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (০৩ মার্চ) তার আগমনকে কেন্দ্র করে মহানগরীতে সাজ সাজ রব। ওইদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন।

এর আগে বেলা ১১টায় খালিশপুরের ঈদগাহ ময়দানে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীজুড়ে তিনস্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি তৎপর রয়েছেন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হবে সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্য।ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে খুলনা এর ছবির ফলাফল

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মহানগরীতে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। তাকে স্বাগত জানাতে শহরের প্রবেশ পথসহ প্রধান প্রধান সড়কে তৈরি করা হয়েছে শত শত তোরণ। বড়-ছোট সব রাস্তাতেই শোভা পাচ্ছে প্যানা, ব্যানার ও ফেস্টুন। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যাপক কর্মতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের কাছে গুরুত্ব বহন করছে। উন্নয়নের পাশাপাশি প্রত্যাশা নিয়ে এরইমধ্যে বিভিন্ন দাবি করা হচ্ছে উন্নয়ন কমিটি আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে। নির্বাচনের বছর হওয়ায় এই সফরের রাজনৈতিক গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে জাতীয় সংসদ ও খুলনা সিটি নির্বাচন চলতি বছরেই অনুষ্ঠিত হবে। এ কারণে তার সফরে উজ্জীবিত তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও।Image may contain: outdoor

শনিবার বেলা ৩টায় খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ৪৭টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৫২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

যেসব প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- গল্লামারী-বটিয়াঘাটা-দাকোপ-নলিয়ান ফরেস্ট সড়ক, রূপসা-শ্রীফলতলা-তেরখাদা সড়ক, কেডিএ খানজাহান আলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক-কাম-প্রশাসনিক ভবন, লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাডেমিক ভবন, চালনা মোবারক মেমোরিয়াল কলেজের একাডেমিক ভবন, খুলনা আইডিয়াল কলেজের একাডেমিক ভবন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের একাডেমিক ভবন, খুলনা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন, মহেশ্বরপাশা সরকারি শিশু পরিবার হোস্টেল ভবন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউ ভবন, মেডিকেল কলেজের অডিটরিয়াম ভবন, শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল ভবন।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী যেসব প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- খুলনা-চুকনগর-সাতক্ষীরা (খুলনা অংশ) সড়ক, পাইকগাছা কৃষি কলেজ, বটিয়াঘাটা ডিগ্রি কলেজের একাডেমিক ভবন, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইমেজিং ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ‘এ’ ব্লকের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নার্সেস ডরমেটরি, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টাফ ডরমেটরি, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বাংকার, খুলনা সদর হাসপাতালকে ১৫০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, সিভিল সার্জনের অফিস ভবন, শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের আবাসিক ভবন, দিঘলিয়া উপজেলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, এএসপি ‘ক’ সার্কেল অফিস, দৌলতপুর থানা ভবন, আর্ম পুলিশ ব্যাটালিয়নের অস্ত্রাগার ভবন, পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের একাডেমিক ভবন, পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ফায়ারিং বার্ট, পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অস্ত্রাগার ভবন, জেলা রেজিস্ট্রি অফিস ভবন, রূপসা উপজেলা মডেল মসজিদ, আলিয়া মাদরাসা মডেল মসজিদ, ডুমুরিয়া ভদ্রা নদীর উপর ৩১৫.৩০ মিটার লম্বা পিসিগার্ডার ব্রিজ, বটিয়াঘাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপেক্স ভবন।সম্পর্কিত ছবি

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক বাংলানিউজকে বলেন, স্মরণকালের সর্ববৃহৎ জনসভা হবে শনিবারের জনসভা। পুরো খুলনা শহরই হবে জনসভাস্থল। প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় আগমন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। তারা প্রধানমন্ত্রীকে বরণের জন্য অধীর অপেক্ষায় রয়েছেন।

 

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত ও শুভেচ্ছা জানিয়ে উজ্জীবিত নেতাকর্মীদের উন্নয়নের শ্লোগান সংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন, পোস্টার, বিলবোর্ড আর তোরণে ছেয়ে গেছে পুরো মহানগরী। এ সাজ ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের জেলা, উপজেলাগুলোতেও। চলছে মাইকিং, উঠোন বৈঠক, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে উদ্বুদ্ধকরণ সভা। জনসভাকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। জনসভার মাঠে তৈরি করা হয়েছে ১১০ ফুট দৈর্ঘ্যরে বিশাল আকৃতির ‘নৌকামঞ্চ’। তবে সর্বত্র উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও গ্রেফতার আতঙ্কে বাড়িতে থাকতে পারছেন না বিএনপি-জামায়াতসহ বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা। চলছে প্রশাসনের সন্দেহজনক বাসাবাড়ি, হোস্টেল ও ম্যাচগুলোতে তল্লাশি। অন্য দিকে পুলিশ, র‌্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে জনসভাস্থল এলাকায় থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়।সম্পর্কিত ছবি

নিরাপত্তা নিশ্চিত ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুরো নগরজুড়ে বসানো হয়েছে ৩০-৩৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা। নগরীর প্রবেশদ্বার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে চলছে তল্লাশি।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে খুলনা এসে সার্বিক তদারকি করছেন জনসভার প্রধান সমন্বকারী বঙ্গবন্ধুর ভ্রাতুষ্পুত্র শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি। মঞ্চ তৈরিসহ খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠ প্রস্তুতের দায়িত্ব পালন করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি তালুকদার আবদুল খালেক এমপি। সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করছেন কেন্দ্রীয় নেতা এস এম কামাল হোসেন, নগর সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি। Image may contain: 8 people, people smilingএরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে সফরসূচি খুলনা এসে পৌঁছেছে।
এ দিকে খুলনার জনসভায় অংশ নিতে সড়কপথে সরকারের মন্ত্রী, এমপি, কেন্দ্রীয় নেতা ও বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষ খুলনা আসতে সড়ক ও মহাসড়কগুলোতে সাধ্যমতো সংস্কারের পাশাপাশি চলছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা। চলছে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে দিন-রাত মাইকিং। প্রধানমন্ত্রীর আগমনস্থল খালিশপুর থেকে মহানগরীর জনসভাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকাজুড়ে শোভা পাচ্ছে নৌকা প্রতীকের বিশাল বিশাল তোরণ। সংসদ সদস্য এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনায়ন পেতে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে এসব ব্যানার টানানো হয়েছে। প্রতিদিনই চলছে সরকারীকরণের দাবিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও সংবাদ সম্মেলন। মঞ্চ পরিদর্শন করতে গিয়ে এর সাথে সম্পৃক্তরা জানান, পুরো মঞ্চটি হবে নৌকাসদৃশ। যার দৈর্ঘ্য হবে ১১০ ফুট এবং প্রস্থ ৩০ ফুট। তিন শতাধিক লোক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ মঞ্চটি নির্মাণে ৩৫ জন শ্রমিক এক সপ্তাহ ধরে দিনরাত কাজ করছেন। আজ নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন তারা।

No automatic alt text available.
তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবারের প্রধানমন্ত্রীর সফরকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা বলেন, এবার নির্বাচনী বছর। এটি প্রধানমন্ত্রীর শেষ সফর। সেজন্য তিনি খুলনাঞ্চলের মানুষের আশা আকাক্সার প্রতিফলন ঘটাবেন। এ জন্য জনসভায় সর্বোচ্চ উপস্থিতি করতে তারা মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন। সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি জনসভা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকবেন। মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক এমপি জানান, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা শুধু সাকির্ট হাউজ নয়, পুরো খুলনা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। এ জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে সভা করা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে কালকের জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে। নগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার অবহেলিত খুলনার উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক। তার আগমনে খুলনাঞ্চলের মানুষের আশা-আকাক্সার প্রতিফলন ঘটবে।

Image may contain: one or more people and outdoor
গতকাল দুপুরে জনসভাস্থল পরিদর্শন করতে এসে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীর সাংবাদিকদের জানান, খুলনা জনসভাকে নিরাপদ ও নির্বিঘœ করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় থাকবে। সার্বিক নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে সাড়ে তিন হাজার পুলিশ। জনসভাস্থলসহ প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথগুলোতে ৭০টির বেশি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া জনসভাস্থলে নেতাকর্মীদের প্রবেশপথে স্থাপন করা হবে আর্চওয়ে। থাকবে মেটাল ডিটেক্ট ও স্ক্যানিং মেশিন। তিনি বলেন, খালিশপুর ও খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠের জনসভাকে ঘিরে নগরীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট, মোবাইল টহল, র‌্যাবের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া সন্দেহজনক বাসাবাড়ি হোস্টেল ও ছাত্রবাসগুলোতে নজরদারি করা হচ্ছে।