চট্টগ্রামে পোশাককর্মীকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ, মামলা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:৫৬ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৭ | আপডেট: ১১:৫৬:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৭
চট্টগ্রামে পোশাককর্মীকে চলন্ত বাসে ধর্ষণ, মামলা
বাসচালক রাশেদুল ইসলাম ও তাঁর সহকারী ইমতিয়াজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামে এবার এক নারী পোশাকশ্রমিককে চলন্ত বাসে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আজ সোমবার ওই নারী বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন।

এ ঘটনায় বাসচালক রাশেদুল ইসলাম ও তাঁর সহকারী ইমতিয়াজ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এরই মধ্যে তাঁরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ওই নারী শ্রমিক ও মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, নগরীর বিসিক এলাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন ধর্ষণের শিকার নারী ও তিন বোন। শিশুসহ পাঁচজন গত ২৭ অক্টোবর বন্ধের দিন বেড়াতে যান নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে। সেখানে বেড়ানো শেষে সন্ধ্যায় শহর এলাকার ১০ নম্বর রোডের একটি বাসে ওঠেন। বহদ্দারহাটে তিন বোন ও শিশু নেমে যান। আর এক কিলোমিটার পর ওই শ্রমিকেরও বাস থেকে নেমে যাওয়ার কথা। বহদ্দারহাট টার্মিনাল যাওয়ার পর বাসে আর যাত্রী না থাকায় একা মেয়েটির মুখ বেঁধে সর্বস্ব লুটে নেন বাসের চালক ও সহকারী। নির্দিষ্ট জায়গায় নেমে যাওয়ার কথা থাকলেও তাঁরা তা করেননি। এ ছাড়া তাঁকে মোবাইল ফোনেও পাওয়া যায়নি বলে জানা যায়।

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান চট্টগ্রাম সিটি সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির নেতা নুরুল আলম চৌধুরী।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার এস এম মোবাশ্বের হোসেইন জানান, একা মেয়েটিকে নিয়ে বাসচালক ও সহকারীকে দরজা জানালা বন্ধ করে দেয়। মেয়েটির হাত, পা ও মুখ বেঁধে চলন্ত অবস্থায় ধর্ষণ করেছে। এ ঘটনার পর দেরিতে মামলা হলেও পুলিশ আসামি গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

আইনজীবীরা বলছেন, দেশে বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা চলছে। ফিল্মি স্টাইলে শ্রমজীবী মানুষের ওপর এমন ঘটনা নিজেদের কলঙ্কিত করে তুলছে। অ্যাভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, আলোচিত এ ঘটনা গুরুত্ব সহকারে আইনিভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

গত শনিবার অপরাধ স্বীকার করে চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নাজমুল হোসেনের আদালতে জবানবন্দি দেন বাসের চালক ও সহকারী। এর আগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক নারীকে চলন্ত বাসে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। এ ছাড়া গত ২৫ আগস্ট টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে কলেজছাত্রী জাকিয়া সুলতানা রূপাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন পাঁচ পরিবহন শ্রমিক। পুলিশ ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে।