বরিশাল বিভাগে মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:৪৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৬, ২০১৭ | আপডেট: ১:০৬:পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৭, ২০১৭
বরিশাল বিভাগে মনোনয়ন প্রত্যাশী যারা

দশম সংসদ নির্বাচনে বেশির ভাগ আসন ভোট ছাড়া জেতা গেলেও একাদশ নির্বাচনে লড়াই করেই জিততে হবে। তাই ভোটের মাঠে জয় পেতে নানা ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এজন্য আগামীতে যাকে মনোনয়ন দিলে জয়লাভ সম্ভব হবে সেই সব স্বচ্ছ ভাবমূর্তির প্রভাবশালী প্রার্থীর মনোনয়ন দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বরিশাল বিভাগের তালিকায় স্থান পেয়েছেন ৭৩ জন নেতা।
বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার ২১টি সংসদীয় আসনে গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে ১৭টি আসনে, জাতীয় পার্টি ২টি, জাতীয় পার্টি (জেপি) ১টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১টি আসনে। ধারাবাহিক প্রতিবেদনের এ পর্বে থাকছে বরিশাল বিভাগের প্রার্থী তালিকা।

আসন ভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থী: বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ। বরিশাল আওয়ামী লীগের অভিভাবক হিসেবে তাঁর ঐ আসন থেকে অন্য কোনো প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী নেই বলে তাঁর অনুসারীরা দাবি করছেন। তবে অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দারও মনোনয়নের লড়াইয়ে আছেন বলে জানা গেছে।

এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন বিএনপির সংস্কারপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত সাবেক এমপি জহিরউদ্দিন স্বপন, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান, কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বরিশাল জেলা (উত্তর) সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানের নাম আলোচনায় আছে। জাতীয় পার্টি (এ) এককভাবে নির্বাচন করলে এ আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন গৌরনদী উপজেলার সভাপতি ইউনুস বেপারী এবং আগৈলঝাড়া উপজেলার সভাপতি সরদার হারুন রানা। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মেহেদী হাসান রাসেল। জানা গেছে, এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড হওয়ায় আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আওয়ামী লীগ এখানে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় তাদেরই জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি।

বরিশাল-২ (উজিরপুর-বানারীপাড়া) আসনের বর্তমান এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস। তিনি ছাড়াও দলের মনোনয়ন পেতে প্রার্থিতার দৌড়ে আছেন সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনি, বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি শাহে আলম, শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের দৌহিত্র ফাইয়াজুল হক রাজু প্রমুখ।

এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, রনকুল ইসলাম টিপু, দুলাল হোসেন, শহীদুল হক দুলাল এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতা ইলিয়াস খান।

জাতীয় পার্টির (এ) যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক চিত্রনায়ক মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা নেছার উদ্দিন এর নামও এলাকায় আলোচনায় আছে। এ আসন থেকে জাসদের (আম্বিয়া-প্রধান) অ্যাডভোকেট আনিসুজ্জামান আনিস, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বাদলও মনোনয়ন প্রত্যাশী। এ আসনেও আওয়ামী লীগের জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য সাবেক অতিরিক্ত সচিব সিরাজউদ্দিন আহমেদ, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট বলরাম পোদ্দার, মুলাদী উপজেলা চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম মিঠু ও কাজী এমদাদুল হক দুলাল।

বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অপর ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান ও সাবেক এমপি মোশাররফ হোসেন মঙ্গু। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের উপাধ্যক্ষ মাওলানা মো. সিরাজুল ইসলাম মনোনয়ন পেতে পারেন।

জোটভুক্ত নির্বাচন হলে এ আসনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন চাইবেন বর্তমান এমপি জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক শেখ টিপু সুলতান ও যুব মৈত্রী’র কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মো. আতিকুর রহমান। তবে এ আসনে নিজেদের প্রার্থী দিতে মরিয়া জাতীয় পার্টি (এ)। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি গোলাম কিবরিয়া টিপু, জাতীয় যুব সংহতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা মুন্সী ও মুলাদী উপজেলার জাতীয় পার্টির (এ) সভাপতি আব্দুল্লাহ হারুন। তবে এ আসনে বড় দুই দলের মধ্যে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বিএনপি প্রার্থীরই জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি।

বরিশাল-৪ (হিজলা-মেহেন্দীগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন বর্তমান এমপি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথ, দু’বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য বরিশাল জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মইদুল ইসলাম, মেজর (অব.) নাছির উদ্দিন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহম্মেদ, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুনসুর আহমেদ, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আফজালুল করিম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মজিবর রহমান হাওলাদার, মেজর (অব.) মহসিন সিকদার প্রমুখ।

এই আসনে বিএনপির মনোনয়নের দৌড়ে রয়েছেন বরিশাল জেলা (উত্তর) বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ, সাবেক অর্থ প্রতিমন্ত্রী শাহ মুহাম্মদ আবুল হোসাইন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান, উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি নূরুর রহমান জাহাঙ্গীর ও মোশারফ হোসেন মংগু। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের সৈয়দ এছহাক মোহাম্মদ আবুল খায়ের মনোনয়ন প্রার্থী।

জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে মনোনয়ন পেতে লবিং করেছেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এছহাক ভূইয়া ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহকারী সম্পাদক হারুন আর রশিদ। এই আসনেও আওয়ামী লীগের জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।

বরিশাল-৫ আসন (মহানগর-সদর) বিশেষ মর্যাদার বলে সমাদৃত। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি সমান গুরুত্ব দিচ্ছে আসনটি নিজেদের ঘরে নিতে। ক্ষমতাসীন দল থেকে আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আলোচিতরা হলেন, বরিশাল সদর আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য এবং প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের সহধর্মিণী জেবুন্নেছা আফরোজ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক শামীম, বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীর বিক্রম, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান রিন্টু প্রমুখ।

এ আসনটি বিএনপির দুর্গ হিসেবে পরিচিত নব্বইয়ের দশক থেকেই। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ও বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার সদর আসনে বরাবরের মতো বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থী। এ আসনে এখন পর্যন্ত তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিলকিস জাহান শিরিন ও আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহ। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম আগামী নির্বাচনেও প্রার্থী হবার কথা জানিয়েছেন। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির নেতা অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সেলিম সদর আসনে প্রার্থী হবেন বলে জানা গেছে। জাতীয় পার্টি (এ) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী মহানগর সভাপতি টানা ৪ বার নির্বাচিত কাউন্সিলর একেএম মরতুজা আবেদীন এবং জেলার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রের সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ মহসিন উল ইসলাম হাবুল। এ আসনে যারাই প্রার্থী হোক না কেন বিএনপির জয়লাভের সম্ভাবনাই বেশি বলে জানা গেছে।

বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মেজর জেনারেল (অব.) আবদুল হাফিজ মল্লিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি
ও উপজেলা চেয়ারম্যান শামসুল আলম চুন্নু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, সাবেক এমপি জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুর রশীদ খান, প্রয়াত এমপি মাসুদ রেজার সহধর্মিণী জেলা পরিষদ সদস্য আইরিন রেজা ও বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু।

এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন সাবেক এমপি উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবুল হোসেন খান,

 তরুন প্রজন্মের তরুন নেতা অবহেলীত মানুষের আশার আলো সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, যাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর খাজা সলিম উল্লাহ খান টিপু,

শিকদার খলিলুর রহমান, আব্দুস শুক্কুর বাচ্চু ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সম্পাদক লন্ডনে অবস্থানরত নজরুল ইসলাম খান রাজন।

এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হতে পারেন মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন ডাকুয়া।

জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন হলে এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রেসিডিয়াম সদস্য বর্তমান এমপি নাসরিন জাহান রত্না আমিন। জাতীয় পার্টি একক নির্বাচন করলেও এ আসনে প্রার্থী হবেন তিনি। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটভুক্ত নির্বাচন হলে এ আসনে জোটের মনোনয়ন চাইবেন কেন্দ্রীয় জাসদ নেতা মো. মহসীন। এ আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাপার মধ্যে লড়াই হলেও শেষ পর্যন্ত সরকারি দলের প্রার্থীই জয়লাভ করতে পারেন।

নানা সমীকরণ: আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, যে আসনগুলোতে প্রার্থী বেশি কিংবা দলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে সে আসনগুলো নিয়ে নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনা চলছে। তৃণমূল থেকে নানা প্রস্তাবও করা হচ্ছে বলে দায়িত্বশীল একাধিক নেতা জানিয়েছেন। এরমধ্যে বরিশাল-২ আসনটি অন্যতম। এ আসনের সংসদ সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মো. ইউনুস অন্য উপজেলার বাসিন্দা হওয়ায় ঐ আসনে তার পরিচিতি কিছুটা কম এবং এলাকায় যাতায়াতও কম বলে কারো কারো অভিমত। তবে তালুকদার মো. ইউনুসের সরব উপস্থিতি রয়েছে বরিশাল নগরীতে। তিনি দীর্ঘদিন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করায় নগরীর দলীয় কার্যালয়েই প্রতিদিন সময় দেন। নগরীতেই তিনি বেশি পরিচিত। দলীয় সূত্র জানায়, সদর আসনে বিএনপি’র মজিবর রহমান সরোয়ার শক্তিশালী প্রার্থী। তাকে মোকাবিলায় প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের স্ত্রী জেবুন্নেছা আফরোজ ততটা শক্তিশালী প্রার্থী নন।

বরিশাল-৪ ও ৬ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থিতা নিয়েও চলছে নানা সমীকরণ। বরিশাল-৬ আসনে জোটের বাইরে আওয়ামী লীগ প্রার্থী দিলে সেখানে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়া বরিশাল-৪ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের বৈরিতা রয়েছে। এ দু’ উপজেলা আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ জানিয়েছে, তারা অবস্থার প্রেক্ষিতে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকে নির্বাচন করার অনুরোধ জানাবেন।

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া): ধর্ম মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুল হক হারুন (বিএইচ হারুন), বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন, কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক মুনিরুজ্জামান মনির, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির চেয়ারম্যান ও দৈনিক বাংলাদেশ সময় সম্পাদক এবং রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ড. এম এ হান্নান ফিরোজ।
ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) : একক প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ও দলের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু।
পিরোজপুর-১ (সদর, নাজিরপুর ও নেছারাবাদ): বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এ কে এম এ আউয়াল, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ শাহ আলম, পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আলহাজ মো. হাবিবুর রহমান মালেক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাড. শ ম রেজাউল করিম ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহবায়ক শফিউল হক মিঠু।
পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও ইন্দুরকানী) : জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এম এ হাকিম হাওলাদার, জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ইছাহাক আলী খান পান্না ও আওয়ামী সমবায় লীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুর রহমান ছগির।
পিরোজপুর-৩ (মঠবাড়িয়া): বর্তমান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ডা. রুস্তুম আলী ফরাজী, সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সিনি. সহ-সভাপতি ডা. আনোয়ার হোসেন, আরেক সহ-সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম, মঠবাড়িয়া পৌর মেয়র ও মঠবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি রফিউদ্দিন আহম্মেদ ফেরদৌস, মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশরাফুর রহমান।
পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকি) : জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়া, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা-বিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. আফজাল হোসেন, সদর উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাড. সুলতান আহমেদ মৃধা, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পটুয়াখালী পৌরসভার মেয়র ডা. শফিকুল ইসলাম।
পটুয়াখালী-২ (বাউফল): বর্তমান সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাউফল পৌর মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল, কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শিল্পপতি এস এম ফিরোজ।
পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা): বর্তমান সংসদ সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গির হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক মহব্বত প্রিন্স, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা নান্টু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাড. মো. ফোরকান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান।
পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) : সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান তালুকতার, কলাপাড়া উপজেলার বর্তমান উপজেলা চেয়রম্যান মোতালেব তালুকদার, কলাপাড়ার পৌর মেয়র বিপুল হালদার, সাবেক সেনা কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) হাবিবুর রহমান মিলন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি মুরসালিন আহমেদ ও সাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন আহমেদ ব্যাপারী।
বরগুনা-১ (সদর, আমতলী ও তালতলী): জেলা আওামী লীগের সভাপতি অ্যাড. ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ এমপি, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং বরগুনা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি গোলাম সরোয়ার টুকু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম সরোয়ার ফোরকান।
বরগুনা-২ (বামনা, পাথরঘাটা ও বেতাগী) : জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আসেন শওকত হাসানুর রহমান রিমন এমপি, পৌর মেয়র ও সদর আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন, প্রয়াত সাবেক সাংসদ গোলাম সরয়ার টুলুর মেয়ে ও পাথরথাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রুমকি সরয়ার ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের অর্থ সম্পাদক সুবাস চন্দ্র।
ভোলা-১ (সদর): দলের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ এমপি, আরেক উপদেষ্টা অ্যাড. ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মাহবুবুর রহমান হিরণ।
ভোলা-২ (দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন): বোরহান উদ্দিন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আজম মুকুল এমপি ও নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছেলে সদ্য বিজেপি থেকে পদত্যাগ করা আশিকুর রহমান শান্ত।
ভোলা-৩ (তজুমদ্দিন ও লালমোহন): যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুন্নবি চৌধুরী শাওন ও সাবেক সাংসদ মেজর (অব.) জসিম উদ্দিন।
ভোলা-৪ (মনপুরা ও চরফ্যাশন) : পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী ও চরফ্যাশন উপজেলা আওয়ামী লীগের আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপি।