এরশাদের দলে নয়, বরং এরশাদই যোগ দিচ্ছেন বিএনপি জোটে!

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৫২:পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০১৮
এরশাদের দলে নয়, বরং এরশাদই যোগ দিচ্ছেন বিএনপি জোটে!

ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, বিএনপির কিছু সিনিয়র নেতা তার দলে যোগ দিতে পারেন। এরশাদের এমন কথার জবাবে বিএনপির বেশ কয়েক নেতা উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, এরশাদের দলে নয়, বরং এরশাদই বিএনপি জোটে যোগ দিতে পারেন। সাধারণ মানুষের মনেও নানা কৌতূহল জন্ম দিয়েছে।

এরশাদ অনেক কৌশলী রাজনীতিক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নানা কৌশলী পথে হাঁটবেন তিনি। অপরদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে। এই সময় সাবেক এই স্বৈরশাসক যাই বলুক, মানুষ তার কথা বিশ্বাস করবে না। যেখানে সুবিধা পাবেন সেখানেই অবস্থান নিতে দ্বিধা করবেন না এরশাদ।

সূত্র জানায়, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গত কয়েক বছর ধরেই তিনশ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা বলে আসছেন। এ জন্য মাঝে নামসর্বস্ব ৬৮টি দল নিয়ে ‘বিশাল’ একটি জোট করে সাড়া ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ওই নামসর্বস্ব দলের জোট নিয়ে হালে পানি পাননি বা রাজনীতিতে কোনোরূপ প্রভাব ফেলতে পারেননি। তাই ওই জোট নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। এখন তার নতুন কৌশল দরকার হয়ে পড়েছে।

এদিকে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি পড়েছে দোটানায়। দলের একটি অংশ খালেদাকে ছাড়া নির্বাচনে যেতে রাজি নয়। তবে এজন্য তারা নির্ভর করতে চান খালেদা ও তারেকের সিদ্ধান্তের ওপর। অপরদিকে, বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নেয়, সেক্ষেত্রে দলটির মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কাছে টানতে চান এরশাদ। এজন্যই এ ধরনের কথা বলে একটা চমক সৃষ্টি করতে চান তিনি। সেই কারণে গত মঙ্গলবার রংপুরে তিনি বলেন, বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতা জাতীয় পার্টিতে যোগ দেবে। কারা যোগ দেবেন? জবাবে এরশাদ খানিক মুচকি হেসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সেটা বলার সময় এখনো আসেনি।’

বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, কোনো কারণে বিএনপি নির্বাচনে না গেলে এমপি হওয়ার লোভে হয়তো এরশাদের সঙ্গেও হাত মেলাতে পারে দলের ক্ষুদ্র একটি অংশ।  বিএনপি নেতারা বলছেন, আগামী নির্বাচনে সরকারের অবস্থা নাজুক হয়ে উঠতে পারে। তাই এরশাদই বিএনপির নির্বাচনী জোটে যোগ দিতে পারে। এজন্য এরশাদ দলের একটি পক্ষকে দায়িত্ব দিয়ে রেখেছেন।

নামমাত্র বিরোধী দলের স্বীকৃতি নিয়ে এরশাদ অনেক সমালোচিত হলেও কোনো কিছুকেই তোয়াক্কা করছেন না। খালেদার সমালোচনা করে বক্তব্য দিচ্ছেন সরকারের অনুকম্পার আশায়। আবার মাঝে মাঝে সরকারের সমালোচনাও করছেন। সংসদে অংশ নেওয়া জাতীয় পার্টির তিন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা সরকারের স্তুতি গেয়ে নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখছেন।

এরশাদ বলছেন আওয়ামী লীগ বিএনপিকে মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই আগামীতে তিনশ আসনে প্রার্থী দেবে জাপা। মানুষ জাতীয় পার্টিকে আবার ক্ষমতায় দেখতে চায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এরশাদ একমুখে দুই কথা বলেন। এর উদ্দেশ্য সব কুল ঠিক রাখা। এরশাদ মনে করছেন, কোনো কারণে যদি পুনরায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসতে পারে, সেক্ষেত্রে তার সঙ্গে নিজের ভাগ্য বেঁধে রাখতে চান না। তাই আগে থেকেই এসব কথা বলে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখতে চাইছেন।

এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাদের সিদ্ধান্ত হচ্ছে জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে তিনশ আসনে প্রার্থী দেবে। দেশের সব নির্বাচনী এলাকায় আমাদের সমর্থক আছে, সংগঠন আছে, এবং প্রার্থী দেওয়ার ক্ষমতাও আছে। এ অবস্থায় আমরা আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রস্তুত হচ্ছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইতোমধ্যে আমাদের পার্টি চেয়ারম্যান সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছেন।’ তবে তিনি বলেন, ‘রাজনীতির পরিস্থিতি বুঝে কোথায় কার কী অবস্থান হয়, কোন পজিশনে কোন দল যায়। কে কোন অবস্থানে আসে। অনেক হিসাব এখনো বাকি। তাই কোন জোটে যাব বা থাকব তা বলার সময় এখন নয়।’

জিএম কাদের আরও বলেন, ‘নানা কারণে মহাজোট ছেড়ে চলে আসা যাচ্ছে না। প্রেসিডিয়াম সদস্যদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে। আমরা ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছি, বিরোধী দল হিসেবে আমাদের কেউ মন্ত্রী থাকতে পারে না। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এ বিষয়ে পার্টির চেয়ারম্যান সময়মতো সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এরশাদ বিএনপি জোটে যোগ দিতে পারেন কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘এরশাদের তো কথার ঠিক নেই। তিনি যদি সরকারের সঙ্গ ত্যাগ করে সেটা গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ হতো। কিন্তু তিনি তো একেক সময় একেক কথা বলেন। তার কথার তো বিশ্বাস নেই। আসলে জাতীয় পার্টির একটি অংশকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। তাই এরশাদ ইচ্ছে করলেও অনেক কিছুই করতে পারেন না। সূত্র : প্রতিদিনের সংবাদ