ঢাকা, ||

৩ লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ


জাতীয়

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

 

২০ বছরেও শেষ হয়নি জনগুরুত্বপূর্ণ কুশিয়ারা নদীর ফিডার রোডের কাজ। এ সড়কটি উন্নয়নের দায়িত্বে ছিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মধ্যখানে দায়িত্ব পায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ। কিছুদিন পর সওজ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে পুনরায় দায়িত্ব ফিরিয়ে দেয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সড়ক-জনপথ বিভাগের মধ্যে কাজের হাত বদল, জায়গা নিয়ে মামলা আর প্রয়োজন অনুপাতে বরাদ্দ না পাওয়ায় এ প্রকল্পের কাজ শেষ হচ্ছে না বলে জানা গেছে। সিলেটের বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কুশিয়ারা নদী পারের মানুষের যোগাযোগ উন্নয়নের লক্ষে ১৯৯৭ সালে তৎকালীন সরকার এ সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করে। এলাকার তখনকার এবং বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদের চেষ্টায় সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তৎকালীন সময়ে কুশিয়ারা নদীর তীরঘেঁষা এ রোডের নামকরণ করা হয় বসন্তপুর-কঁঠলিপাড়া সড়ক নামে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সড়ক নির্মাণে ভূমি অধিগ্রহণসহ মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে ১৯৯৭ সালে। কিন্তু গোলাপগঞ্জ উপজেলার লামা চন্দরপুর এলাকায় সড়কের জায়গা নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে সড়কের উন্নয়ন কাজ থমকে যায়। সেই সঙ্গে আটকে যায় ফিডার রোডের কাজ একসঙ্গে সম্পন্ন করার বিষয়টিও। সে জটিলতায় প্রায় ২০ বছর থেকে যোগাযোগ উন্নয়ন বঞ্চিত রয়েছে কুশিয়ারা নদীর পাড়ের তিন লক্ষাধিক মানুষ।
বর্তমানে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গত ৭ই জুলাই এলজিইডি ও সওজ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ডেকে এ সড়কের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।
শিক্ষামন্ত্রীর স্থানীয় একান্ত সহকারী দেওয়ান মাকসুদুল ইসলাম আউয়াল জানান-‘১৯৯৭ সালে বসন্তপুর-কঁঠলিপাড়া সড়ক নির্মাণের জন্য একনেকে ১৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তন হলে এ প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পুনরায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’ বিয়ানীবাজার উপজেলা প্রকৌশলী রামেন্দ্র হোম চৌধুরী জানান,-‘এ প্রকল্পে ৪শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়ার জন্য একনেকে সিদ্ধান্ত হয়। এ প্রেক্ষিতে ধীরে হলেও প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।’
সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে সড়কের কাজ চলে এসেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। পরিবর্তন করা হয়েছে নকশাও। এরমধ্যে বিস্তৃত করা হয়েছে সড়কের দৈর্ঘ্য। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে ফিডার রোডের স্থলে উপজেলা সড়ক, বসন্তপুর-কঁঠলিপাড়া নামের স্থলে বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ সংযোগ সড়ক নামকরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সিলেট কার্যালয় থেকে জানা যায়, নদী পারের মানুষের যোগাযোগ উন্নয়নের জন্য ৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কটি বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ-ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলাকে সংযুক্ত করেছে। বিয়ানীবাজার অংশে এর দৈর্ঘ্য ১১ কিলোমিটার, যার মধ্যে পাকা হয়েছে ৬ কিলোমিটার এবং কাঁচা রয়েছে ৫ কিলোমিটার, গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সড়কের ২৪.১৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মধ্যে কাঁচা ২১.০৩ কিলোমিটার, পাকা হয়েছে ৩.১৫ কিলোমিটার সড়ক এবং ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার সাড়ে ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের মধ্যে ২ কিলোমিটার সড়কের পাকাকরণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৮.৫ কিলোমিটার সড়ক কাঁচা রয়েছে। এ সড়কের পুরো নির্মাণ কাজ শেষ হলে তিন উপজেলার প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন।
চলতি বছর থেকে সড়কের অবশিষ্ট অংশ পাকাকরণের জন্য আরো ২৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সড়কের কাঁচা অংশ পাকাকরণের কাজ বিভিন্ন মেয়াদে সম্পন্ন করার লক্ষ নিয়ে কাজ করছে। এতে এক সাথে সড়ক পাকাকরণ এবং উন্নয়ন হচ্ছে না। সড়কের এক সাথে পাকাকরণ এবং উন্নয়ন না হলেও কত দিনের মধ্যে পুরো রাস্তা পাকাকরণ সম্ভব হবে তা বলতে পারেননি এলজিইডির স্থানীয় প্রকৌশলী রামেন্দ্র হোম চৌধুরী। তবে বরাদ্দ পেলে সে অনুপাতে কাজ করার কথা তিনি জানান।

Top