ঢাকা, ||

স্বামীর পরকীয়ার বলি হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হার মানলেন রেখা


দেশজুড়ে

প্রকাশিত: ৬:১১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

পরকীয়ায় বাধা দেয়ায় বান্ধবী ফেরদৌসির দেয়া আগুনে দগ্ধ রেখা বেগম টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানলেন।  রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক)বার্ন ইউনিটে সোমবার বিকেলে তিনি মারা যান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রেখার শারীরিক অবস্থা রবিবার দুপুরের দিকে অবনতি হয়।  ওই বিকেলে শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছিল।  সোমবার দুপুরের দিকে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় তাকে বার্ন ইউনিট থেকে

ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়া হয়।  কিন্তু আইসিইউতে নেয়ার আগেই স্বামীর পরকীয়ার বলি হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রেখা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর দরগাপাড়া এলাকায় রেখার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যান এক নারী।  এরপর রেখাকে হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা।  সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখা এই ঘটনার জন্য বাল্যকালের বান্ধবী ফেরদৌসি খাতুনকে দায়ী করে তার নাম বলেন।

রেখার অভিযোগেরভিত্তিতে ওই রাতেই অভিযান চালিয়ে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ ফেরদৌসি খাতুনকে আটক করে।  তিনি নগরীর কশাইপাড়া এলাকার আলম হোসেনের মেয়ে।  ফেরদৌসি তার বাল্যকালের বান্ধবী।  এরই সুবাদে তার স্বামী কামরুল হুদার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন ফেরদৌসি।  মৃত্যুর আগে দুই সন্তানের মা রেখা বেগম পুলিশকে এমন কথায় বলেছেন।

এদিকে আগুন দেয়ার ঘটনায় রেখা বেগমের বড় ভাই নওশাদ আলী ওই রাতেই স্বামী কামরুল হুদা ও বান্ধবী ফেরদৌসীকে আসামি করে মামলা করেন।

পরদিন রেখাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।  ওই দিন আদালতে তার পাঁচ দিনের রিমান্ডেরও আবেদন করা হয়।  পরে গত শনিবার রেখার স্বামী কামরুল হুদা গ্রেপ্তার হন।  তিনি এখন কারাগারে।  কামরুলের রিমান্ডের আবেদন করেনি পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরীর বোয়ালিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম বাদশা জানান, সোমবার আদালত ফেরদৌসীর একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।  তাকে থানায় এনে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এদিকে রেখার শরীরে আগুন দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টার মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে বলেও জানান তিনি।

Top