ঢাকা, ||

সাবেক উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কারাগারে


আইন আদালত

প্রকাশিত: ৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের
সাবেক উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার কারাগারে

 

দুর্নীতির মামলায় রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল জলিল মিয়া ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার শাজাহান আলী মণ্ডলের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক হুমায়ুন কবীর এ আদেশ দেন। একই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ারা জারি করা হয়েছে। রংপুর দুদকের উপ পরিচালক মোজাহার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত ও দুদক সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অবৈধভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৪৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারি নিয়োগ দেন উপাচার্য ড. আব্দুল জলিল মিয়া। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন তহবিল থেকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মাসিক বেতন দিয়ে সরকারের ৯৮ লাখ টাকা ক্ষতি করেছেন।

এ অভিযোগে ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর রংপুর কোতয়ালি থানায় দুদকের পক্ষ থেকে উপাচার্য ড. আবদুল জলিল মিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করেন দুদকের তৎকালিন উপ-পরিচালক আবদুল করিম।

মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার শাহাজাহান আলী মণ্ডল, অতিরিক্ত পরিচালক এটিজিএম গোলাম ফিরোজ, উপ-রেজিস্ট্ররি মোর্শেদ উল আলম এবং উপ-পরিচালক খন্দাকার আশরাফুল আলম।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৯ মার্চ মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা দুদক রংপুরের উপ-পরিচালক মোজাহার আলী সরকার উপাচার্য জলিল মিয়াসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে বলা হয়েছে, সাবেক উপচার্য ড. আবদুল জলিল মিয়া ক্ষমতার অপব্যবহার ও ইউজিসি’র নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বিধি বহির্ভূতভাবে নিজ মেয়ে, ভাই ও ভাতিজাসহ আত্মীয় স্বজন এবং অনেককে চাকরি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

আজ মামলার চার্জশিট আমলে নিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য বিশেষ জজ আদালতে পাঠানোসহ আসামীদের জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। সকালে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল জলিল মিয়া ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার শাহাজাহান আলী মণ্ডল আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন।

কিন্তু আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া আদালত অতিরিক্ত পরিচালক এটিজিএম গোলাম ফিরোজ, উপ-রেজিস্ট্ররি মোর্শেদ উল আলম এবং উপ-পরিচালক খন্দাকার আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ারা জারি করেন। এদের মধ্যে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল জলিল মিয়া বর্তমানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগে কর্মরত এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

এ ব্যাপারে আসামী পক্ষের আইনজীবী দিলশাদ ইসলাম মুকুল বলেন, উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল জলিল মিয়া ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার শাহজাহার আলী মন্ডল। আজ বৃহস্পতিবার ছিল জামিনের শেষ দিন। আজ তারা স্বশরীরে আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জামিন না মঞ্জুরের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান ওই আইনজীবী।

দুদকের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আব্রাহাম লিংকন, শামীমা বেগম শিরিনসহ কয়েকজন আইনজীবী। আসামী পক্ষে ছিলেন, আবদুল হক প্রামানিক, কাইয়ুম মন্ডল, দিলশাদ ইসলাম মুকুল।

Top