ঢাকা, ||

সনদ জালিয়াতি মামলায় নলছিটির এক প্রধান শিক্ষক কারাগারে


দেশজুড়ে

প্রকাশিত: ১০:০৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

মোঃশাহাদাত হোসেন মনু.
শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় ঝালকাঠির নলছিটি ডেবরা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। রোববার ঝালকাঠির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবু মো. শামীম আজাদ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সঞ্জীব বিশ্বাস। এ মামলায় আসামি রুহুল আমিনের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে তিনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। ৫ জুলাই মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া সনদের মাধ্যমে চাকুরি নেয়ায় গত ১০ বছর ধরে রুহুল আমিনের এমপিও স্থগিত রয়েছে। জাল সনদে শিক্ষকতা, প্রতারণা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ২০১১ সালের ২৬ জুন প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের বিরুদ্ধে নলছিটি থানায় মামলা (জিআর মামলা নং ১০০/২০১১০ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম হারুন অর রশিদ । এতে বাদী তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম হারুন অর রশিদ সহ উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসার মো. ইউনুচ আলী আকন, উপজেলা মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আবুল বাশার তালুকদার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (সনদ) সরদার মো. এরশাদ, যশোর শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. আজমল গনিসহ সাতজনকে মামলায় সাক্ষী করা হয়।
মামলাটি তদন্ত করে ২০১১ সালের ১০ অক্টোবর দন্ড বিধির ৩৫৩, ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারার অধীনে ঝালকাঠির আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘স্কুলের চাকরিতে যোগদানের সময় নুহুল আমিনের দাখিল করা এসএসসি, এইচএসসি সনদকে যশোর শিক্ষা বোর্ড এবং বিএ ও বিএড পরীক্ষার সনদকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভুয়া বলে প্রত্যয়ন করেছে। তার বিরুদ্ধে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ জালিয়াতি, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়’। ২০১৩ সালের ৮ এপ্রিল এ মামলায় অভিযোগ গঠন করা হয়। এর আগে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিসারের তদন্তে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনের শিক্ষাগত যোগ্যতার সকল সনদই ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৭ সালের জুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই শিক্ষকের এমপিও স্থগিত করেন। পরে ওই স্কুলের শিক্ষকদের মাসিক হাজিরা খাতায় রুহুল আমিনের এমপিও স্থগিতের বিষয়টি উল্লেখ করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার। এরপর এমপিও স্থগিতের বিষয়টি মাসিক হাজিরা খাতায় উল্লেখ না করতে হুমকি ও চাপ সৃষ্টির অভিযোগে তার আমিনের বিরুদ্ধে থানায় এ মামলা করা হয়।

Top