ঢাকা, ||

শিশুকে যে শিক্ষাটি দেবেন


বিনোদন

প্রকাশিত: ৮:২০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩০, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

বাচ্চাদের নিয়ে বাবা-মায়েদের কতোই না যন্ত্রণা। ছোটকালে স্কুলে যাওয়া-আসা শুরু হলে বা বাড়ির আশপাশের বাচ্চাদের সঙ্গে মেলামেশা শুরু হলেই এমন ঝামেলারও শুরু হয়ে যায়। ওমুক আমাকে মোটা বলেছে, কেউ বা বলেছে কালো, অন্য কেউ হয়তো অন্য কিছু বলেছে। আবার বাচ্চা মেয়েটিকে হয়তো প্রতিদিন স্কুলের একটা ছেলে অপমান করে। সে বলে যে, তার নাকি শক্তি কম। এমনই কত অভিযোগ জমা পড়ে মায়ের কাছে। মূলত কোনো শারীরিক সমস্যা বা সৌন্দর্য বিষয়ে এমন নেতিকবাচক মন্তব্যের শিকার হতে হয় এই শিশুকাল থেকেই। ধীরে ধীরে অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। কিংবা আপনার শিশুটিই হয়তো এমন অসুস্থ চর্চা অন্যের ওপর করে যাচ্ছে। যারা শিকার হচ্ছে তারা ক্রমশই চাপাশের পরিবেশটাকে অনিরাপদ বলে মনে করতে শুরু করে।

এ বিষয়টি নিয়ে অসম্ভব সুন্দর ও অর্থপূর্ণ মন্তব্য করেছেন সঙ্গীত শিল্পী পিঙ্ক।

এই নারীর আসল নাম অ্যালিসিয়া বেথ মুর। তিনি একাধারে গায়িকা, গীতিকার, নৃত্যশিল্পী এবং অভিনেত্রী। ছোটকাল থেকে তিনিও এমন হয়রানির শিকার হয়েছেন। শিশুকাল থেকেই এই জেনে বড় হয়েছেন যে, তিনি দেখতে ছেলেদের মতো। তিনিই সবচেয়ে কুৎসিত মেয়ে।

কিন্তু নিজের মেয়ে উইলোকে যে শিক্ষা দিয়েছেন, তা প্রত্যেক মায়ের ছড়িয়ে দেওয়া উচিত তার সন্তানের মাঝে। পিঙ্ক তার মেয়েকে বলেন, তুমি কত সুন্দর। মানুষ আমাকে নিয়ে মজা করে। আমি ছেলেদের মতো দেখতে। আমি পুরুষালী। আমি মেয়েদের মতো চুল রাখি না। তুমি কি আমাকে চুল বড় করতে দেখেছো? আমাকে কখনও দেখেছো যে নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করছি। আসলে আমরা কেউ বদলাই না। আমারা ঝিনুকের নুড়ি থেকে মুক্তা বের করে আনি। আমরা অন্যদের বদলে যেতে শেখাই। যেন তারা সব ধরনের সৌন্দর্য দেখতে পারে।

যে বাবা-মায়েরা তার শিশুর মাঝে ক্রমেই বেড়ে ওঠা হীনমন্যতাকে দূর করতে চান, তাদের এখনই সময়। তাদের শেখাতে হবে, নিখুঁত হওয়া কোনো মানুষের লক্ষ্য হতে পারে না। আপনার শিশুটি যেমন, ঠিক তেমনটি নিয়েই সে যেন তুষ্ট থাকে। এটাই তাকে শেখাতে হবে। আয়নায় তাকিয়ে যেন তারা ভেতরটা দেখতে পায়, বাহ্যিক সৌন্দর্য নয়। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

Top