ঢাকা, ||

লাল ব্যাগ চাওয়া ছিল রাম রহিমের একটি সঙ্কেত


আন্তর্জাতিক

প্রকাশিত: ৫:৩২ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৭

আব্দুল্লাহ আল নোমান

বরগুনা প্রতিনিধি

এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের হরিয়ানা পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) কে কে রাও জানিয়েছেন, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরপরই ধর্মগুরু রাম রহিম সিরসা থেকে লাল একটি ব্যাগ চেয়েছিলেন।

ডেরাপ্রধান রাম রহিম বলেছিলেন, ওই ব্যাগেই তার জামাকাপড় রয়েছে। আসলে এটা ছিল একটা ইঙ্গিত। এর মাধ্যমে রাম রহিম ভক্তদের জানাতে চেয়েছিলেন, তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল ভক্তরা যাতে বিক্ষোভ করতে পারে। আর এ সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিলেন ওই ভণ্ডগুরু আর তার এক পালিত কন্যা।

নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরা রাম রহিমকে সরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে—এমন খবর আগেই পেয়েছিল পুলিশ। আর তাই দোষী সাব্যস্ত করার পর বিতর্কিত ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে পঞ্চকুলার বিশেষ আদালত থেকে রোহাতক কারাগারে নেওয়া হয়।

আইজিপি রাও বলেন, রাম রহিমের ব্যাগটি গাড়ি থেকে নামানোর পরই কাঁদানে গ্যাসের শেলের শব্দ শোনা যায়। এর অর্থ হলো, ওই সংকেত রাম রহিমের ভক্তরা বুঝতে পেরেছিলেন।

পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন তারা দেখেন, রাম রহিম সিং এবং তার পালক কন্যা পঞ্চকুলা আদালত চত্বরে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। আইজিপি রাও জানান, নিষেধ করার পরও তাঁরা আসলে আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে থেকে সময় নিচ্ছিলেন, যাতে বিক্ষোভের জন্য ভক্তরা সংগঠিত হতে পারে।

ভক্তদের ভিড় কাছাকাছি আসার খবর পেয়ে পুলিশ রাম রহিমকে আরেক পুলিশ কর্মকর্তা ডিএসপি সমিত কুমারের গাড়িতে বসানোর সিদ্ধান্ত নেয়। গাড়িতে বসানোর সময় ডেরাপ্রধানের ভক্তরা তাকে ঘিরে রাখে।

আইজিপি অভিযোগ করেন, পুলিশের ডিসিপি কুমার এবং তার লোকজনদের সঙ্গে রাম রহিমের সমর্থকদের হাতাহাতি হয়। পুলিশ চেষ্টা করেছে গুলি না ছুড়তে।
রাও হামলার আশঙ্কায় রাম রহিমকে পথ বদলে ক্যান্টনমেন্টের ভেতর দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে ভক্তরা আধা ঘণ্টা ধরে বুঝতেই পারেননি কোন পথে রাম রহিমকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

আইজিপি বলেন, ‘লাল ব্যাগ চাওয়ামাত্রই আমরা রাম রহিমের পালানোর পরিকল্পনা জানতে পারি। এটাও বুঝতে পারি, ভক্তরা অতিরিক্ত সময় নেওয়ার চেষ্টা করছে। আরও নিশ্চিত হই, যখন ৭০টি গাড়ি নিয়ে ভক্তরা অপেক্ষায় ছিল।’

Top