ঢাকা, ||

রোজাদার জান্নাতে প্রবেশ করবে ‘রাইয়ান’ দিয়ে


ধর্ম ও জীবন

প্রকাশিত: ৯:০৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ২, ২০১৭

দীন মোহাম্মাদ দীনু

বাকেরগঞ্জ প্রতিনিধি

রোজা রাব্বুল আল-আমীনের এক অপূর্ব নিয়ামত। রমজান ধৈর্য্যের মাস। আর ধৈর্য্যের সওয়াব হলো বেহেশত। পবিত্র রমজানের ফজিলত ও মর্যাদা আসলে অপরিসীম। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন, রাসুল (সা.) এরশাদ করেছেন- যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। -(বোখারী ও মুসলিম)

অপর এক হাদিসে এসেছে, হযরত সাহ্ল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) এরশাদ করেছেন-  বেহেশতের আটটি দরজা রয়েছে। এর মধ্যে একটি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ব্যতিত আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। -(বোখারী ও মুসলিম)

রোজাদারের খুশির বিষয় দুটি- যখন সে ইফতার করে, আর একবার যখন সে তার রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রোজার বিনিময় লাভ করবে। -(বোখারী)

পবিত্র রমজান মাস মহান আল্লাহর সঙ্গে প্রিয় বান্দার প্রেম বিনিময়ের সবচেয়ে উত্তম সময়। এই মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। তাই এ মাসের ফজিলত ও মর্যাদা অনেক।

এই মাসে যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশে একটি নফল আমল করল সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করলো। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করলো সে ওই ব্যক্তির সমান হলো, যে অন্য মাসে ৭০টি ফরজ আদায় করলো।

এটা এমন পবিত্র মাসের প্রথম দিক রহমত, মাঝের দিক মাগফিরাত, আর শেষ দিক হচ্ছে দোযখ থেকে মুক্তির। যে ব্যক্তি এই মাসে আপন অধীনস্থ দাস-দাসীদের কাজের বোঝা হালকা করে দেবে মহান আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন এবং তাকে দোযখ থেকে মুক্তি দান করবেন। (বায়হাকী)

হযরত আবু ওবায়দা (রা.) রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে আরেকটি হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হুজুর (সা.) এরশাদ করেছেন- রোজা মানুষের জন্য ঢালস্বরূপ যতক্ষণ পর্যন্ত তা ফেড়ে না ফেলা হয় (অর্থাৎ রোজা মানুষের জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তির কারণ হবে যতক্ষণ পর্যন্ত তা নিয়ম অনুযায়ী পালন করা হয়)। (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এ সম্পর্কে আরেকটি বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেছেন, হুজুর (সা.) এরশাদ করেছেন- অনেক রোজাদার ব্যক্তি এমন রয়েছে যাদের রোজার বিনিময়ে অনাহারে থাকা ব্যতিত আর কিছুই লাভ হয় না। আবার অনেক রাত জাগরণকারী এমন রয়েছে যাদের রাত জাগার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই লাভ হয় না। নেক আমল যদি এখলাস ও আন্তরিকতার সঙ্গে না হয়ে লোক দেখানোর উদ্দেশে হয় তাহলে এর বিনিময়ে কোনো সওয়াব পাওয়া যায় না। (ইবনে মাজাহ, নাসাঈ)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) আরো বলেছেন, নবী করীম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে শরীয়ত সম্মত কোনো কারণ ছাড়া রমজানের একটি রোজাও ভাঙে সে রমজানের বাইরে সারাজীবন রোজা রাখলেও এর বদলা হবে না। (তিরমিযী, আবু দাউদ)

হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হযরত রসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন- আল্লাহ তাআলা বলেন, সিয়াম ছাড়া আদম সন্তানের প্রতিটি কাজ বা আমলই তার নিজের জন্য। কিন্তু সিয়াম আমার জন্য। তাই আমি নিজেই এর পুরস্কার দেবো। সিয়াম হচ্ছে ঢাল (জুন্নাতুন)। তোমাদের কেউ সিয়াম দিবসে কোনো প্রকারেরই অশ্লীলতায় যেন লিপ্ত না হয় এবং ঝগড়া বিবাদ না করে। কেউ যদি তাকে গালি দেয় অথবা তার সঙ্গে ঝগড়া করে তাহলে সে যেন দুবার বলে- আমি সায়িম (রোজাদার)। (বুখারী শরীফ)।

বস্তুত রমজান মাসের ফজিলত বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। এই মাসের পবিত্রতা যাতে ক্ষুণ্ন না হয়, সে ব্যাপারে সবারই সচেষ্ট হওয়া উচিত। মনে রাখতে হবে, রমজান মাস আল্লাহ জাল্লা শানুহুর খাস মাস। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে পবিত্র রমজানের ফজিলত জেনে বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দান করুন। -আমিন।

 

Top